কোরআনে "শোনা" বোঝাতে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো سمع (সামিআ), আবার কখনো استمع (ইস্তামাআ) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়েরই সাধারণ অর্থ "শোনা", কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২৫৬)»
এখানে سميع শব্দটি سمع ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো সাধারণভাবে শোনা বা শ্রবণ করা। আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, প্রকাশ্য হোক বা গোপন।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا
"যখন কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নীরব থাকো।"
(সূরা আল-আ'রাফ ৭:২০৪)»
এখানে فاستمعوا (استمع ধাতু থেকে) ব্যবহৃত হয়েছে। استمع-এর অর্থ শুধু শোনা নয়; বরং মনোযোগ সহকারে, ইচ্ছাকৃতভাবে ও গভীরভাবে শ্রবণ করা।
আরও একটি উদাহরণ:
«وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ
"আর স্মরণ করুন, যখন আমি আপনার দিকে একদল জিনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, যারা মনোযোগ দিয়ে কোরআন শুনছিল।"
(সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৯)»
এখানেও يستمعون ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ তারা কোরআনকে গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।
অর্থাৎ, سمع সাধারণভাবে শোনাকে বোঝায়, যা ইচ্ছাকৃতও হতে পারে, অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে। কিন্তু استمع বোঝায় মনোযোগ, আগ্রহ ও উদ্দেশ্য নিয়ে শোনা। তাই কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে আল্লাহ فاستمعوا বলেছেন, শুধু اسمعوا বলেননি। এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর গভীরতা ও অর্থগত নির্ভুলতার একটি অসাধারণ উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।