আরবি ভাষায় غيث (গাইস) এবং مطر (মাতার) উভয় শব্দের অর্থই বৃষ্টি। কিন্তু কোরআন এই দুটি শব্দকে কখনো সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেনি। প্রতিটি শব্দ এমন প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে তার নিজস্ব অর্থ ও আবেগ রয়েছে। এটাই কোরআনের ভাষার অনন্য বৈশিষ্ট্য।
কোরআনে غيث (গাইস) শব্দটি এসেছে সেই বৃষ্টির জন্য, যা মানুষের জন্য রহমত, জীবন ও স্বস্তি নিয়ে আসে। অর্থাৎ দীর্ঘ খরা, দুর্ভিক্ষ বা সংকটের পর যে বৃষ্টি মানুষকে উদ্ধার করে, কোরআন তাকে غيث নামে উল্লেখ করেছে।
আল্লাহ বলেন,
> وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنشُرُ رَحْمَتَهُ
"তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষের নিরাশ হওয়ার পর রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ছড়িয়ে দেন।"
(সূরা আশ-শূরা, ৪২:২৮)
এখানে বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর রহমত ও মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই غيث শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে مطر (মাতার) শব্দটি কোরআনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসেছে শাস্তিমূলক বা ধ্বংসাত্মক বৃষ্টির অর্থে। যেমন লূত (আ.)-এর জাতির ওপর যে শাস্তি নেমে এসেছিল, সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
> وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ
"আর আমরা তাদের ওপর এক বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। সতর্ককৃতদের সেই বৃষ্টি কতই না ভয়াবহ ছিল।"
(সূরা আশ-শু'আরা, ২৬:১৭৩)
এখানে مطر কোনো রহমতের বৃষ্টি নয়; এটি শাস্তির প্রতীক।
এটাই কোরআনের ভাষার সূক্ষ্মতা। একই "বৃষ্টি" বোঝাতে দুটি ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু শব্দ নির্বাচন নির্ভর করেছে বৃষ্টির প্রকৃতির ওপর। যেখানে বৃষ্টি রহমত, সেখানে غيث। আর যেখানে বৃষ্টি শাস্তি, সেখানে مطر।
কোরআনের এই শব্দচয়ন দেখায় যে, এর প্রতিটি শব্দ শুধু অর্থ প্রকাশ করে না, বরং সেই ঘটনার আবহ, উদ্দেশ্য এবং বার্তাও বহন করে। এ ধরনের সূক্ষ্ম ভাষাগত নির্বাচনই কোরআনের সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সৌন্দর্যকে অনন্য করে তুলেছে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।