কোরআনে "সক্ষম হওয়া" বা "ক্ষমতা থাকা" বোঝাতে সব জায়গায় একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কখনো قدر (কাদারা), আবার কখনো استطاع (ইস্তাতা'আ) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়ের সাধারণ অর্থ "পারা" বা "সক্ষম হওয়া", কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২০)»
এখানে قدير শব্দটি قدر ধাতু থেকে এসেছে। এটি পূর্ণ, পরম ও সীমাহীন ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। তাই আল্লাহর ক্ষমতার ক্ষেত্রে কোরআন বারবার قدير ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
"মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ করা ফরজ, যে সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।"
(সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭)»
এখানে استطاع ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ এখানে আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের বাস্তব সামর্থ্য, যেমন শারীরিক সক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং নিরাপদে পৌঁছার সুযোগ।
আরও একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ সূরা আল-কাহফে রয়েছে। যুলকারনাইনের নির্মিত প্রাচীর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
«فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا
"তারা সেটির ওপর উঠতেও পারল না এবং তাতে ছিদ্র করতেও সক্ষম হলো না।"
(সূরা আল-কাহফ ১৮:৯৭)»
এখানে প্রথমে اسطاعوا (সংক্ষিপ্ত রূপ), পরে استطاعوا (পূর্ণ রূপ) এসেছে। অনেক ভাষাবিদ ব্যাখ্যা করেছেন, দেয়ালে ওপরে ওঠা তুলনামূলক সহজ কাজ হওয়ায় সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে, আর ছিদ্র করা কঠিন কাজ হওয়ায় পূর্ণ রূপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোরআনের শব্দ ও গঠনের সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যের একটি প্রসিদ্ধ উদাহরণ।
অর্থাৎ, قدر সাধারণত পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও সর্বশক্তিমত্তাকে নির্দেশ করে, আর استطاع মানুষের বাস্তব সামর্থ্য বা কোনো কাজ সম্পাদনের সক্ষমতাকে বোঝায়। এমনকি একই ধাতুর সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণ রূপের মধ্যেও কোরআন অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য ফুটিয়ে তুলেছে। এটি কোরআনের ভাষাশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।