কোরআনের ভাষার একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, বহু আয়াতে "শ্রবণ" বোঝাতে السَّمْع (আস-সাম্') একবচন ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু "দৃষ্টি" বোঝাতে الأَبْصَار (আল-আবসার) বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ
"আল্লাহ তাদের হৃদয় ও তাদের শ্রবণের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন, আর তাদের চোখের ওপর রয়েছে পর্দা।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৭)»
আবার বলেন,
«وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ
"তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণ, দৃষ্টিসমূহ এবং অন্তর সৃষ্টি করেছেন।"
(সূরা আন-নাহল ১৬:৭৮)»
এখানে লক্ষ করুন, السَّمْع একবচন, কিন্তু الأَبْصَار বহুবচন।
আরবি ভাষাবিদদের মতে, السمع এখানে শুধু "কান" নয়, বরং শ্রবণশক্তি (faculty of hearing) বোঝায়। এটি একটি সামষ্টিক বা জাতিবাচক (collective/masdar) ধারণা, তাই একবচন ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে الأبصار মানুষের পৃথক পৃথক দৃষ্টি বা চোখকে নির্দেশ করে, তাই বহুবচন এসেছে।
অর্থাৎ, কোরআন শুধু ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করেনি; বরং অর্থের সূক্ষ্মতার সঙ্গে মিল রেখে শব্দ নির্বাচন করেছে। একই আয়াতে একবচন ও বহুবচনের এই নিখুঁত ব্যবহার দেখায় যে, কোরআনের প্রতিটি শব্দ তার প্রাসঙ্গিক অর্থ অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়েছে। আরবি ভাষাতত্ত্বে এটিকে কোরআনের semantic precision এবং بلاغة (বালাগাহ)-এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করা হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।