ফিল্টার-আসক্তি: টিনএজ মেয়েদের নীরব যুদ্ধ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী ⋄ ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
আমার মেয়ে রাত হলে ফোনটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফিল্টার লাগিয়ে ছবি তোলে, কে কে লাইক দিল সেটা দেখে। তারপর ঘুমায়।
সকালে উঠে আয়নায় নিজের দিকে তাকায়, মুখটা কুঁচকে ফেলে। “আমি এতো খারাপ দেখতে কেন?”—বলেই মন খারাপ করে। বয়স মাত্র চৌদ্দ।
পাড়ার মেয়েগুলোর কথাও আলাদা নয়। স্কুলে যাওয়ার আগে ওরা ফোনের ক্যামেরায় মুখ দেখে। ফিল্টার না দিলে কেউই ঠিকমতো হাসে না। ক্লাসে বসে ফিল্টার দিয়ে ছবি এডিট করে। একদিন এক মেয়ে বলল,
“আমার আসল নাকটা খুব বাজে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“কে বলেছে বাজে?”
সে বলল,
“ইনস্টাগ্রামে যারা লাইক দেয়, তারা।”
এটা কোনো গবেষণার হিসাব নয়—এ আমার চারপাশের গল্প। আমার মেয়ে, পাড়ার মেয়ে, আমার ছাত্রী—সবাই একই কথা বলে। ফিল্টার ছাড়া ছবি তুলতে ভয় পায়। কারণ তখন লাইক পড়ে কম, আর লাইক কম মানে, “আমি সুন্দর না।”
একদিন বললাম, “ফিল্টার ছাড়া একটা ছবি তোলে দেখ।”
সে রাজি হয়নি।
বলল, “তাহলে কেউ দেখবে না।”
আমি বললাম, “মানে?”
জবাব দিল, “যারা দেখে, তারা ভালোবাসবে না।”
আমরা বাবা-মা হয়ে বলি,
“ভালো পড়তে হবে।”
অথচ বাড়ি ফিরে বলি,
“আরও একটু রোগা হলে সুন্দর লাগবে।”
নিজেরাই বুঝি না, এসব কথা আসলে কেমন কষ্ট দেয়।
একবার আমি ছোট্ট একটা পরীক্ষা করলাম। ওর ফোন থেকে সব ফিল্টার অ্যাপ ডিলিট করলাম।
প্রথম দিন সে কাঁদল।
পরের দিন রাগ করল।
তৃতীয় দিন দেখলাম, নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলছে,
“আমার চোখটা আসলে ছোট না এতটা।”
এটা বিশাল কোনো সমাধান না। তবু শুরু তো। আমাদের মেয়েদের বলতে হবে—তোমার দাম ত্বকের রঙে না, তোমার হাসিতে।
ফোন বন্ধ হলে, যে মুখটা থাকে, ওটাই আসল তুমি।
আমি চাই,
আমার মেয়ে একদিন ফিল্টার ছাড়া ছবি তুলে হাসুক। বলুক, “এই আমি।”
#নিজেরমুখ #আসলসৌন্দর্য #মেয়েদেরগল্প
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।