অসৌজন্য ব্যবহার: এক নীরব সামাজিক মহামারী
লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ধরণঃ বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ
তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৫
মানবসভ্যতা যতই উন্নতির শিখরে ওঠুক, আমাদের অন্তর্জগত যেন ততই বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শহরের উজ্জ্বল আলো, নীরব রাস্তাঘাট, ব্যস্ত মানুষ—সবকিছুই বহির্জগতের দৃশ্য, কিন্তু সেই আলো পৌঁছাচ্ছে না মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
রাস্তার এক কোণে বসে থাকা বৃদ্ধা, ফ্যাকাশে আলোয় হাত মুছে চোখের ভেতর আঁচড়া চিহ্ন রেখে বসে আছেন। স্কুলছাত্রীর অস্থির পদক্ষেপ, রিকশাচালকের ক্লান্ত চাহনি—এই নগরের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোতে ফুটে ওঠে মানবিক সংযোগের অভাব।
সৌজন্যবোধ—যে গুণ একসময় সামাজিক অস্তিত্বের গৌরব ছিল, আজ তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত সমাজ গড়তে ব্যস্ত, তবু প্রতিদিনের আচরণে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত রূঢ়তা। মুখে সভ্যতার বুলি, মনে হিংসা ও অবজ্ঞা। আমরা ‘মানুষ’ হয়ে থেকেও মানুষকে ‘মানুষ’ ভাবতে ভুলে যাচ্ছি। সভ্যতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার, যা নিঃশব্দে সমাজের রক্তপ্রবাহে বিষ মিশাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী এরভিং গফম্যান তাঁর বই The Presentation of Self in Everyday Life–এ লিখেছেন:
“Society functions through ritual civility—when that civility erodes, social order begins to decay.”(অর্থাৎ, সামাজিক বিন্যাস টিকে থাকে পরস্পরের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণের ভিত্তিতে। যখন সেই সৌজন্য হারিয়ে যায়, তখন সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে।)
একসময় আমাদের দেশে ‘ভদ্রতা’ ছিল পারিবারিক উত্তরাধিকার। পিতা সন্তানের মুখে প্রথম যে শিক্ষা দিতেন—
“বড়দের সম্মান করো, ছোটদের আদর দাও।”
আজ সেই মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে আধুনিকতার স্রোতে। অফিসের নবীন কর্মীর রূঢ়তা ঘরে ফেরে, বাজারে বিক্রেতার অভব্যতা ক্রেতার উদাসীনতায় মিলিত হয়। স্কুলছাত্র ক্লাসে প্রবেশ করে সহপাঠীর তিক্ত মন্তব্য শুনে অস্থির হয়; এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে সমাজের নৈতিক ভিত্তি ক্ষয় করছে।
অসৌজন্যতা এখন এক সামাজিক ভাইরাসের মতো, যা একের মন থেকে আরেকের মনে ছড়িয়ে পড়ে। অফিস, বাজার, হাসপাতাল—প্রতিটি জায়গায় এই ভাইরাস নিঃশব্দে বিস্তার করছে।
মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যান তাঁর Social Intelligence গ্রন্থে বলেন:
“Empathy is the invisible glue that holds society together.”(কিন্তু আজ সেই “অদৃশ্য আঠা” শুকিয়ে গেছে। মানুষ এখন মানুষকে নয়, পরিস্থিতিকে দেখে। একজন ক্লায়েন্ট, রোগী বা যাত্রীকে আমরা বিরক্তির উৎস হিসেবে দেখি, নয় সহযোগিতার সুযোগ হিসেবে।)
বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ (২০২৩) জানিয়েছে—শহুরে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ নিয়মিত মানসিক চাপে ভোগেন, যার অন্যতম কারণ সামাজিক অবমাননা ও অসৌজন্য আচরণ।
বাসে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী, যাত্রাপথে সহযাত্রীদের উদাসীন দৃষ্টি ভোগ করে; বৃদ্ধা বাজারে জায়গা খুঁজে পায় না। প্রতিনিয়ত এই ক্ষুদ্র ক্ষতগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে কঠিন করে তোলে, আর সেই কঠিনতাই সমাজের নতুন সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়ায়।
আজ সরকারি অফিসে প্রবেশ করলেই মনে হয়—আমি যেন অনাহুত অতিথি, নিজের অধিকার চেয়ে অপরাধ করেছি। যে কর্মকর্তা আমার সেবা দেবার দায়িত্বে আছেন, তিনি যেন উপকার করছেন ব্যক্তিগত অনুগ্রহে।
একই চিত্র বাজারে, ব্যাংকে, হাসপাতালেও। হাসিমুখে সেবা দেওয়া এখন একরকম “সন্দেহজনক আচরণ”—যেন ভদ্রতার পেছনে কোনো স্বার্থ লুকিয়ে আছে।
এক দৃশ্য: ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বাবা, তার সন্তানকে কোলের মধ্যে ধরে, কর্মকর্তার রূঢ় আচরণে ধৈর্য হারাচ্ছেন। এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা মানুষের আত্মবিশ্বাসে ক্ষত রেখে যায়, এবং সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে তোলে।
এই মানসিক অবক্ষয়কে সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন “Cultural Depletion”—নৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের ক্ষয়। যে সমাজে মানুষ পরস্পরকে সম্মান দেয় না, সেই সমাজে আইন, ধর্ম বা উন্নয়ন কোনো স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না।
অসৌজন্য আচরণ শুধু কারো মনে দাগ ফেলে না—এটি ধীরে ধীরে সমাজের রক্তপ্রবাহে বিষ ঢেলে দেয়।
যখন মানুষ সম্মান হারায়, তার মধ্যে জন্ম নেয় ক্ষোভ, প্রতিহিংসা ও অবিশ্বাস। ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে সম্পর্ক, নষ্ট হয় সহানুভূতি, আর সমাজ পরিণত হয় এক ঠাণ্ডা যুদ্ধক্ষেত্রে।
আজকের সময়ের নীরব বিপর্যয়—“Silent Social Crisis”। আমরা অর্থে সমৃদ্ধ হচ্ছি, কিন্তু মানবিকতায় দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছি।
একটি জাতির পুনর্জাগরণ শুরু হয় তার মানুষের আচরণে। কোনো নীতি, সংবিধান বা আইন দিয়ে সৌজন্য জন্মানো যায় না—এটি আসে ব্যক্তিগত চেতনা থেকে।
যদি প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন সচেতনভাবে—
কাউকে হেসে সম্ভাষণ জানায়,
অপরকে ছোট না করে,
সেবা দিতে গিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে,
তাহলে সেই সামান্য সৌজন্যই একদিন সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে পারে।
সৌজন্য কোনো দুর্বলতা নয়, এটি সভ্যতার পরিমাপ। একটি জাতি তখনই মহৎ হয়, যখন তার মানুষ পরস্পরের প্রতি মমতা ও সম্মান দেখায়।
আমরা হয়তো অর্থে গরিব, সম্পদে সীমিত, কিন্তু আচরণে গরিব হওয়ার অধিকার আমাদের নেই। একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় তার নাগরিকের ব্যবহারেই প্রকাশ পায়।
অর্থনীতি সমাজকে এগিয়ে নেয়, কিন্তু নৈতিকতা সমাজকে টিকিয়ে রাখে। সভ্যতার মাপকাঠি GDP নয়, বরং আমরা কেমন করে একে অপরকে দেখি, শুনি, ও সম্মান করি—তাতেই নির্ধারিত হয় আমাদের মানবিক অবস্থান।
মহাত্মা গান্ধীর কথা দিয়েই শেষ করছি,
“সৌজন্য হচ্ছে সভ্যতার প্রথম ধাপ,
আর তার অনুপস্থিতি—সভ্যতার মৃত্যু।”
তথ্যসূত্র
Erving Goffman – The Presentation of Self in Everyday Life, Penguin, 1959.
Daniel Goleman – Social Intelligence, Bantam Books, 2006.
National Institute of Mental Health (NIMH), Bangladesh – Urban Mental Health Report 2023.
Mahatma Gandhi – Collected Works of Mahatma Gandhi, Vol. 45.
World Values Survey 2022 – Civic Behavior Index: South Asia Findings.
#সৌজন্যবোধ #সামাজিক_সংকট #নৈতিকতা #সভ্যতা #মানবিকতা #আচরণের_সংস্কৃতি #বাংলাদেশ #বিশ্লেষণধর্মী_প্রবন্ধ #enolej_idea #মোহাম্মদজাহিদহোসেন
লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ধরণঃ বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ
তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৫
মানবসভ্যতা যতই উন্নতির শিখরে ওঠুক, আমাদের অন্তর্জগত যেন ততই বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শহরের উজ্জ্বল আলো, নীরব রাস্তাঘাট, ব্যস্ত মানুষ—সবকিছুই বহির্জগতের দৃশ্য, কিন্তু সেই আলো পৌঁছাচ্ছে না মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
রাস্তার এক কোণে বসে থাকা বৃদ্ধা, ফ্যাকাশে আলোয় হাত মুছে চোখের ভেতর আঁচড়া চিহ্ন রেখে বসে আছেন। স্কুলছাত্রীর অস্থির পদক্ষেপ, রিকশাচালকের ক্লান্ত চাহনি—এই নগরের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোতে ফুটে ওঠে মানবিক সংযোগের অভাব।
সৌজন্যবোধ—যে গুণ একসময় সামাজিক অস্তিত্বের গৌরব ছিল, আজ তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত সমাজ গড়তে ব্যস্ত, তবু প্রতিদিনের আচরণে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত রূঢ়তা। মুখে সভ্যতার বুলি, মনে হিংসা ও অবজ্ঞা। আমরা ‘মানুষ’ হয়ে থেকেও মানুষকে ‘মানুষ’ ভাবতে ভুলে যাচ্ছি। সভ্যতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার, যা নিঃশব্দে সমাজের রক্তপ্রবাহে বিষ মিশাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী এরভিং গফম্যান তাঁর বই The Presentation of Self in Everyday Life–এ লিখেছেন:
“Society functions through ritual civility—when that civility erodes, social order begins to decay.”(অর্থাৎ, সামাজিক বিন্যাস টিকে থাকে পরস্পরের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণের ভিত্তিতে। যখন সেই সৌজন্য হারিয়ে যায়, তখন সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে।)
একসময় আমাদের দেশে ‘ভদ্রতা’ ছিল পারিবারিক উত্তরাধিকার। পিতা সন্তানের মুখে প্রথম যে শিক্ষা দিতেন—
“বড়দের সম্মান করো, ছোটদের আদর দাও।”
আজ সেই মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে আধুনিকতার স্রোতে। অফিসের নবীন কর্মীর রূঢ়তা ঘরে ফেরে, বাজারে বিক্রেতার অভব্যতা ক্রেতার উদাসীনতায় মিলিত হয়। স্কুলছাত্র ক্লাসে প্রবেশ করে সহপাঠীর তিক্ত মন্তব্য শুনে অস্থির হয়; এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে সমাজের নৈতিক ভিত্তি ক্ষয় করছে।
অসৌজন্যতা এখন এক সামাজিক ভাইরাসের মতো, যা একের মন থেকে আরেকের মনে ছড়িয়ে পড়ে। অফিস, বাজার, হাসপাতাল—প্রতিটি জায়গায় এই ভাইরাস নিঃশব্দে বিস্তার করছে।
মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যান তাঁর Social Intelligence গ্রন্থে বলেন:
“Empathy is the invisible glue that holds society together.”(কিন্তু আজ সেই “অদৃশ্য আঠা” শুকিয়ে গেছে। মানুষ এখন মানুষকে নয়, পরিস্থিতিকে দেখে। একজন ক্লায়েন্ট, রোগী বা যাত্রীকে আমরা বিরক্তির উৎস হিসেবে দেখি, নয় সহযোগিতার সুযোগ হিসেবে।)
বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ (২০২৩) জানিয়েছে—শহুরে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ নিয়মিত মানসিক চাপে ভোগেন, যার অন্যতম কারণ সামাজিক অবমাননা ও অসৌজন্য আচরণ।
বাসে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী, যাত্রাপথে সহযাত্রীদের উদাসীন দৃষ্টি ভোগ করে; বৃদ্ধা বাজারে জায়গা খুঁজে পায় না। প্রতিনিয়ত এই ক্ষুদ্র ক্ষতগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে কঠিন করে তোলে, আর সেই কঠিনতাই সমাজের নতুন সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়ায়।
আজ সরকারি অফিসে প্রবেশ করলেই মনে হয়—আমি যেন অনাহুত অতিথি, নিজের অধিকার চেয়ে অপরাধ করেছি। যে কর্মকর্তা আমার সেবা দেবার দায়িত্বে আছেন, তিনি যেন উপকার করছেন ব্যক্তিগত অনুগ্রহে।
একই চিত্র বাজারে, ব্যাংকে, হাসপাতালেও। হাসিমুখে সেবা দেওয়া এখন একরকম “সন্দেহজনক আচরণ”—যেন ভদ্রতার পেছনে কোনো স্বার্থ লুকিয়ে আছে।
এক দৃশ্য: ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বাবা, তার সন্তানকে কোলের মধ্যে ধরে, কর্মকর্তার রূঢ় আচরণে ধৈর্য হারাচ্ছেন। এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা মানুষের আত্মবিশ্বাসে ক্ষত রেখে যায়, এবং সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে তোলে।
এই মানসিক অবক্ষয়কে সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন “Cultural Depletion”—নৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের ক্ষয়। যে সমাজে মানুষ পরস্পরকে সম্মান দেয় না, সেই সমাজে আইন, ধর্ম বা উন্নয়ন কোনো স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না।
অসৌজন্য আচরণ শুধু কারো মনে দাগ ফেলে না—এটি ধীরে ধীরে সমাজের রক্তপ্রবাহে বিষ ঢেলে দেয়।
যখন মানুষ সম্মান হারায়, তার মধ্যে জন্ম নেয় ক্ষোভ, প্রতিহিংসা ও অবিশ্বাস। ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে সম্পর্ক, নষ্ট হয় সহানুভূতি, আর সমাজ পরিণত হয় এক ঠাণ্ডা যুদ্ধক্ষেত্রে।
আজকের সময়ের নীরব বিপর্যয়—“Silent Social Crisis”। আমরা অর্থে সমৃদ্ধ হচ্ছি, কিন্তু মানবিকতায় দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছি।
একটি জাতির পুনর্জাগরণ শুরু হয় তার মানুষের আচরণে। কোনো নীতি, সংবিধান বা আইন দিয়ে সৌজন্য জন্মানো যায় না—এটি আসে ব্যক্তিগত চেতনা থেকে।
যদি প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন সচেতনভাবে—
কাউকে হেসে সম্ভাষণ জানায়,
অপরকে ছোট না করে,
সেবা দিতে গিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে,
তাহলে সেই সামান্য সৌজন্যই একদিন সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে পারে।
সৌজন্য কোনো দুর্বলতা নয়, এটি সভ্যতার পরিমাপ। একটি জাতি তখনই মহৎ হয়, যখন তার মানুষ পরস্পরের প্রতি মমতা ও সম্মান দেখায়।
আমরা হয়তো অর্থে গরিব, সম্পদে সীমিত, কিন্তু আচরণে গরিব হওয়ার অধিকার আমাদের নেই। একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় তার নাগরিকের ব্যবহারেই প্রকাশ পায়।
অর্থনীতি সমাজকে এগিয়ে নেয়, কিন্তু নৈতিকতা সমাজকে টিকিয়ে রাখে। সভ্যতার মাপকাঠি GDP নয়, বরং আমরা কেমন করে একে অপরকে দেখি, শুনি, ও সম্মান করি—তাতেই নির্ধারিত হয় আমাদের মানবিক অবস্থান।
মহাত্মা গান্ধীর কথা দিয়েই শেষ করছি,
“সৌজন্য হচ্ছে সভ্যতার প্রথম ধাপ,
আর তার অনুপস্থিতি—সভ্যতার মৃত্যু।”
তথ্যসূত্র
Erving Goffman – The Presentation of Self in Everyday Life, Penguin, 1959.
Daniel Goleman – Social Intelligence, Bantam Books, 2006.
National Institute of Mental Health (NIMH), Bangladesh – Urban Mental Health Report 2023.
Mahatma Gandhi – Collected Works of Mahatma Gandhi, Vol. 45.
World Values Survey 2022 – Civic Behavior Index: South Asia Findings.
#সৌজন্যবোধ #সামাজিক_সংকট #নৈতিকতা #সভ্যতা #মানবিকতা #আচরণের_সংস্কৃতি #বাংলাদেশ #বিশ্লেষণধর্মী_প্রবন্ধ #enolej_idea #মোহাম্মদজাহিদহোসেন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।