Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঘরে ফেরার আগে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
28 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   5 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ঘরে ফেরার আগেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাত সাড়ে দশটা। অফিস শেষ হয়েছে অনেক আগে। লোকটা বাসার সামনে গাড়ি থামিয়ে বসে আছে। ইঞ্জিন বন্ধ। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। নামছে না।


বাসায় তার স্ত্রী আছে। সন্তান আছে। নিজের বিছানা আছে। যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গাও নেই। তবু আরও কয়েক মিনিট গাড়ির ভেতর বসে থাকাটাই তার কাছে স্বস্তির।


কারণ সে জানে, দরজা খুললেই হয়তো সেই চেনা কথাগুলো শুরু হবে।


‘আবার ফোন ধরোনি? কার এত দরকার পড়ল?’


‘এত দেরি হলো কেন?’


‘টাকাগুলো কোথায় খরচ করলে?’


কথাগুলো আলাদা করে খুব বড় কিছু নয়। সংসারে রাগারাগি হয়, অভিমান হয়, প্রশ্নও ওঠে। কিন্তু একই সন্দেহ, একই জেরা আর একই রাগ যখন দিনের পর দিন ফিরে আসে, তখন কথাগুলো আর শুধু কথা থাকে না। মানুষ নিজের আচরণ নিয়ে হিসাব করতে শুরু করে।


কখন বের হবে, কার সঙ্গে কথা বলবে, কতক্ষণ বাইরে থাকবে—সবকিছুর আগে মনে হয়, বাড়ি ফিরে এর ব্যাখ্যা কী দিতে হবে।


একসময় নিজের ঘরেই মানুষ সাবধানে হাঁটতে শেখে।


পুরুষের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও কঠিন। ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখানো হয়, পুরুষ মানে দায়িত্ব। আয় করবে, সংসার চালাবে, সন্তানের খরচ দেবে, বাবা-মায়ের পাশে থাকবে। স্ত্রী রাগ করলে সামলাবে, সন্তান বিপদে পড়লে পথ দেখাবে।


কিন্তু সেই মানুষটির নিজের ক্লান্তি কোথায় যাবে, এই প্রশ্নটা খুব কমই করা হয়।


সে যদি বন্ধুকে বলে, ‘আমার সংসারে শান্তি নেই’, উত্তর আসে, ‘সংসারে এসব থাকেই।’


কেউ বলে, ‘বউকে একটু সময় দাও।’


আর কেউ বলে, ‘সন্তানের জন্য মানিয়ে নাও।’


এই শেষ কথাটাই অনেক পুরুষকে বছরের পর বছর একই সংসারে রেখে দেয়।


সন্তানের জন্য।


একজন বাবা হয়তো বুঝতে পারেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা অনেক আগেই বদলে গেছে। কথা হয় প্রয়োজনের জন্য। একই ঘরে থাকা হয় অভ্যাসে। একসঙ্গে বসে খাওয়ার সময়ও দুজনের মন থাকে অন্য কোথাও। অনেক দিন কোনো আন্তরিক স্পর্শ নেই, নেই একে অন্যের কাছে মনের কথা বলার আগ্রহ।


তবু বিচ্ছেদের কথা ভাবলেই সন্তানের মুখটা সামনে আসে।


সন্তান কার সঙ্গে থাকবে? বাবাকে কি আগের মতো পাবে? স্কুলে কেউ কিছু বলবে না তো? আত্মীয়রা কী বলবে? সন্তান কি একদিন বাবাকেই দায়ী করবে?


তাই সে থেকে যায়।


এক বছর। দুই বছর। পাঁচ বছর।


তারপর একদিন বুঝতে পারে, সংসারটা সে আর সুখের জন্য টেনে নিচ্ছে না। টেনে নিচ্ছে দায়িত্বের জন্য।


সকালে অফিস। সন্ধ্যায় বাসা। মাস শেষে বেতন। বাজারের ব্যাগ। সন্তানের স্কুলের খরচ। বিদ্যুৎ বিল। ওষুধের খরচ।


সবকিছু চলছে।


শুধু মানুষটা আগের মতো নেই।


তবে সম্পর্কের অশান্তি সব সময় একপক্ষের কারণে হয় না; কিন্তু নিয়মিত অপমান, অকারণ সন্দেহ, নিয়ন্ত্রণ আর ভয়কে স্বাভাবিক দাম্পত্য বলে মেনে নেওয়ারও কোনো কারণ নেই।


কাউকে ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন বড় কোনো ঘটনা লাগে না।


কখনো একটা প্রশ্নই যথেষ্ট।


‘কার সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলছিলে?’


কখনো একটা মন্তব্য।


‘আজকাল তোমার বাইরে থাকতেই ভালো লাগে।’


তারপর মানুষটা বদলাতে শুরু করে। অফিস শেষে বন্ধুর সঙ্গে চা খাওয়া কমে যায়। কোথাও যাওয়ার আগে ফোন করার কথা মনে পড়ে। ফোন বাজলে ধরার আগে কয়েক সেকেন্ড পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাসায় ফেরার সময় অকারণে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে।


বাইরে থেকে এসব ছোট পরিবর্তন।


কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ছোট থাকে না। ঘুম নষ্ট হয়, কাজে মন বসে না, নিজের শরীরের যত্ন কমে যায়। কেউ ধূমপান বাড়িয়ে দেয়, কেউ চিকিৎসা পিছিয়ে দেয়, কেউ মানুষের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।


তবু মুখে বলে,


‘কিছু না।’


কারণ সন্তান যেন কিছু বুঝতে না পারে।


একজন বাবা অনেক সময় নিজের সুখের চেয়ে সন্তানের নিরাপত্তাকে বড় করে দেখেন। তিনি ভাবেন, আমি সহ্য করি। আমার কষ্টে অন্তত সন্তানের জীবনটা যেন না বদলায়।


কিন্তু শিশুরা ঘরের সব কথা না বুঝলেও ঘরের পরিবেশ বুঝতে পারে। বাবার চুপ হয়ে যাওয়া, মায়ের রাগ, দুজন মানুষের একসঙ্গে থেকেও আলাদা হয়ে থাকা—এসব তাদের চোখ এড়ায় না।


তাই শুধু একই ছাদের নিচে থাকা মানেই সন্তান একটি সুস্থ পরিবারে বড় হচ্ছে, এমন নয়।


আবার সম্পর্ক ভেঙে ফেললেই সব সমস্যার সমাধান হবে, সেটাও নয়।


সমাধান অনেক সময় শুরু হয় আরও আগে। দুজন মানুষ যখন একে অন্যকে প্রতিপক্ষ না ভেবে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখে। রাগের সময় একটু থামে। সন্দেহ হলে অপমান না করে প্রশ্ন করে। ‘তুমি এমনই’ না বলে বলে, ‘তোমার এই কথাটা আমাকে কষ্ট দিয়েছে।’


সংসার শুধু দায়িত্বের হিসাব নয়। সেখানে শান্তিতে থাকার জায়গাটাও থাকতে হয়।


কারণ মানুষ একদিনে ক্লান্ত হয় না। দিনের পর দিন জমে থাকা অস্বস্তি, না-বলা কথা, সন্দেহ, অপমান আর একাকিত্ব একসময় তাকে নিজের ভেতরেই গুটিয়ে দেয়।


তারপর সে আর ঝগড়া করে না।


আমরা ভাবি, সংসারে শান্তি ফিরেছে।


আসলে সে হয়তো শুধু কথা বলা ছেড়ে দিয়েছে।


রাত সাড়ে দশটার সেই মানুষটিও শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নামবে। দরজা খুলে ঘরে ঢুকবে। হয়তো সন্তানের ঘরে একবার উঁকি দেবে।


তারপর প্রশ্ন আসবে,


‘এত দেরি করলে কেন?’


সে বলবে,


‘জ্যাম ছিল।’


হয়তো সত্যিই রাস্তায় জ্যাম ছিল।


কিন্তু তার ভেতরে জমে থাকা ক্লান্তির কোনো নাম নেই।


তারপরও সে থাকবে।


হয়তো সন্তানের জন্য।


হয়তো এই আশায়, একদিন ঘরটা আবার এমন হবে, যেখানে ফিরতে তার ভয় করবে না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4893
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ঘরে ফেরার ভয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত সাড়ে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যেখানে বই ধীরে ধীরে ঘরে ফেরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২৫, ২০২৬ সন্ধ্য[...] বিস্তারিত পড়ুন...
402 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্ষমার আগে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঈদের দ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
28 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্ষুধার আগে কোনো পাঠই দাঁড়ায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২৬ &ldquo[...] বিস্তারিত পড়ুন...
452 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
  অদৃশ্য হওয়ার আগে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা  । মে ১৬,২০২৬ শরীরটা আজকাল খুব ত&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
432 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...