কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি অসাধারণ দিক হলো, এটি মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধির কেন্দ্রকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে।
আল্লাহ বলেন:
«فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَٰكِن تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
"প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয়, যা বক্ষের মধ্যে রয়েছে।"
(সূরা আল-হাজ্জ ২২:৪৬)»
এখানে লক্ষ্য করুন, আল্লাহ বলেননি "চোখ অন্ধ হয়ে যায়", বরং বলেছেন "হৃদয় অন্ধ হয়ে যায়।"
আরবি ভাষায় الأبصار (আল-আবসার) বলতে দৃষ্টিশক্তিকে বোঝায়, আর القلوب (আল-কুলুব) বলতে বোঝায় সেই অন্তর, যা সত্যকে উপলব্ধি করে, বিচার করে এবং ঈমান গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করে।
আয়াতটি আরও একটি ভাষাগত সৌন্দর্য বহন করে। আল্লাহ বলেছেন:
«الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
"সেই হৃদয়, যা বক্ষের মধ্যে রয়েছে।"»
যদিও সবাই জানে হৃদয় বক্ষেই থাকে, তবুও এই অংশটি অপ্রয়োজনীয় নয়। আরবি বালাগাহে একে زيادة للتوكيد (অর্থকে আরও জোরালো করার জন্য অতিরিক্ত উল্লেখ) বলা হয়। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, অন্ধত্ব চোখের নয়, মানুষের অন্তরের।
অর্থাৎ, কেউ শারীরিকভাবে সবকিছু দেখতে পেলেও সত্যকে অস্বীকার করতে পারে। আবার একজন দৃষ্টিহীন মানুষও সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। তাই কোরআন শারীরিক দৃষ্টির চেয়ে অন্তর্দৃষ্টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একটি মাত্র বাক্যে কোরআন মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধির মধ্যে যে পার্থক্য তুলে ধরেছে, তা এর ভাষাগত গভীরতার এক অনন্য উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।