Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটি ফোন কল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
21 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,743 পয়েন্ট)   06 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি ফোন কল

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬

(বাস্তব ঘটনার আলোকে)


জন্মদিন—এই শব্দটা বেশিরভাগ মানুষের কাছে আনন্দের সমার্থক। কেউ মনে মনে বুকে ভরে নেয়, শুভেচ্ছা, হাসি। 


কিন্তু আমার জীবনে জন্মদিন কখনও উৎসব হয়ে ওঠেনি। ৭ই ফেব্রুয়ারি আামার জন্মদিন, চিন্তার আগেই ৭ই ফেব্রুয়ারি শুধু একটা তারিখ—যেটা আসে, আর চলে যায়। কোনো আয়োজন হয় না, কোনো প্রত্যাশা গড়ে ওঠে না। দিনটি এসে যায়—অন্য দশটি সাধারণ দিনের মতোই।


তবে আমার জন্মদিনের সাথে একটি অদ্ভুত নিয়ম জুড়ে ছিল। নিয়মটা ছিল আমার বাবার।


২০০০ সালের পর থেকে, যখন আলাদা বাসায় থাকা শুরু করলাম, তখন থেকেই প্রতি বছর ৬ই ফেব্রুয়ারি রাত ঠিক ১২টা ০১ মিনিটে আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠত। কার দিক থেকে তাকানোর দরকার হতো না, কলার আইডি দেখার প্রয়োজন পড়ত না। আমি জানতাম—এই ফোনটা বাবার।


বাবা কখনো বলেননি, “শুভ জন্মদিন।” ওই শব্দগুলো তার মুখে মানা যায় না। কিংবা ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তার আলাদা কোনো ভাষা ছিল না। 


ফোন করে তিনি বরাবরই সাধারণ কথা বলতেন—কেমন আছি, শরীর ঠিক আছে কি না, কাজকর্ম কেমন চলছে। তারপর, কথার একদম শেষে, যেন হঠাৎ মনে পড়ে এমন ভঙ্গিতে বলতেন, “কাল তোর জন্মদিন। বাসায় এস টাকা নিয়ে যাস। আর কাল ওদের নিয়ে—বৌমা আর মেয়েগুলোকে—বাইরে ভালো কিছু খাওয়াস।”


এই ছিল বাবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সংক্ষিপ্ত, নিরাভরণ, অথচ আশ্চর্য রকমের উষ্ণ।


আমি কোনো দিন বলিনি, “বাবা, তুমি কেন আমাকে শুভ জন্মদিন বলো না?” 

কারণ আমি বুঝতাম—এই কথাগুলোর ভেতরেই তার সব কথা হয়ে যায়। কিছু মানুষ শব্দে ভালোবাসে না, তারা দায়িত্বে ভালোবাসে।


এই নিয়ম ভাঙলাম ১২ বছর পরে—২০১২ সালে।


সেই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে আমি আর নিজের ঘরে ছিলাম না। 


ছিলাম হাসপাতালের আইসিইউতে। হার্ট অ্যাটাক আমাকে এক মুহূর্তে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানি কোনো এক অচেনা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। শরীর তখন নিস্তেজ, মুখে ভেন্টিলেটরের পাইপ, চারদিকে যন্ত্রের একটানা শব্দ। সময়ের কোনো ধারণা ছিল না। দিন না রাত—কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।


হঠাৎ কপালে এক ধরনের ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করলাম। ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালাম। ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখলাম—বাবা। তিনি আমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখ দুটো লাল, ফোলা। সেই চোখে জমে থাকা জল আর লুকোনোর নেই।


তিনি খুব আস্তে আমার কপালে হাত বুলিয়ে দিলেন। যেন আমি ভেঙে পড়ি, এমন আশঙ্কায়। তার চোখের জল গড়িয়ে এসে ভিজিয়ে দিলো আমার কপাল। তিনি দ্রুত নিজের হাত দিয়ে তা মুছে দিলেন—যেন আমি কষ্ট না পাই।


খুব অস্থির, প্রায় ফিসফিস করে বললেন,“জাহিদ… তুই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠ। বাসায় গিয়ে তোর জন্মদিন পালন করব।”


সেই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতর কী যে হলো, তা ভাষায় ধরার মতো শক্তি এখনো আমার নেই। আমি চিৎকার করে বলতে চেয়েছিলাম—

“বাবা, আমি তোমাকে অসীম ভালোবাসি।”

বলতে চেয়েছিলাম—

“আমি ভয় পাচ্ছি, আমাকে ছেড়ে যেও না।”


কিন্তু পারলাম না। গলার ভেতরের প্রতিটি শব্দ আটকে গেল। আমার না বলা কথাগুলো তখন চোখের জল হয়ে বেরিয়ে এলো। একের পর এক ফোঁটা। বালিশ ভিজিয়ে গেল। আইসিইউর সেই ভয়ংকর নীরবতা আমার কান ঝাঁকরি দিচ্ছিল।


আমি অসহায় চোখে দেখলাম, বাবা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। হয়তো পাশেই পেছেন ছিলেন। হয়তো তাকালে ভেঙে পড়তেন। সেই দৃশ্যটা আজও আমার চোখে গেঁথে আছে।


সময় থেমে থাকে না। আমি বেঁচে ফিরেছি। জীবন আবার চলতে শুরু করেছে। কিন্তু কিছু অপেক্ষা, কিছু অভিমান—কখনো শেষ হয় না।


বাবা আমাকে একা করে, সমস্ত চিন্তা আর চেতনাকে পাশ কাটিয়ে ২৭শে অক্টোবর ২০২২ সালে আমাকে না বলেই চলে গেলেন ওপারে।


আজ আবার ফেব্রুয়ারি এসেছে। আবার বাবার ফেব্রুয়ারি। রাত নামছে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক ১২টা ০১ মিনিট।


আমি জানি, এবার আর ফোনটা বাজবে না। স্ক্রিন নিঃশব্দ থাকবে। কোনো নাম ভেসে উঠবে না। অথচ বুকের ভেতর উঠবে এক অদ্ভুত শব্দ—বিশ্রামের কালে হঠাৎ নেমে আসা কলবৈশাখীর মতো। সেই শব্দের শেষে থাকবে শুধু চোখের লোনা জল।


তবুও আমি অপেক্ষা করব।


কারণ কিছু মানুষ চলে গেলেও, তাদের ভালোবাসা সময়ের মতো কল দিয়ে যায়।

আর কিছু ফোন কল—কখনো বন্ধ হয় না, শুধু শোনা যায় না।



#১২টা০১মিনিট #একটিফোনকল #বাবারভালোবাসা #নীরবভালোবাসা

#হারানোবাবা #ফেব্রুয়ারিরস্মৃতি

#বাংলাছোটগল্প #মানবিকগল্প #FatherLoveimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 830 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16743। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3381
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একটি জুতো  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। মার্চ ২০, ২০২৬ রাফি রাস্তায় হাঁটছিল। &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি ‘না’ বলা মেয়ের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। জানুয়ারি ১০, ২০২৬ আপনি কি ক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রভাতের মৃদু আলোয় ব্যালকনিতে বসে আমি টেবিলের উপর খাতা খুলে কিছু পুরোনো স্মৃতি লিখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পদ্মা নদীর মাঝি চুক্তিভিত্তিক শ্রমব্যবস্থার একটি প্রাক-আধুনিক রূপ মোহাম্মদ জাহি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

আমি একটি কাব্যগ্রন্থ লিখবো। ‎গ্রন্থটি মলাটবদ্ধ করবো একশো পৃষ্ঠায়। ‎পুরো গ্রন্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...