কোরআনের ভাষার একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, "দেওয়া" বা "দান করা" বোঝাতে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো آتَى (আতা), আবার কখনো أَعْطَى (আ'তা) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়ের সাধারণ অর্থ "দেওয়া", তবু তাদের ব্যবহারে অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«وَآتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ
"আর আমি মূসাকে কিতাব প্রদান করেছি।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৫৩)»
এখানে آتَيْنَا ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনে এই ক্রিয়াটি সাধারণত এমন দানের ক্ষেত্রে আসে, যা মর্যাদাপূর্ণ, স্থায়ী বা বিশেষ অনুগ্রহ। যেমন কিতাব, হিকমাহ, রাজত্ব, নবুওয়াত ইত্যাদি।
আবার আল্লাহ বলেন:
«فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَاتَّقَىٰ
"অতএব, যে দান করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে..."
(সূরা আল-লাইল ৯২:৫)»
এখানে أَعْطَى ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সাধারণভাবে কিছু দেওয়া, ব্যয় করা বা দান করার কাজকে প্রকাশ করে।
আরও একটি উদাহরণ:
«إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
"নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।"
(সূরা আল-কাওসার ১০৮:১)»
এখানে أَعْطَيْنَا ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এটি একটি মহান দান প্রদান করার ক্রিয়াকে নির্দেশ করছে। তবে ভাষাবিদরা উল্লেখ করেন যে, أعطى ও آتى-এর ব্যবহারে কিছু ক্ষেত্রে অর্থগত মিলও রয়েছে, এবং প্রসঙ্গই নির্ধারণ করে কোনটি অধিক উপযুক্ত।
অর্থাৎ, কোরআনে آتَى প্রায়ই বিশেষ অনুগ্রহ, দায়িত্ব বা মর্যাদাপূর্ণ দান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, আর أَعْطَى সাধারণভাবে দান বা প্রদান করার কাজকে প্রকাশ করেছে। কোরআনের শব্দ নির্বাচন দেখায় যে, সমার্থক মনে হওয়া ক্রিয়াগুলোকেও প্রসঙ্গ অনুযায়ী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটিই কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।