কোরআনে আল্লাহর প্রেরিত ব্যক্তিদের বোঝাতে কখনো نبي (নবী), আবার কখনো رسول (রাসূল) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক সময় একই ব্যক্তির জন্য দুটি শব্দই এসেছে। এটি কাকতালীয় নয়; বরং প্রতিটি শব্দ একটি ভিন্ন দিককে তুলে ধরে।
আল্লাহ মূসা (আ.) সম্পর্কে বলেন:
«وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا
"তিনি ছিলেন একজন রাসূল এবং একজন নবী।"
(সূরা মারইয়াম ১৯:৫১)»
লক্ষ্য করুন, এখানে শুধু নবী বা শুধু রাসূল বলা হয়নি, বরং উভয় শব্দ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
نبي (নবী) শব্দটি نبأ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ "গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ"। অর্থাৎ নবী হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী ও সংবাদ লাভ করেন।
অন্যদিকে رسول (রাসূল) শব্দটি رسل ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ "প্রেরণ করা"। অর্থাৎ রাসূল হলেন সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ একটি বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন।
আবার মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
«مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ
"মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীদের সর্বশেষ।"
(সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪০)»
এখানে প্রথমে রাসূল বলা হয়েছে, কারণ মানুষের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়া তাঁর দায়িত্বের কথা বলা হচ্ছে। এরপর خاتم النبيين বলা হয়েছে, কারণ এখানে নবুওয়াতের ধারার সমাপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, কোরআনে نبي এবং رسول সমার্থক হিসেবে এলোমেলোভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথায় ওহী প্রাপ্তির দিকটি গুরুত্ব পাবে, আর কোথায় আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটি গুরুত্ব পাবে, সে অনুযায়ী শব্দ নির্বাচন করা হয়েছে। এই অর্থগত নির্ভুলতা কোরআনের ভাষাশৈলীর আরেকটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।