Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অভিকের হার্ট ও দারিদ্র্যের অসম লড়াই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
23 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,743 পয়েন্ট)   18 জানুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অভিকের হার্ট ও দারিদ্র্যের অসম লড়াই

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প | জানুয়ারি ১৮, ২০২৬


সকালের আলো ফুটতেই অভিকের চোখ খোলে। কিন্তু সেই খোলা চোখে আনন্দ নেই, শুধু একটা ভারী ক্লান্তি। বুকের ভেতরটা যেন কেউ লোহার চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে। হাত বাড়িয়ে ওষুধের শিশিটা খুঁজে নেয়, কিন্তু শিশিটা প্রায় খালি। গত মাসের বাকি টাকা দিয়ে কেনা শেষের দিকের কয়েকটা বড়ি। ডাক্তার বলেছিলেন, “নিয়মিত খেতে হবে, নইলে হার্ট আর সহ্য করবে না।” কিন্তু কীভাবে নিয়মিত? 

যেখানে দিনের খাবার জোগাড় করাই যুদ্ধ।


অভিক উঠে বসে। পায়ে জোর নেই, তবু মেঝেতে পা ঠেকিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। প্রতিটি পদক্ষেপে বুকের ভেতরটা চিড়িক করে ওঠে, যেন কেউ ছুরি দিয়ে খোঁচা মারছে। নিশি, তার স্ত্রী, রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে। “আস্তে, আস্তে… আমি ধরি।” তার হাতে ছোট্ট এক কাপ চা। চিনি নেই, দুধও কম। শুধু গরম পানিতে চা-পাতা ফুটিয়ে আনা। অভিক হাসার চেষ্টা করে, “এটাই তো আমার ওষুধ।”


নিশির চোখে জল। সে জানে, এই চা-ও আর কদিন। বাড়িতে চালের ড্রাম খালি হয়ে গেছে কাল। মেয়েরা—স্বপ্না আর স্বর্ণা—ভার্সিটিতে পড়ে। দুজনেই বুদ্ধিমতী, দুজনেই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্না ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, স্বর্ণা ডাক্তার। কিন্তু বাবার এই অবস্থা দেখে তাদের চোখেও আশা কমে আসছে। গত সপ্তাহে স্বপ্না বলেছিল, “বাবা, আমি পড়াশোনা ছেড়ে চাকরি খুঁজব।” অভিকের বুক ফেটে যাওয়ার মতো লেগেছিল সেই কথা। “না, মা। তোরা পড়বি। আমি ঠিক হয়ে যাব।”


কিন্তু ঠিক হওয়ার পথ কোথায়? হাসপাতালে গেলে টাকা লাগে। ওষুধের দাম মাসে দু’হাজারের ওপর। অভিকের কোনো চাকরি নেই গত তিন বছর। আগে ছোট একটা দোকান ছিল, কিন্তু অসুখের পর বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন মাঝে মাঝে পাড়ার লোকের বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে, কিন্তু সেটাও শরীর সইছে না। একবার দশ মিনিট হাঁটলেই শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। রাতে ঘুম ভাঙে ব্যথায়। মনে হয়, এই বুকের ভেতরটা আর কিছুক্ষণই সহ্য করবে না।


একদিন সকালে অভিক জানালার ধারে বসে পুরনো একটা ছবি দেখছিল। ছবিতে সে, নিশি আর দুই মেয়ে। স্বপ্নার বয়স তখন আট, স্বর্ণার ছয়। সবাই হাসছে। সেই হাসি এখন স্মৃতি। অভিকের চোখ ভিজে ওঠে। “আমি কি আর কখনো ওদের সাথে এমন হাসতে পারব?” মনে মনে প্রশ্ন করে।


নিশি পাশে এসে বসে। তার হাতে একটা পুরনো খাতা। “দেখো, স্বর্ণা কাল রাতে লিখেছে।” 

খাতায় লেখা—  

“বাবা, তুমি যদি ঠিক না হও, আমি পড়াশোনা করব না। কিন্তু তুমি ঠিক হয়ে যাবে, আমি জানি। কারণ তুমি আমাদের জন্য লড়ছ। আমরাও লড়ছি।”


অভিকের গলা আটকে যায়। সে নিশির হাত ধরে। “আমরা একা নই, তাই না?”  

নিশি মাথা নাড়ে। “না। আমরা চারজন। আর এই চারজনের ভালোবাসা যতদিন আছে, ততদিন লড়াই চলবে।”


দুপুরে পাড়ার একজন এলো। “ভাই, তোমার জন্য কিছু ওষুধ এনেছি। আমার ভাইয়ের কাছে ছিল।” অভিক অবাক। লোকটা বলল, “তুমি তো আমাদের পাশে থাকতে। এখন আমাদের পালা।” ছোট্ট এই সাহায্য অভিকের চোখে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়।


সন্ধ্যায় মেয়েরা ফিরল। স্বপ্না বলল, “বাবা, আজ ক্লাসে প্রফেসর বললেন—জীবনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পরিবার।” স্বর্ণা হেসে বলল, “আর আমাদের পরিবার তো সবচেয়ে শক্তিশালী।”


রাতে অভিক বিছানায় শুয়ে ভাবে। বুকের ব্যথা আছে, টাকা নেই, ওষুধ কম। কিন্তু তার চারপাশে আছে নিশির হাতের ছোঁয়া, মেয়েদের হাসি, পাড়ার মানুষের সহানুভূতি। এগুলোই তার আসল ওষুধ।


জীবন কঠিন। দারিদ্র্য আর অসুখ মিলে যেন অসম যুদ্ধ। কিন্তু এই যুদ্ধে অভিক একা নয়। প্রতিটি নিঃশ্বাসে ব্যথা থাকলেও, প্রতিটি রাতে ভয় থাকলেও—সে লড়ে যাচ্ছে। কারণ তার লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়। দুই মেয়ের স্বপ্নের জন্য। নিশির ভালোবাসার জন্য। আর সবচেয়ে বড় কথা—মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য।


একটা ছোট্ট হাসি, এক কাপ গরম চা, মেয়েদের একটা ভালো গ্রেড—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই অভিককে বাঁচিয়ে রাখে। জীবন যতই কঠিন হোক, ভালোবাসা আর আশা থাকলে মানুষ লড়তে পারে। অভিকের গল্প সেই প্রমাণ।


#অভিকেরলড়াই #হার্টএরযুদ্ধ

#দারিদ্র্যএবংঅসমলড়াই #পরিবারিকভালোবাসা

#মেয়েদেরভবিষ্যত #প্রতিদিনেরসংগ্রাম

#ভালোবাসারশক্তি #দীর্ঘস্থায়ীঅসমলড়াইimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 830 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16743। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3096
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
কবি হওয়ার নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১২ মার্চ ২০২৬ রাত প্রা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের শেষ সংগ্রাম   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | জানুয়ারি ২২, ২০২৬ অভি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রাত ছিল নীরব। শহরের আলোগুলো দূরের আকাশের তারার মতো মিটমিট করে জ্বলছিল, কিন্তু অভিõ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
76 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

গল্পের নাম: শোনো অবেলার পথিক কলমে: হিমানী হিমাদ্রি(দ্বিতীয় পর্ব)অহিদত্তের শক্ত হাতট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের ঈদের এক ফালি চাঁদ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১০ মার্চ, ২০২৬ আমার নিয়মিত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...