কোরআনের ভাষার একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, সব জায়গায় "জীবন" (الحياة) আগে এবং "মৃত্যু" (الموت) পরে আসেনি। বরং প্রসঙ্গ অনুযায়ী শব্দের ক্রম পরিবর্তন হয়েছে। এটি কাকতালীয় নয়, বরং অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষাগত নির্বাচন।
আল্লাহ বলেন:
«الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ
"যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন।"
(সূরা আল-মুলক ৬৭:২)»
এখানে মৃত্যু আগে এসেছে। অনেক মুফাসসির ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষের দুনিয়ার জীবন শুরু হওয়ার আগে সে অস্তিত্বহীন ছিল, অথবা দুনিয়ার জীবন শেষ হলে মৃত্যুর মুখোমুখি হবে। তাই পরীক্ষার প্রসঙ্গে "মৃত্যু" আগে আনা অর্থপূর্ণ।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ
"তোমরা কীভাবে আল্লাহকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরা ছিলে মৃত; তারপর তিনি তোমাদের জীবন দিলেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, তারপর আবার জীবন দান করবেন।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২৮)»
এখানে ঘটনাগুলো বাস্তব ক্রমানুসারে এসেছে: মৃত অবস্থা → জীবন → মৃত্যু → পুনরুত্থান।
অর্থাৎ কোরআনে শব্দের ক্রম কখনোই এলোমেলো নয়। যে প্রসঙ্গে যে বিন্যাস অর্থকে সবচেয়ে স্পষ্ট ও শক্তিশালী করে, কোরআন সেই বিন্যাসই ব্যবহার করেছে। আরবি বালাগাহে এটিকে অর্থের প্রয়োজনে শব্দের সুনির্দিষ্ট বিন্যাসের (بلاغة النظم) একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।