কোরআনে "দেখা" সম্পর্কিত আলোচনায় بصر (বাসার) এবং رؤية (রু'ইয়াহ/রা'আ) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। যদিও উভয়ই দৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত ক্ষেত্র ভিন্ন।
আল্লাহ বলেন:
«فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَٰكِن تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
"প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয়, যা বক্ষের মধ্যে রয়েছে।"
(সূরা আল-হাজ্জ ২২:৪৬)»
এখানে الأبصار (بصر-এর বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে। بصر মূলত দৃষ্টিশক্তি বা দেখার ক্ষমতাকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى
"হৃদয় যা দেখেছে, তা মিথ্যা বলেনি।"
(সূরা আন-নাজম ৫৩:১১)»
এখানে رأى ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে। এটি শুধু চোখে দেখা নয়; বরং প্রত্যক্ষ উপলব্ধি, নিশ্চিতভাবে প্রত্যক্ষ করা বা বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করার অর্থও প্রকাশ করে।
আরও একটি উদাহরণ:
«أَرِنَا الَّذَيْنِ أَضَلَّانَا
"আমাদেরকে দেখাও সেই দুজনকে, যারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।"
(সূরা ফুসসিলাত ৪১:২৯)»
এখানে أَرِنَا (رأى ধাতু থেকে) এসেছে, যার অর্থ কাউকে কোনো কিছু প্রত্যক্ষভাবে দেখিয়ে দেওয়া।
অর্থাৎ, بصر সাধারণত দৃষ্টিশক্তি বা দেখার সক্ষমতাকে বোঝায়, আর رؤية/رأى বোঝায় কোনো কিছুকে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করা, উপলব্ধি করা বা দেখার ঘটনাকে। কোরআন এই দুটি শব্দকে এলোমেলোভাবে ব্যবহার করেনি; বরং প্রসঙ্গ অনুযায়ী অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য বজায় রেখে নির্বাচন করেছে। এই নিখুঁত শব্দচয়ন কোরআনের ভাষাশৈলীর গভীরতা ও বালাগাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।