কোরআনের অন্যতম ভাষাগত বৈশিষ্ট্য হলো التوكيد (তাওকীদ), অর্থাৎ বক্তব্যকে বিভিন্ন ভাষাগত উপায়ে আরও দৃঢ় ও নিশ্চিত করা। আরবি ভাষায় জোর প্রকাশের জন্য একাধিক কৌশল রয়েছে, আর কোরআন প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ব্যবহার করেছে।
উদাহরণ হিসেবে দেখুন:
«إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ
"নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।"
(সূরা আল-আসর ১০৩:২)»
এই ছোট্ট আয়াতে দুটি শক্তিশালী জোর রয়েছে।
- إِنَّ (ইন্না) = "নিশ্চয়ই"
- لَفِي (লা) = আরও জোর দিয়ে "অবশ্যই"
অর্থাৎ আয়াতটি শুধু "মানুষ ক্ষতির মধ্যে" বলেনি, বরং ভাষাগতভাবে নিশ্চিত করেছে যে "নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যেই রয়েছে।"
আরেকটি উদাহরণ:
«إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ
"নিশ্চয়ই তোমার রব অবশ্যই পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।"
(সূরা আল-ফাজর ৮৯:১৪)»
এখানেও إِنَّ এবং لَ একসঙ্গে ব্যবহার করে বক্তব্যকে অত্যন্ত দৃঢ় করা হয়েছে।
আরও শক্তিশালী উদাহরণ:
«لَيُبْعَثَنَّ
"তাদের অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে।"
(দেখুন: সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:৭)»
এখানে তিনটি স্তরের জোর একত্রে এসেছে:
- لَ = অবশ্যই
- ক্রিয়ার গঠন
- نَّ (নূনুত-তাওকীদ) = চূড়ান্ত নিশ্চয়তা
অর্থাৎ, শুধু একটি শব্দ নয়, পুরো বাক্যের গঠনই নিশ্চিত করছে যে ঘটনাটি অবশ্যম্ভাবী।
এটি কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য। যেখানে সাধারণ বক্তব্যের জন্য সাধারণ ভাষা, আর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্যের জন্য إِنَّ، لَ، نون التوكيد ইত্যাদি একাধিক ভাষাগত স্তরে জোর প্রদান করা হয়েছে। আরবি বালাগাহে এটি ভাষার নির্ভুলতা ও প্রভাবশালী প্রকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।