বাংলায় "পুরুষ" বলতে আমরা সাধারণত একটি শব্দই ব্যবহার করি। কিন্তু কোরআনে পুরুষ বোঝাতে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এসেছে: رجل (রাজুল) এবং ذكر (যাকার)। এ দুটি শব্দ সমার্থক নয়; বরং ভিন্ন ভিন্ন দিককে প্রকাশ করে।
আল্লাহ বলেন:
«رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ
"এমন কিছু মানুষ (রিজাল) আছেন, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে না।"
(সূরা আন-নূর ২৪:৩৭)»
এখানে رجال ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে শুধু পুরুষ লিঙ্গ বোঝানো হয়নি; বরং চরিত্র, দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ
"পুরুষ (যাকার) নারীর মতো নয়।"
(সূরা আলে ইমরান ৩:৩৬)»
এখানে الذكر ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ আলোচনার বিষয় হলো জৈবিক লিঙ্গ (male)। তাই ذكر এসেছে, رجل নয়।
আরেকটি উদাহরণ:
«لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ
"একজন পুরুষের (যাকার) অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান।"
(সূরা আন-নিসা ৪:১১)»
এখানেও উত্তরাধিকার আইনে জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে বিধান দেওয়া হয়েছে, তাই ذكر ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ, কোরআনে ذكر সাধারণত পুরুষ লিঙ্গকে নির্দেশ করে, আর رجل একজন পরিণত, দায়িত্বশীল বা সামাজিক পরিচয়সম্পন্ন পুরুষকে বোঝায়। একই বাংলা অনুবাদ "পুরুষ" হলেও, কোরআনের আরবি পাঠে প্রসঙ্গ অনুযায়ী ভিন্ন শব্দ নির্বাচন করা হয়েছে। এই অর্থগত সূক্ষ্মতা কোরআনের ভাষাশৈলীর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।