আরবি ভাষায় সাধারণভাবে বলা যায়: "نعبدك" অর্থাৎ "আমরা তোমার ইবাদত করি।" কিন্তু কোরআন এভাবে বলেনি। বরং বলেছে:
«إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
"শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য চাই।" (সূরা আল-ফাতিহা ১:৫)»
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, إِيَّاكَ (তোমাকেই) শব্দটি ক্রিয়াপদের আগে আনা হয়েছে। আরবি ব্যাকরণে একে تقديم ما حقه التأخير (তাকদীম) বলা হয়। এর উদ্দেশ্য শুধু বাক্য সাজানো নয়, বরং অর্থে জোর সৃষ্টি করা। যদি আয়াতে نعبدك বলা হতো, তাহলে অর্থ হতো, "আমরা তোমার ইবাদত করি।" কিন্তু إِيَّاكَ نَعْبُدُ বলায় অর্থ দাঁড়ায়, "আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, অন্য কারও নয়।"
একটি শব্দকে সামনে এনে পুরো বাক্যের অর্থকে একচেটিয়া (Exclusive) করে দেওয়া মানবভাষায় সম্ভব হলেও, কোরআনে এই কৌশল ধারাবাহিকভাবে এমন নিখুঁতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যে তা আরবি বালাগাহর সর্বোচ্চ উদাহরণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই একটি শব্দের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমেই কোরআন আকীদার একটি মৌলিক নীতি, অর্থাৎ তাওহীদকে ভাষার ভেতরেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।পরের পর্বে আমি দেখাতে পারি **কেন কোরআন "মৌমাছি" (النحل) প্রসঙ্গে স্ত্রীলিঙ্গ ক্রিয়া ব্যবহার করেছে**, যা ভাষাতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।