কোরআনে "বাতাস" বোঝাতে সব সময় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কোথাও এসেছে الرِّيح (আর-রীহ), অর্থাৎ একবচন "বাতাস"। আবার কোথাও এসেছে الرِّيَاح (আর-রিয়াহ), অর্থাৎ বহুবচন "বাতাসসমূহ"। এটি কেবল ভাষার বৈচিত্র্য নয়, বরং প্রসঙ্গভিত্তিক শব্দ নির্বাচন।
আল্লাহ বলেন:
«وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ
"তিনিই তাঁর রহমতের আগে সুসংবাদবাহী বাতাসসমূহ পাঠান।"
(সূরা আল-আ'রাফ ৭:৫৭)»
এখানে الرِّيَاح (বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত বাতাস মেঘ বহন করে, বৃষ্টি আনে এবং রহমতের কারণ হয়।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ
"আর আদ জাতির ঘটনায়, যখন আমি তাদের ওপর ধ্বংসাত্মক বাতাস পাঠিয়েছিলাম।"
(সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৪১)»
এখানে الرِّيح (একবচন) ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট, বিধ্বংসী ঝড় বা ধ্বংসের শক্তিকে নির্দেশ করছে।
তাফসির ও আরবি বালাগাহর আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, কোরআনে বহু ক্ষেত্রে الرِّيَاح (বহুবচন) রহমত, জীবন ও বৃষ্টির প্রসঙ্গে এসেছে, আর الرِّيح (একবচন) শাস্তি বা ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রসঙ্গে এসেছে। অর্থাৎ একটি অক্ষর যোগ বা বিয়োগের মধ্য দিয়েই কোরআন প্রসঙ্গ, আবেগ এবং অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য প্রকাশ করেছে। এ ধরনের শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচিত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।