কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, কয়েকটি সূরার শুরুতে আল্লাহ বলেন:
«لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ
"না, আমি কিয়ামতের দিনের শপথ করছি।"
(সূরা আল-কিয়ামাহ ৭৫:১)»
আবার বলেন,
«لَا أُقْسِمُ بِهَٰذَا الْبَلَدِ
"না, আমি এই নগরীর শপথ করছি।"
(সূরা আল-বালাদ ৯০:১)»
প্রশ্ন হলো, "أُقْسِمُ" (আমি শপথ করছি) বললেই তো যথেষ্ট ছিল। তাহলে আগে "لَا" (না) কেন?
আরবি বালাগাহ অনুযায়ী, এখানে "لا" শপথকে অস্বীকার করছে না। বরং এটি পূর্বে মানুষের ভুল ধারণা বা অস্বীকারকে প্রত্যাখ্যান করছে। অর্থ যেন এমন: "না, তোমরা যেমন মনে করছ তেমন নয়। বরং আমি কিয়ামতের দিনের শপথ করে বলছি..."
এ ধরনের "لا"-কে অনেক মুফাসসির "لا الزائدة للتوكيد" (জোর বা অলঙ্কারিক গুরুত্ব সৃষ্টিকারী 'লা') অথবা প্রসঙ্গভিত্তিক প্রত্যাখ্যানসূচক অব্যয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর মাধ্যমে শপথের আগে একটি শক্তিশালী মানসিক ধাক্কা (rhetorical impact) সৃষ্টি হয়, যা শ্রোতার মনোযোগকে পরবর্তী বক্তব্যের দিকে কেন্দ্রীভূত করে।
অর্থাৎ, কোরআনে একটি মাত্র "لا" শব্দও অপ্রয়োজনীয় নয়। এটি শুধু ব্যাকরণের অংশ নয়, বরং অর্থ, অলঙ্কার ও বক্তব্যের শক্তি বাড়ানোর একটি ভাষাগত কৌশল। এই সূক্ষ্ম ব্যবহার কোরআনের বালাগাহর অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আরবি ভাষাবিদদের কাছে আলোচিত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।