কোরআনের ভাষার একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, "নামানো" বোঝাতে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো أَنزَلَ (আনযালা), আবার কখনো نَزَّلَ (নাযযালা) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়ই نزل (নাযালা) ধাতু থেকে এসেছে, তবে তাদের অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
"নিশ্চয়ই আমি এটি (কোরআন) শবে কদরে নাযিল করেছি।"
(সূরা আল-কদর ৯৭:১)»
এখানে أَنزَلْنَا ব্যবহৃত হয়েছে। অনেক মুফাসসিরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি কোরআনের এককালীন নাযিল হওয়ার একটি দিককে নির্দেশ করে, অর্থাৎ লাওহে মাহফূয থেকে বাইতুল ইযযাহতে অবতরণ।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَىٰ مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنزِيلًا
"আমি কোরআনকে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন। আর আমি এটিকে ধাপে ধাপে নাযিল করেছি।"
(সূরা আল-ইসরা ১৭:১০৬)»
এখানে نَزَّلْنَاهُ ব্যবহৃত হয়েছে। আরবি ভাষায় فعّل (দ্বিতীয় ক্রিয়ারূপ) প্রায়ই পুনরাবৃত্তি, ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া বা পর্যায়ক্রমিক কাজের অর্থ প্রকাশ করে। তাই نَزَّلَ দ্বারা ২৩ বছরে ধাপে ধাপে কোরআন নাযিল হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে।
অর্থাৎ, কোরআন একই অর্থের কাছাকাছি দুটি ক্রিয়া ব্যবহার করলেও, প্রসঙ্গ অনুযায়ী তাদের অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। أَنزَلَ সামগ্রিক বা এককালীন অবতরণকে নির্দেশ করতে পারে, আর نَزَّلَ ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমিক অবতরণকে প্রকাশ করে। এই ব্যাকরণগত সূক্ষ্মতা কোরআনের ভাষাশৈলীর এক অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে আরবি ভাষাতত্ত্বে আলোচিত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।