কোরআনে বৃষ্টির ক্ষেত্রে সব জায়গায় একই আরবি ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। বরং প্রসঙ্গ অনুযায়ী শব্দ পরিবর্তন হয়েছে। যখন আল্লাহ রহমতস্বরূপ উপকারী বৃষ্টির কথা বলেন, তখন প্রায়ই أَنزَلَ (আনযালা) বা نَزَّلَ ক্রিয়া ব্যবহার করেন, যার অর্থ "উপর থেকে নামিয়ে দেওয়া"। যেমন:
«وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا
"আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি নাযিল করেছি।"
(সূরা আল-ফুরকান ২৫:৪৮)»
এখানে أَنزَلْنَا শব্দটি শুধু পানি পড়ার ঘটনা নয়, বরং আল্লাহর নিয়ন্ত্রিত নিয়ামত হিসেবে তা প্রেরণের অর্থ প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে, যখন শাস্তিমূলক বা ধ্বংসাত্মক বর্ষণের কথা এসেছে, তখন অনেক ক্ষেত্রে أَمْطَرَ (আমতারা) ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন লূত (আ.)-এর জাতির ব্যাপারে আল্লাহ বলেন:
«وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا
"আর আমি তাদের ওপর এক ভয়ংকর বর্ষণ বর্ষণ করলাম।"
(সূরা আল-আরাফ ৭:৮৪)»
এখানে أَمْطَرْنَا সাধারণ বৃষ্টি বোঝায় না, বরং শাস্তিস্বরূপ পাথরের বর্ষণকে বোঝায়।
অর্থাৎ, বাংলা বা অনেক ভাষায় আমরা "বৃষ্টি" শব্দটি একইভাবে ব্যবহার করলেও, কোরআন প্রসঙ্গ অনুযায়ী ভিন্ন ক্রিয়া নির্বাচন করেছে। রহমতের জন্য এক ধরনের শব্দ, আর শাস্তির জন্য আরেক ধরনের শব্দ। এই সূক্ষ্ম শব্দচয়ন কোরআনের ভাষাশৈলীর এমন একটি দিক, যা আরবি বালাগাহ ও তাফসিরে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। একটি শব্দের পরিবর্তনই পাঠককে বুঝিয়ে দেয়, এটি শুধু আবহাওয়ার বর্ণনা নয়, বরং রহমত নাকি আযাবের ঘোষণা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।