বাংলায় আমরা সাধারণত "মানুষ" শব্দটিই ব্যবহার করি। কিন্তু কোরআনে মানুষকে বোঝাতে একাধিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি শব্দ মানুষের ভিন্ন পরিচয়, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে।
১. الإِنسَان (আল-ইনসান) : মানুষ তার সামগ্রিক সত্তা ও স্বভাবসহ।
«إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ
"নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।"
(সূরা আল-আসর ১০৩:২)»
এখানে الإنسان দ্বারা সমগ্র মানবজাতির সাধারণ স্বভাব ও অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
২. بَنِي آدَم (বানী আদম) : আদম (আ.)-এর সন্তান হিসেবে মানুষের মর্যাদা।
«وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ
"নিশ্চয়ই আমি আদমসন্তানকে মর্যাদা দিয়েছি।"
(সূরা আল-ইসরা ১৭:৭০)»
এখানে মানুষের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরতে بني آدم ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. النَّاس (আন-নাস) : সাধারণ মানুষ বা জনগণ।
«يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ
"হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২১)»
এখানে الناس শব্দটি সকল মানুষের উদ্দেশ্যে সাধারণ আহ্বান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. بَشَر (বাশার) : মানুষের জৈবিক বা শারীরিক দিক।
«إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ
"আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ।"
(সূরা আল-কাহফ ১৮:১১০)»
এখানে রাসুল ﷺ-এর মানবীয়, শারীরিক পরিচয় বোঝাতে بشر শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ, কোরআনে "মানুষ" বোঝাতে সমার্থক মনে হলেও একই শব্দ বারবার ব্যবহার করা হয়নি। কোথাও মানুষের স্বভাব, কোথাও তার বংশগত পরিচয়, কোথাও সমগ্র মানবসমাজ, আবার কোথাও তার জৈবিক সত্তাকে বোঝাতে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ নির্বাচন করা হয়েছে। এই অর্থগত সূক্ষ্মতা (semantic precision) কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে আরবি ভাষাতত্ত্বে আলোচিত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।