ফেসবুকে প্রেমের ভবিষ্যৎ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ২৫ নভেম্বর ২০২৫
“তুমি ছিলে আমার শুধু টাইমপাস। তোমার মতো সাধারণ মেয়েকে আমি কেন ভালোবাসব?”
রাত ২:৩৭ মিনিট।ফোনটা কেটে গেল।
আফসানার পৃথিবীটা যেন এক সেকেন্ডে শেষ হয়ে গেল।
কয়েক মাস আগেও সে ভেবেছিল,
অনিকই তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।
প্রতিদিন চ্যাট, রাত জেগে ভিডিও কল,
“ভালোবাসি” শব্দটা শুনে বুকটা কেঁপে উঠত।
সে নিজেকে সাধারণ মনে করত।
তবু ভাবত, “আমাকে এত সুন্দর করে কেন ভালোবাসে?”
তারপর একদিন সাহস করে বলেছিল,
“দেখা করব একদিন?”
উত্তর এসেছিল,
“এখন ব্যস্ত আছি, কিছুদিন পর…”
সেই “কিছুদিন” আর আসেনি।
এল শুধু রাতের ঠান্ডা, নিষ্ঠুর সত্যি।
“তুমি কী ভেবেছিলে?
আমি তোমাকে সিরিয়াসলি নিয়েছি?”
প্রতিটা শব্দ ছিল ছুরির ফলা।
আফসানা কাঁদতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হল না।
শুধু চোখ দিয়ে ঝরতে লাগল অশ্রু, একটা একটা করে।
হঠাৎ পিছন থেকে মায়ের হাত তার কাঁধে।
“মা…”
রহিমা বেগম চুপ করে জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে।
মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“কাঁদিস মা, কাঁদতে দে।
কিন্তু মনে রাখিস,
তুই হারিস নি।
যে তোকে ঠকিয়েছে, সে-ই হেরেছে।”
সেই রাতে আফসানা বুঝেছিল—
মায়ের ভালোবাসা ছাড়া
পৃথিবীর কোনো ভালোবাসাই নিঃশর্ত নয়।
পরদিন সকালে আয়নায় তাকিয়ে সে হেসেছিল।
চোখে জল নেই, আছে আগুন।
“আমি আর কারো জন্য বাঁচব না।
নিজের জন্য বাঁচব।”
ফেসবুক ভালো, কিন্তু ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ঠিকানা ওখানে নয়।
যে মেয়ে আজ কাঁদছে,
সে-ই কাল শক্তির সাথে দাঁড়াবে।
শুধু একটা শর্ত—নিজেকে ভালোবাসতে শিখতে হবে।
ভুল মানুষকে ভালোবেসে হৃদয় ভাঙলে কাঁদিস।
কিন্তু সেই ভাঙা হৃদয় নিয়েই আবার গড়ে তুলিস নিজেকে।
কারণ তুই যে আছিস, এটাই সবচেয়ে বড় জয়।
যে মেয়েটা আজ নিজের ঘরে একা বসে চোখের পানি ফেলছে, তার পাশে বসে শুধু একটা কথাই বলতে মন চায়, “চুপ করিস না, কাঁদ। কাঁদতে কাঁদতে শক্তি ফিরে পাবি।”
শেয়ার করো, যদি বিশ্বাস করো।
#ফেসবুকপ্রেম #মনভাঙা_কথা #মায়ের_ভালোবাসা
#নিজেকে_ভালোবাসো #চোখভেজা_তবু_দৃঢ়
#বাস্তবগল্প #জীবন_শিক্ষা #নারীর_শক্তি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।