কোরআনে নারী বোঝাতে সব জায়গায় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কখনো امرأة (ইমরাআহ), আবার কখনো أنثى (উনসা) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়কেই বাংলায় "নারী" বলা হয়, কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত ক্ষেত্র ভিন্ন।
আল্লাহ বলেন:
«امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ
"ফিরআউনের স্ত্রী।"
(সূরা আত-তাহরীম ৬৬:১১)»
এখানে امرأة ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এটি একজন নির্দিষ্ট নারীর সামাজিক বা পারিবারিক পরিচয়, অর্থাৎ "স্ত্রী" পরিচয়কে প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ
"পুরুষ নারীর (উনসা) মতো নয়।"
(সূরা আলে ইমরান ৩:৩৬)»
এখানে أنثى এসেছে। কারণ আলোচনার বিষয় হলো জৈবিক লিঙ্গ (female), কোনো সামাজিক সম্পর্ক নয়।
আরও একটি উদাহরণ:
«يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ
"তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।"
(সূরা আশ-শূরা ৪২:৪৯)»
এখানে إناث (أنثى-এর বহুবচন) ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এখানে সন্তানদের জৈবিক লিঙ্গের কথা বলা হচ্ছে।
অর্থাৎ, কোরআনে أنثى সাধারণত নারী লিঙ্গকে নির্দেশ করে, আর امرأة একজন নির্দিষ্ট নারী বা স্ত্রীর সামাজিক পরিচয়কে বোঝায়। একই বাংলা অনুবাদ "নারী" হলেও, আরবি মূল পাঠে শব্দ দুটি ভিন্ন অর্থগত ক্ষেত্র বহন করে। এই প্রাসঙ্গিক ও নিখুঁত শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।