কোরআনে "শিশু" বোঝাতে সব জায়গায় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। বরং মানুষের বয়স ও বিকাশের ধাপ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোরআনের ভাষার অর্থগত সূক্ষ্মতার একটি চমৎকার উদাহরণ।
১. طِفْل (তিফল) : ছোট শিশু।
আল্লাহ বলেন:
«ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا
"অতঃপর তিনি তোমাদেরকে শিশু হিসেবে বের করেন।"
(সূরা গাফির ৪০:৬৭)»
এখানে طِفْل দ্বারা জন্মের পর প্রাথমিক শৈশবকে বোঝানো হয়েছে।
২. صَبِيّ (সাবিয়্য) : অল্পবয়সী বালক।
ইয়াহইয়া (আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
«وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا
"আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেছিলাম।"
(সূরা মারইয়াম ১৯:১২)»
এখানে صَبِيّ ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ ইয়াহইয়া (আ.) তখন এমন এক বয়সে ছিলেন, যখন তিনি বুঝতে ও শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম ছিলেন।
আবার মারইয়াম (আ.) বলেন:
«أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ
"আমার কীভাবে একটি পুত্রসন্তান হবে?"
(সূরা মারইয়াম ১৯:২০)»
এখানে غُلَام এসেছে, طِفْل নয়।
৩. غُلَام (গুলাম) : কিশোর বা বেড়ে ওঠা ছেলে।
ইবরাহিম (আ.)-কে সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন:
«فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ
"অতঃপর আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।"
(সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০১)»
এখানে غُلَام এমন এক পুত্রকে বোঝায়, যে ধীরে ধীরে কৈশোরের দিকে অগ্রসর হবে।
অর্থাৎ, কোরআনে জন্ম নেওয়া শিশু, বুঝতে শেখা বালক এবং বেড়ে ওঠা কিশোর, প্রত্যেক স্তরের জন্য আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ভাষায় আমরা অনেক সময় সবকিছুকে "শিশু" বা "ছেলে" বলে অনুবাদ করি, কিন্তু আরবি মূল পাঠে প্রতিটি শব্দ মানুষের বয়স, বিকাশ ও অবস্থার সূক্ষ্ম পার্থক্যকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। এটাই কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।