কোরআনে "আসা" বোঝাতে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো أتى (আতা), আবার কখনো جاء (জা'আ) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়ের সাধারণ অর্থ "আসা", তবু আরবি ভাষায় এদের মধ্যে সূক্ষ্ম অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«أَتَىٰ أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ
"আল্লাহর আদেশ এসে গেছে। অতএব, তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না।"
(সূরা আন-নাহল ১৬:১)»
এখানে أتى ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও কিয়ামত তখনও সংঘটিত হয়নি, তবু ভবিষ্যতের অবশ্যম্ভাবী ঘটনাকে এতটাই নিশ্চিত হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে যে, আরবিতে অতীতকাল ব্যবহার করে বলা হয়েছে, "এসে গেছে"। এটি নিশ্চিততার এক শক্তিশালী ভাষাগত রীতি।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا
"আর তোমার রবের আদেশ আসবে এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে।"
(সূরা আল-ফাজর ৮৯:২২)»
এখানে جاء ব্যবহৃত হয়েছে। আরবি ভাষাবিদদের মতে, جاء অনেক ক্ষেত্রে এমন আগমন বোঝায়, যা মহিমান্বিত, প্রত্যক্ষ বা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আরও একটি উদাহরণ:
«وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ
"আর মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যসহ এসে উপস্থিত হবে।"
(সূরা ক্বাফ ৫০:১৯)»
এখানেও جاءت ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ এটি এমন এক অনিবার্য ও প্রত্যক্ষ বাস্তবতার আগমন, যা মানুষ এড়াতে পারে না।
অর্থাৎ, কোরআনে أتى ও جاء নির্বিচারে ব্যবহার করা হয়নি। প্রসঙ্গ, গুরুত্ব এবং অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য অনুযায়ী প্রতিটি ক্রিয়া নির্বাচন করা হয়েছে। আরবি বালাগাহ ও ভাষাতত্ত্বে এই ধরনের নিখুঁত শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।