কোরআনে স্ত্রীকে বোঝাতে সব জায়গায় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কখনো امرأة (ইমরাআহ), আবার কখনো زوج (যাওজ) ব্যবহৃত হয়েছে। এটি কেবল শব্দের বৈচিত্র্য নয়, বরং সম্পর্কের প্রকৃতি অনুযায়ী শব্দ নির্বাচন।
আল্লাহ আদম (আ.) সম্পর্কে বলেন:
«اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ
"তুমি এবং তোমার স্ত্রী (যাওজ) জান্নাতে বসবাস কর।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৩৫)»
এখানে زوج ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু ছিল।
আবার আল্লাহ বলেন:
«امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ
"নূহের স্ত্রী এবং লূতের স্ত্রী।"
(সূরা আত-তাহরীম ৬৬:১০)»
এখানে زوج নয়, امرأة ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ যদিও তারা বৈবাহিকভাবে স্ত্রী ছিলেন, কিন্তু ঈমান ও আদর্শে স্বামীদের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন না। তাই এখানে দাম্পত্যের ঐক্যের পরিবর্তে শুধু "একজন নারী" বা "স্ত্রীলোক" অর্থবোধক امرأة এসেছে।
আরেকটি উদাহরণ:
«وَامْرَأَتُهُ عَاقِرٌ
"আর তার স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা।"
(সূরা আয-যারিয়াত ৫১:২৯)»
এখানে ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রীর জন্য امرأة ব্যবহৃত হয়েছে। অনেক মুফাসসির ব্যাখ্যা করেছেন, সন্তান না থাকার বিশেষ প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরার জন্য এখানে امرأة এসেছে। পরে যখন সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় এবং পারিবারিক পূর্ণতা ফিরে আসে, তখন অন্য প্রসঙ্গে زوج ব্যবহৃত হয়েছে (দেখুন: সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯০)।
অর্থাৎ, কোরআনে زوج সাধারণত পূর্ণাঙ্গ দাম্পত্য, পারস্পরিক সামঞ্জস্য ও যুগলত্বের ধারণা প্রকাশ করে। আর امرأة ব্যবহৃত হয় যখন বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত অবস্থা, সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা বা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই অর্থের কাছাকাছি দুটি শব্দকে প্রসঙ্গ অনুযায়ী এভাবে নির্বাচন করা কোরআনের ভাষাগত সূক্ষ্মতার একটি অসাধারণ উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।