কোরআনের ভাষার একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, আরবি ভাষায় "বসা" অর্থে قَعَدَ এবং جَلَسَ উভয় ক্রিয়াই প্রচলিত থাকলেও, কোরআনে প্রায় সর্বত্র قَعَدَ-এর বিভিন্ন রূপ ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু جَلَسَ একবারও ব্যবহৃত হয়নি। এটি কেবল শব্দ নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং অর্থের সূক্ষ্মতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
আল্লাহ বলেন:
«وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ
(এ আয়াতে "বসা" নেই, তাই অন্য উদাহরণ দেখি।)»
আল্লাহ বলেন:
«لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"মুমিনদের মধ্যে যারা (যথাযথ ওজর ছাড়া) বসে থাকে, তারা এবং যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে, তারা সমান নয়।"
(সূরা আন-নিসা ৪:৯৫)»
এখানে القاعدون শব্দটি قَعَدَ ধাতু থেকে এসেছে।
আরবি ভাষাবিদরা উল্লেখ করেন, قَعَدَ অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, স্থির হয়ে থাকা বা অবস্থান গ্রহণ করার অর্থ প্রকাশ করে। অন্যদিকে جَلَسَ সাধারণত দাঁড়ানো অবস্থা থেকে বসে পড়াকে বোঝায়, অর্থাৎ এটি একটি শারীরিক ভঙ্গির পরিবর্তনকে বেশি প্রকাশ করে।
কোরআনের আলোচ্য বিষয়গুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ছিল অবস্থান গ্রহণ, কর্ম থেকে বিরত থাকা, অথবা কোনো অবস্থায় স্থির থাকা। তাই قَعَدَ-এর ব্যবহার প্রসঙ্গের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, আর جَلَسَ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি।
এটি কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কোরআন কেবল সমার্থক শব্দের বৈচিত্র্য দেখানোর জন্য শব্দ পরিবর্তন করেনি; বরং প্রতিটি শব্দ তার যথাযথ অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে নির্বাচন করেছে। এই অর্থগত নির্ভুলতাই (Semantic Precision) কোরআনের ভাষার অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।