কোরআনের ভাষার একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ স্থানে "আকাশ" এসেছে বহুবচনে (السماوات), কিন্তু "পৃথিবী" এসেছে একবচনে (الأرض)।
আল্লাহ বলেন:
«اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ
"আল্লাহ, যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবী থেকেও অনুরূপ।"
(সূরা আত-তালাক ৬৫:১২)»
আবার বলেন,
«رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
"তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীর রব।"
(অনেক আয়াতে এসেছে, যেমন সূরা মারইয়াম ১৯:৬৫)»
লক্ষ্য করুন, السماوات (আকাশসমূহ) বহুবচন, কিন্তু الأرض (পৃথিবী) একবচন।
আরবি ভাষায় سماء শব্দের বহুবচন سماوات। তাই যখন একাধিক আকাশের কথা বলা হয়েছে, তখন বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে أرض শব্দটি সমষ্টিগত (collective) বিশেষ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই কোরআনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একবচনেই এসেছে, এমনকি এমন প্রসঙ্গেও যেখানে পৃথিবীর স্তর বা একাধিক পৃথিবীর ইঙ্গিত রয়েছে।
এটি আরবি ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য, যেখানে সব ধারণা বহুবচনে প্রকাশ করা হয় না। কোরআন সেই ভাষাগত রীতিকেই নিখুঁতভাবে অনুসরণ করেছে। তাই "السماوات" ও "الأرض"-এর এই ভিন্ন ব্যবহার কেবল শব্দের পার্থক্য নয়, বরং আরবি ব্যাকরণ ও শব্দতত্ত্বের সূক্ষ্মতার একটি উদাহরণ।
এই ধরনের শব্দ নির্বাচন দেখায় যে কোরআনের প্রতিটি শব্দ ব্যাকরণ, প্রসঙ্গ ও অর্থের সঙ্গে গভীর সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহৃত হয়েছে, যা এর ভাষাশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।