কোরআনের ভাষার একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষের "হৃদয়" বোঝাতে কখনো قلب (একবচন), আবার কখনো قلوب (বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কেবল ব্যাকরণের বিষয় নয়; বরং প্রসঙ্গের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আল্লাহ বলেন:
«إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ
"নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার একটি হৃদয় আছে।"
(সূরা ক্বাফ ৫০:৩৭)»
এখানে قلب (একবচন) ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদাভাবে সম্বোধন করা হচ্ছে। অর্থ হলো, যার অন্তর সত্য গ্রহণে প্রস্তুত, সে-ই উপদেশ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ
"আল্লাহ তাদের হৃদয়গুলোর ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৭)»
এখানে قلوب (বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে একটি ব্যক্তির কথা নয়, বরং একটি গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে। তাই প্রত্যেকের পৃথক হৃদয় বোঝাতে বহুবচন এসেছে।
আরও একটি উদাহরণ:
«أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
"জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।"
(সূরা আর-রা'দ ১৩:২৮)»
এখানে القلوب বহুবচন এসেছে, কারণ এই বিধান সকল মুমিনের হৃদয়ের জন্য প্রযোজ্য।
অর্থাৎ, কোরআনে একবচন ও বহুবচনের ব্যবহার কখনোই এলোমেলো নয়। যখন ব্যক্তির অন্তরকে আলাদাভাবে সম্বোধন করা হয়েছে, তখন قلب এসেছে। আর যখন বহু মানুষের অন্তরের কথা বলা হয়েছে, তখন قلوب এসেছে। এই ব্যাকরণগত নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিক শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।