Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আইসিইউতে কাটানো আমার দিনগুলোর কথা — দ্বিতীয় খণ্ড

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
56 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,743 পয়েন্ট)   05 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

image


হাতের চামচ ধরার মতো জোরও পেলাম না।

গলার মধ্যে থাকা নলটি (ভেন্টিলেশন) খোলার পর কিছুটা স্বস্তি পেলেও, পানির তৃষ্ণায় তখনও আমার প্রাণটা যেন শেষ হয়ে যাচ্ছিল।


ঠিক সে সময় নার্সের উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল। মনে মনে বললাম,

— “একটু পানি দিলে কী এমন ক্ষতি হবে?”


ডাক্তার রাউন্ডে এলেন। আমার বেডের পাশে এসে মনিটরের সবকিছু দেখলেন। তারপর দায়িত্বরত ডাক্তারকে বলে গেলেন,

— “আগামী চার ঘণ্টা কোনোভাবেই তাকে পানি দেওয়া যাবে না।”


এই কথা শুনে অসহায়ের মতো আমি শুধু ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে রইলাম।


চেতনানাশক ওষুধের প্রভাব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের কাটা অংশে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করলাম। সেই ব্যথা ধীরে ধীরে বুকের কাটা দিকেও ছড়িয়ে পড়ছিল।


আমার শরীরে তখনও তিনটি ক্যানেল লাগানো, ক্যাথেটার তো আছেই।

সেসব পাইপ আমার পুরো শরীরকে যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে।


চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না। মনে হয়, যদি একটুখানি কাত হয়ে শুতে পারতাম—কেমন স্বস্তি মিলত! কিন্তু সে উপায় নেই।


চারদিকে এক ভয়াবহ নিরবতা। সেই নিরবতা যেন আমার বুকের ভেতর ভর করে বসেছে।

চেষ্টা করেও ঘুম আসছে না। চোখের পাতা ভারী হতে না হতেই শরীরের ব্যথা আবার জেগে ওঠে—প্রচণ্ড তাণ্ডবে।


আন্দাজ করলাম, হয়তো দুপুর হবে। কারণ দেখলাম, কয়েকজন ভিজিটর ভিতরে এসেছে।


মাথা উঁচু করে দেখি—আমাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। সম্ভবত সেই কারণেই ডাক্তার পানি দিতে নিষেধ করেছেন।


এদিকে নার্স বারবার আমার গলার ক্যানোলা থেকে সিরিঞ্জে করে রক্ত নিচ্ছেন, আর ফলাফল বড় এক লগবইয়ে লিখে রাখছেন।


ডিউটি ডাক্তার কাছে এসে অনুরোধ করলাম—“একটা ঘুমের ইনজেকশন দিন।”

তিনি হেসে বললেন,

— “রাতে দেবো।”


এমন সময় খাবারের ট্রলির শব্দ পেলাম। বুঝলাম—দুপুরের খাবার এসেছে।

আমার বেডের পাশে এসে খাবার রেখে গেল নার্স।


আমার জন্য ছিল দুইজন নার্স—একজন মনিটর পর্যবেক্ষণ করছেন, অন্যজন অন্যান্য কাজ সামলাচ্ছেন।


একজন এসে আমার মাথার দিকের বেডটা একটু উঁচু করে দিলেন। কারণ, এবার আমাকে দুপুরের খাবার দেওয়া হবে।


খাবারের মেন্যুতে ছিল নরম ভাত।

কিন্তু আমার যেটা সবচেয়ে প্রয়োজন—সেই পানি, কোথাও নেই।


নার্স চামচে করে অল্প অল্প করে মুখে ভাত দিচ্ছিলেন। দু’চামচ খাওয়ার পরই আর খেতে ইচ্ছে করলো না।


নীরবতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল চারদিক।

ঠিক তখনই, পাশের বেডের রোগীর মনিটর প্রচণ্ড শব্দ করে উঠল।

সব ডাক্তার ছুটে গেলেন তার দিকে।


দু’জন ডাক্তার দ্রুত তার বুকে চাপ দিতে লাগলেন—সম্ভবত সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

তাকে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়া হচ্ছিল।


কিছুক্ষণ পরও কোনো সাড়া মিলল না।

তারপর দেখলাম, তাকে শক দেওয়া হলো।

তবুও কিছুই হচ্ছে না।


কিছু সময় পরেই সব শান্ত।

বুঝলাম—রোগী না ফেরার দেশে চলে গেলেন।


অদ্ভুত ব্যাপার—এত কাছে থেকে একজন মানুষের মৃত্যু দেখলাম, অথচ নিজের মনে সামান্যতম ভয়ও কাজ করল না।

বরং মনে হলো, আমার নিজের ব্যথাগুলো যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

মনটা কিছুটা বিষণ্ন হলো।


অজান্তেই নিজের শরীরের ত্রুটিগুলো খুঁজে দেখতে শুরু করলাম।

বুঝতে পারলাম না—একজন মানুষ এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, অথচ চারপাশের কারও কাজের এতটুকু ব্যাঘাত ঘটল না।


মৃতদেহসহ বেডটি টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো, তারপর আবার সব স্বাভাবিক!

মনে হলো—এখানে কিছুই ঘটেনি।


সেদিন প্রথম সত্যিকারের উপলব্ধি হলো—মানুষের জীবনের মূল্য কত অল্প, কত ক্ষণস্থায়ী।


এভাবেই জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে কাটছিল আমার প্রথম দিন।


কিছুক্ষণ পর ডিউটি ডাক্তার এসে বললেন,

— “দেখলেন? অতিরিক্ত পানি পান করলে কী ভয়ংকর অবস্থা হতে পারে!”


আমি জিজ্ঞেস করলাম,

— “বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলবেন?”


ডাক্তার বললেন,

— “খুব বেশি পরিমাণে পানি পানের ফলে শরীরে তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়, ভারসাম্য নষ্ট হয়। অতিরিক্ত পানি শরীরের সোডিয়াম (লবণ) কমিয়ে দেয়, ফলে অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট পাতলা হয়ে যায়। সদ্য অপারেশনের পরে সেই রোগীর গ্রাফটিং অংশে ফুসফুসের ভেজা চাপ গিয়ে এমন বিপর্যয় ঘটিয়েছে। নার্সদের বারণ সত্ত্বেও তিনি অনবরত পানি খেয়ে গেছেন।”


তিনি আরও বললেন,

— “মাত্রার অতিরিক্ত পানি পানে কিডনি অতিরিক্ত জল নিষ্কাশন করতে পারে না। এতে শরীরে হাইপোনেট্রেমিয়া নামক অবস্থা হয়—যখন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা এতটাই কমে যায় যে, মস্তিষ্কের কোষ ফুলে যেতে থাকে। তখন খুলির ভেতর চাপ বাড়ে। খিঁচুনি, কোমা—শেষ পর্যন্ত মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”


সব শুনে আমার পানির প্রতি আগ্রহ মুহূর্তেই হারিয়ে গেল।


ধীরে ধীরে সময় গড়াতে লাগলো।

ডাক্তার, নার্স—সবাই তাদের ডিউটি পরিবর্তন করলো।

আর আমি পড়ে রইলাম, নিঃসঙ্গ এক রুগি হিসেবে আইসিইউর নিস্তব্ধ কক্ষে।


রাত ঘনিয়ে এলো। তবুও ঘুম কিছুতেই আসছে না।

আবার বললাম ডাক্তারকে,

— “একটা ঘুমের ইনজেকশন দিন।”


তিনি নার্সকে ইশারা করলেন।

আমি দেখলাম, নার্স স্যালাইনের ভিতর থেকে কিছু তরল টেনে নিয়ে আমার শিরায় ইনজেকশন পুশ করলেন।


বুঝতে পারলাম—এটা ঘুমের ইনজেকশন নয়।

তবুও চোখের পাতাগুলো ধীরে ধীরে ভারী হয়ে এলো।

আর আমি হারিয়ে গেলাম ঘুমের অচেনা, শান্ত এক জগতে...


(চলবে...)



#আইসিইউ_ডায়েরি #জীবনের_লড়াই #বাস্তব_গল্প #ভেন্টিলেটর_অভিজ্ঞতা #বাংলা_ছোটগল্প #হৃদয়স্পর্শী #লাইফসাপোর্ট #মোহাম্মদ_জাহিদ_হোসেন #মানুষের_মূল্য #জীবন_ও_মৃত্যু #মোহাম্মদজাহিদহোসেন

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 830 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16743। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1178
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ঘুম ভাঙলো মনিটরের টিকটিক শব্দে। আজ সেই শব্দটা আর ভয়ের নয়— বরং মনে হলো, এই টিকটিকই আম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
64 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যারা আমার “লাইফসাপোর্ট” গল্পটি পড়েছেন, তারা এই লেখাটি সহজেই বুঝতে পারবেন। আর যদি ক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
85 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সালটা ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। আমার ওপেন হার্ট সার্জারির পর অপারেশন টেবিল থেকে সর&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
121 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আমার নেপাল ভ্রমণ-দ্বিতীয় পর্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণঃ ভ্রমণ কাহিনী তারিখঃ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
67 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দ্বিতীয় দরজা (ভৌতিক গল্প) লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরণ: ভৌতিক গল্প তারিখ: ২০ অক্টোব&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
75 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...