কোরআনে "ভয়" বোঝাতে সব জায়গায় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কখনো خوف (খাওফ), আবার কখনো خشية (খাশইয়াহ) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়কেই বাংলায় "ভয়" বলা হয়, কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত পার্থক্য গভীর।
আল্লাহ বলেন:
«فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
"তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৩৮)»
এখানে خوف ব্যবহার করা হয়েছে। এটি সাধারণভাবে কোনো ক্ষতি, বিপদ বা অজানা পরিণামের আশঙ্কাজনিত ভয়কে বোঝায়।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
"আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে যথার্থভাবে ভয় করে (খাশইয়াহ পোষণ করে)।"
(সূরা ফাতির ৩৫:২৮)»
এখানে يَخْشَى (خشية ধাতু থেকে) ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এটি সাধারণ ভয় নয়; বরং জ্ঞান, উপলব্ধি ও মহত্ত্বের স্বীকৃতি থেকে জন্ম নেওয়া শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয়।
এই কারণেই কোরআন বলেনি যে সবাই আল্লাহকে خشية করে। বরং বিশেষভাবে আলেমদের কথা উল্লেখ করেছে, কারণ যত বেশি আল্লাহকে জানা যায়, তত গভীর হয় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভয়।
অর্থাৎ, خوف হলো বিপদের আশঙ্কাজনিত সাধারণ ভয়, আর خشية হলো জ্ঞান ও উপলব্ধির ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া গভীর শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয়। একই বাংলা অনুবাদ "ভয়" হলেও, কোরআনের আরবি পাঠে এই দুই শব্দের অর্থগত পার্থক্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। এটি কোরআনের ভাষাশৈলীর আরেকটি অনন্য উদাহরণ, যেখানে শব্দ নির্বাচন কেবল অর্থ নয়, অনুভূতির স্তরও প্রকাশ করে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।