Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অভিকের অমোঘ যাত্রা-উপন্যাস

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
142 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   03 অক্টোবর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!



রাত ছিল নীরব। শহরের আলোগুলো দূরের আকাশের তারার মতো মিটমিট করে জ্বলছিল, কিন্তু অভিকের হৃদয় ছিল নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো।


সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিল, চোখদুটো লালচে, ভেতরে চাপা বিষণ্ণতা, আর ঠোঁটে এক টুকরো ক্লান্তির হাসি।


হঠাৎ সে ফিসফিস করে বলল,“কথা দিচ্ছি… শবযাত্রার মতো সুবেশ আর পরিপাটি জীবনে ফিরে যাবো। যত ক্ষত, যত ঘৃণা—সব উগরে দেবো গাঢ় শূন্যতায়। আর নয় আপসের মতো নম্রতার মেঘ।”


এই প্রতিশ্রুতিই যেন তার জীবনের নতুন পথচলার প্রথম আলোকরেখা। কিন্তু প্রতিশ্রুতির ভেতর লুকিয়ে ছিল হাজারো প্রশ্ন, অনিশ্চয়তা আর ভয়।

অভিক জানত, সামনে যে পথ সে হাঁটবে—তা সহজ নয়, কিন্তু হয়তো একমাত্র মুক্তির পথ এটাই।


পরদিন ভোরে জানালা খুলে দাঁড়াল অভিক। আকাশের কোণে ভাঙা মেঘ, হাওয়ায় কাঁচা রোদ। তার চোখে ভেসে উঠল অতীত— কত সম্পর্ক, কত মুখ, কত প্রতিশ্রুতি, যেগুলো শেষে ভেঙে গিয়েছে কাঁচের মতো।


সে মনে পড়ল সেই দিনগুলো, যখন বন্ধুরা চারপাশে ভিড় করত, আড্ডায় হাসি-ঠাট্টায় ভরে উঠত সময়। অথচ আজ—ফোনটা নিঃশব্দ, দরজা নিঃসঙ্গ, দেয়ালের ঘড়ি শুধু টিকটিক করছে একঘেয়ে জীবনের মতো।


প্রেমও এসেছিল জীবনে, কিন্তু প্রেম মানেই ছিল আঘাতের অন্য নাম। যতবার সে হাত বাড়িয়েছে, ততবার ভেঙে গেছে বিশ্বাস।

অভিক একসময় বিশ্বাস করত, 

“মানুষ ভালোবাসলেই মানুষকে আঁকড়ে ধরে রাখে।”

কিন্তু বাস্তব তাকে শিখিয়েছে, 

“মানুষ ভালোবাসলেও চলে যায়, যদি তার যাওয়ার কারণ থাকে।”


এই স্মৃতিরা অভিককে গ্রাস করছিল। তবু সে মনে মনে বলল,

“আমি অতীতের ছায়ায় বাঁচতে চাই না। সামনে পথ আছে, অন্ধকার হলেও হাঁটতে হবে।”


রাত নামল শহরে। একা হাঁটছিল অভিক, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের নিচে লম্বা ছায়া পড়ে যাচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই শহর এক বিশাল সমাধিক্ষেত্র, যেখানে সে একাই টিকে আছে।


হঠাৎ কানে এলো মৃদু হাসির শব্দ। সে ঘুরে দেখল, একটা কফিশপের কোণায় বসে আছে এক মেয়ে। জানালার ভেতর আলো এসে তার মুখে খেলছিল ছায়া-আলো। চোখে ছিল গভীর শান্তি, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন চাপা বিষণ্ণতা।


অভিকের মনে হলো, এ মুখ কোথাও আগে দেখেছে। অথবা হয়তো এ মুখই তার বহুদিনের খোঁজ।

সে ভেতরে গিয়ে মেয়েটির সামনে দাঁড়াল।

মেয়েটি মৃদু হেসে বলল,

“আপনি কি বসবেন?”

অভিক থমকে গেল। তারপর ধীরে ধীরে চেয়ার টেনে বসল।

কিছুক্ষণ নীরবতা। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, জানালায় ফোঁটা এসে বাজছে।

মেয়েটি আবার বলল,

“আমি নিশি। আপনার নামটা জানতে পারি?”

অভিক ধীরে মাথা তুলল।

“অভিক।”


এই এক মুহূর্তেই যেন দুজনের মাঝে তৈরি হলো এক অদ্ভুত সম্পর্ক—অচেনা অথচ অদ্ভুতভাবে আপন।


অভিক অনুভব করল, নিশি হয়তো তার জীবনের অন্ধকার ভেদ করার প্রথম আলো।


কফিশপের সেই রাত থেকে নিশি যেন অভিকের ভেতরে জায়গা করে নিল।

তারা প্রতিদিন দেখা করত না, তবু প্রতিটি কথোপকথন তাদের মধ্যে অদ্ভুত এক বন্ধন তৈরি করছিল।


নিশি বলত খুব কম, কিন্তু তার নীরবতাই ছিল গভীর।

অভিকের মনে হতো—নিশির চোখের ভেতর লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প, যেগুলো সে কেবল আন্দাজ করতে পারে।


একদিন হঠাৎ নিশি বলে উঠল,

“জানো, অভিক… আকাশ যত বড়ই হোক, কখনও কখনও ভেঙে পড়ে মানুষের ভেতরেই।”


অভিক চমকে গেল। মনে হলো, এ বাক্যের ভেতর তার নিজের জীবনও লুকিয়ে আছে।

সে নিশির দিকে তাকাল—

“তাহলে আমরা কি সবাই ভাঙা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি?”


নিশি মৃদু হেসে বলল,

“হয়তো… কিন্তু কেউ কেউ আকাশ ভাঙলেও ভেতরে তারা বাঁচিয়ে রাখে। আর বাকিরা ডুবে যায় অন্ধকারে।”


অভিকের মনে হলো, নিশি তাকে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে অন্ধকারের ভেতর আলো দেখা যায়।


শীতের এক সন্ধ্যা। শহরের বাতাসে হিম, গলির মোড়ে গরম ভাপ ওঠা চা।

অভিক আর নিশি বসেছিল রেললাইনের ধারে।

ট্রেন আসছিল দূর থেকে, ধীরে ধীরে শব্দ বেড়ে উঠছিল—“ঠক ঠক ঠক…”


অভিক হঠাৎ বলল,

“নিশি, তুমি কি কখনও ভেবেছ জীবনটা আসলে কী? আমি যতবারই বুঝতে গেছি, ততবারই মনে হয়েছে কিছু যেন অসম্পূর্ণ থেকে গেল।”


নিশি চায়ের কাপে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুপ করে রইল। তারপর আস্তে বলল,

“জীবন মানেই অসম্পূর্ণতার সুর, অভিক। আমরা ভেবেই ভুল করি যে সবকিছু পূর্ণ হবে। অথচ আসল সৌন্দর্য তো এই অসম্পূর্ণতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে।”


অভিক নিশির দিকে তাকিয়ে থাকল। মনে হচ্ছিল, তার বুকের শূন্যতা নিশির কথাগুলো ভরে দিচ্ছে ধীরে ধীরে।


সে হঠাৎ আবেগে বলে ফেলল,

“নিশি, যদি তুমি আমার জীবনের পাশে থাকো, হয়তো আমি অসম্পূর্ণতাকেও ভালোবেসে ফেলতে পারব।”


নিশির চোখে এক মুহূর্তের জন্য কাঁপন এল।

কিন্তু সে কিছু বলল না, শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।


দিনগুলো এগোতে লাগল। অভিক অনুভব করছিল, নিশির প্রতি তার টান প্রতিদিন আরও গভীর হচ্ছে।

কিন্তু নিশি?

সে যেন দূরের আলো—দেখা যায়, স্পর্শ করা যায় না।

এক রাতে অভিক ফোন করল নিশিকে। অনেকক্ষণ ধরে ফোন বেজে গেল, শেষে নিশি ধরল।

তার কণ্ঠে ক্লান্তি—

“অভিক, এত রাতে ফোন করলে?”

“নিশি, আমি… আমি শুধু তোমাকে শুনতে চেয়েছিলাম।”

নিশি নীরব। কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে বলল—

“তুমি জানো না, অভিক… আমার জীবনে এমন কিছু আছে, যেগুলো আমি কারও সাথে ভাগ করতে পারব না। এমনকি তোমার সাথেও না।”

অভিক হতবাক হয়ে গেল।

“কেন নিশি? আমি কি এতটা অচেনা তোমার কাছে?”

নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“তুমি আমার কাছে অচেনা নও। কিন্তু কখনও কখনও পরিচিত মানুষকেই দূরে রাখতে হয়, কারণ কাছে আনলে হয়তো তারা ভেঙে যাবে।”

লাইন কেটে গেল।

অভিক অন্ধকার ঘরে বসে রইল, ফোনের স্ক্রিনে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে দেখতে।

সেই রাতে প্রথমবার তার মনে হলো—নিশির নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর রহস্য।


শীতের সকালে কুয়াশা জমে আছে শহরের রাস্তায়।

অভিক হাঁটছে, অথচ তার মনে অদ্ভুত ভার—নিশির সেই রাতের কথাগুলো তাকে ছিঁড়ে খাচ্ছে।


হঠাৎ সে শুনল পরিচিত কণ্ঠ।

নিশি দাঁড়িয়ে আছে এক ছোট বইয়ের দোকানের সামনে। চোখ লাল, যেন রাতভর ঘুম হয়নি।


অভিক কাছে যেতেই নিশি হেসে উঠল—কিন্তু সেই হাসিতে কোনো দীপ্তি নেই।

“অভিক, তুমি কি কখনও ভেবেছ মানুষ কেন মুখোশ পরে? কখনও কখনও নিজের ভেতরের দাগগুলো আড়াল করতেই না হয়ত?”


অভিক নিশির হাত ধরে বলল,

“তুমি কি আমাকে বলতে পারো তোমার ভেতরের দাগের গল্পটা? আমি ভাঙব না, নিশি। আমি তোমাকে আলোর মতো আঁকড়ে ধরব।”


নিশি নীরব।

তার চোখের কোণে জমে থাকা জল কুয়াশার ভেতর ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করল।


কয়েকদিন পর এক শীতল সন্ধ্যায়, নিশি প্রথমবার অভিককে নিয়ে গেল পুরোনো এক গলির ভেতর।

ওখানে ছোট্ট একটি বাসা।

দরজা খোলামাত্র অভিক দেখল—দেয়ালে ঝোলানো ছবি, তাতে এক তরুণ ছেলে ও এক ছোট মেয়ে।


নিশি থমকে দাঁড়াল।

তার ঠোঁট কাঁপল,

“ও আমার ভাই, আর ও… আমার ছোট বোন।”


অভিক অবাক হয়ে তাকাল।

নিশি ধীরে ধীরে বলল,

“আমার বাবা-মা আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন যখন আমি কলেজে পড়ি। ভাইটা চাকরির খোঁজে বের হয়েছিল, কিন্তু ফেরেনি আর। দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ছোট বোনটাকে আমি একাই বড় করেছি… কিন্তু সেও অসুখে চলে গেল। তখন থেকে আমি একা।”


অভিকের বুক হাহাকার করে উঠল।

সে নিশির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

“তুমি এত কষ্ট একা বইছো কেন, নিশি? 

তুমি কি ভেবেছ আমি তোমার এই অন্ধকারটাকে বুঝব না?”


নিশি ফিসফিস করে বলল,

“ভয় পাই, অভিক। যাকে কাছে আনি, সে হয়তো একদিন চলে যায়। তাই আমি কাউকে খুব কাছে আনতে পারি না।”


অভিক নিশির চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

“আমি যাব না, নিশি। আমি তোমার ছায়ার ভেতর আলো হয়ে থাকব।”


নিশির অতীত জানার পর অভিকের ভেতরে জন্ম নিল নতুন সাহস।

সে প্রতিজ্ঞা করল—যতই কষ্ট হোক, সে নিশির পাশে থাকবে।


কিন্তু নিশির দ্বিধা কাটছিল না।

একদিন হঠাৎ নিশি অভিককে বলল,

“তুমি কি জানো, ভালোবাসা কখনও কখনও বোঝা হয়ে যায়? 

আমি চাই না তুমি আমার বোঝা বইতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন ভুলে যাও।”


অভিক চমকে উঠল।

“ভালোবাসা যদি বোঝা হয়, তবে আমি খুশি মনেই সেই বোঝা বইব, নিশি। কারণ বোঝা নয়, এটা আমার জীবনের মানে।”


নিশি চোখ ফিরিয়ে নিল। তার ভেতরে ভয়, সন্দেহ আর অদ্ভুত এক আকর্ষণের দোদুল্যমানতা চলছিল। সে বুঝতে পারছিল, অভিককে যতই দূরে ঠেলতে চায়, অভিক ততই কাছে টেনে নিচ্ছে তাকে।


সেই রাতে নিশি আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করল,

“হয়তো সত্যিই ভালোবাসা মানুষকে ভেঙে দেয় না… বরং জোড়া লাগায়।”


শহরের আকাশে অদ্ভুত এক কালো মেঘ জমেছে।

অভিক আর নিশি হাঁটছিল নদীর ধারে, দু’জনের হাত একসাথে।


হঠাৎ নিশি বলল,

“তুমি জানো, অভিক? 

মানুষ শুধু নিজের ভেতরের ভাঙনের জন্যই কষ্ট পায় না, বাইরের পৃথিবীও তাকে আঘাত করে।”


অভিক অবাক হয়ে তাকাল।

নিশি নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

“আমার অতীত জানলে অনেকেই আমাকে গ্রহণ করতে পারবে না। তারা বলবে—আমি ভাঙা মেয়ে, ক্ষতবিক্ষত জীবন নিয়ে কারও প্রাপ্য নই।”


অভিক থেমে দাঁড়িয়ে নিশির চোখে চোখ রাখল—

“আমি কি মানুষ নই, নিশি? আমি যদি তোমাকে আমার জীবনের প্রাপ্য ভাবি, তবে আর কারো কথার কোনো মূল্য আছে?”


তাদের কথার মাঝেই হঠাৎ আকাশে বজ্রপাত হলো।

নদীর কালো জলে ঝলসে উঠল আগুনের রেখা।

নিশি মনে মনে ভাবল—অভিক সত্যিই কি এই অগ্নিপথে তার পাশে থাকতে পারবে?


কিছুদিন পর শহরের অলিগলিতে কানাঘুষো শুরু হলো। অভিক আর নিশিকে প্রায়ই একসাথে দেখা যায়। বন্ধুরা, প্রতিবেশীরা—কেউ কেউ সমর্থন দিল, আবার অনেকে টিপ্পনী কাটল।


একদিন অভিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাহুল সরাসরি বলে দিল,

“দোস্ত, তুই কী করছিস বুঝছিস? 

নিশি তো একা, তার অতীত নিয়েই কত প্রশ্ন! তুই কি ভেবেছিস পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে ওকে রক্ষা করতে পারবি?”


অভিক দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

“হ্যাঁ, রাহুল। আমি ওকে রক্ষা করব। মানুষ যদি অতীতের শিকল দিয়ে বর্তমানকে বেঁধে রাখে, তবে ভবিষ্যৎ জন্মই নেবে না।”


কিন্তু সহজ ছিল না কিছুই।

অভিকের মা খবর পেলেন।

তিনি তীব্র কণ্ঠে বললেন,

“অভিক, তুমি আমাদের মান-সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিতে চাও?

 ওই মেয়ের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক মানতে পারব না।”


অভিক স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চোখে তখনও ভেসে উঠল নিশির মুখ—যেন সমাজের সব দেয়াল ভেদ করেই সেই মুখ তাকে ডাকছে।


এই সময় অভিক আর নিশির সম্পর্ক আরও গভীর হলো। সমাজের দেয়াল, পরিবারের নিষেধ—সবকিছু উপেক্ষা করে তারা নিজেদের পৃথিবী গড়তে চাইছিল।


একদিন নিশি চুপচাপ বলল,

“অভিক, জানো? 

কখনও কখনও আমি ভয় পাই। তোমাকে হারানোর ভয়। হয়তো তোমার পরিবার, তোমার সমাজ তোমাকে আমার থেকে দূরে টেনে নেবে।”


অভিক নিশির হাত শক্ত করে ধরে বলল,

“শোনো নিশি, আমি হয়তো হাজার আঘাত খাব, তবুও তোমাকে ছাড়ব না। তুমি আমার ভেতরের আগুন। আমি তোমাকে নিয়েই বাঁচব।”


সেই রাতে অভিক খাতায় লিখল,

“ভালোবাসা মানে শুধু সুখ নয়, ভালোবাসা মানে আগুনে পুড়েও অবিচল থাকা। আমি নিশির সাথে আগুন পেরিয়ে আলোয় পৌঁছাবো।”


বাইরে ঝড় বইছিল, অথচ ভেতরে দু’জনের মনে জন্ম নিচ্ছিল এক অদ্ভুত শান্তি। যেন ঝড়ের ভেতরেই তারা খুঁজে পেয়েছে আশ্রয়।


অভিকের ঘরে আজ তীব্র অস্থিরতা।

মা কাঁদছেন,

“বাবা, এত কষ্ট করে তোমাকে বড় করেছি। তুমি কি আমাদের মুখ রক্ষা করতে পারবে না? 

ওই মেয়ের সঙ্গে তোমার বিয়ে মানা যাবে না।”


অভিক শান্ত গলায় বলল,

“মা, মান-সম্মান কি অন্যের চোখে লুকানো কোনো কাপড়, যা মানুষকে পরাতে হয়? 

আমি যদি একজন মানুষকে ভালোবাসি, তবে সেটা কি অসম্মান?”


অভিক এক মুহূর্ত থেমে রইল। তার চোখে অশ্রু জমল, কিন্তু কণ্ঠ দৃঢ় হলো,

“ঠিক আছে মা। আমি ঘর ছাড়ছি। নিশি আমার ঘর।”


সে বেরিয়ে এল। বাইরে ঝড়ো হাওয়ার মতো নিশি দাঁড়িয়ে ছিল। দু’জনের চোখে একসাথে আগুন আর অশ্রুর ঝিলিক।


অভিক ও নিশি একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিল।

একটি ছোট ভাড়া বাড়িতে তারা বসবাস শুরু করল। কিন্তু সহজ ছিল না কিছুই।


প্রতিদিনই কাজের জায়গায় অভিক শুনত কটু কথা।

“পরিবার ছেড়ে এসেছে, সমাজ ছেড়ে এসেছে, এমন মানুষকে বিশ্বাস করা যায়?”


অন্যদিকে নিশিও শুনত,

“মেয়েটাই নিশ্চয় অভিককে জাদু করে এনেছে। না হলে কে সংসার ভাঙে!”


অভিক রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিশির পাশে বসত।

নিশি চুপচাপ মাথা তার কাঁধে রেখে বলত,

“তুমি আছো, এটাই যথেষ্ট। পৃথিবীর কটাক্ষ আমার ভেতরের ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারবে না।”


তবে এই ভালোবাসার জন্য তাদের দিতে হচ্ছিল রক্তক্ষরণের মতো মূল্য।


অভাব, দুঃখ, মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে তাদের জীবন এক অগ্নিকুণ্ড হয়ে উঠল।


তবুও, সেই আগুনের ভেতরেই তারা খুঁজে পেল এক অদ্ভুত শান্তি। কারণ এ আগুনে তারা একসাথে ছিল।


দিন কেটে যাচ্ছিল। একদিন অভিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার—সব মিলে তার শরীর ভেঙে পড়ল।


হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে সে নিশির হাত শক্ত করে ধরে বলল,

“নিশি, আমি যদি হেরে যাই, তুমি প্রতিজ্ঞা করো,আমার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখবে। ভালোবাসাকে কখনও ভয়ের কাছে হারতে দেবে না।”


নিশির চোখে ঝরতে লাগল অশ্রুধারা।

সে বলল,

“না অভিক, তুমি হারবে না। তুমি আমার জীবন, তুমি আমার ভোরের আলো। আমরা একসাথে থাকব, মৃত্যুর ওপারেও।”


অভিক চোখ বন্ধ করে শান্ত স্বরে ফিসফিস করল, “ভালোবাসা কখনও মরে না, নিশি। শরীর হারায়, কিন্তু ভালোবাসা আকাশে, বাতাসে, মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায়।”


সেই রাতেই অভিক শেষ নিঃশ্বাস নিল।

নিশি ভেঙে পড়ল, তবু মনে মনে দৃঢ় হল,

“আমি বাঁচব অভিকের স্বপ্ন নিয়ে। সমাজকে প্রমাণ করব—ভালোবাসা আগুনে পোড়েও টিকে থাকে।”


বছর কয়েক পর শহরের রাস্তায় মানুষ দেখল,

একজন শক্তিশালী নারী, নাম নিশি।

তিনি সমাজে আশ্রয়হীন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি উচ্চারণ করেন,

“আমি অভিকের অসমাপ্ত পথ চলছি।”


এভাবেই অভিকের যাত্রা শেষ হলো, আর নিশির যাত্রা শুরু হলো।

তাদের গল্প থেকে শহর শিখল,

ভালোবাসা কেবল সম্পর্ক নয়, ভালোবাসা এক অমোঘ যাত্রা।


#অভিকের_গল্প #নিশির_ভালোবাসা #অমোঘ_যাত্রা #প্রেম_ও_সংগ্রাম #মানসিক_দ্বন্দ্ব #ভালোবাসা_অমর #সমাজ_ও_প্রতিবাদ #অভিক_নিশি #ভালোবাসার_উপন্যাস #জীবনের_শিক্ষা #ক্ষত_আর_শক্তি #প্রেমের_বিজয় #মোহাম্মদজাহিদহোসেনimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1168
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ভয়ের বাইরে: হৃদয়ের অন্তর্দৃষ্টি ও মুক্তির যাত্রা লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরণঃ &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
510 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নক্ষত্র-আশীর্বাদ ও শুভ যাত্রাআকাশে বা অন্তরিক্ষে, জলে কিংবা ভূমির পরে,নক্ষত্ররা জা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
111 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সমাজ নামের যে জাহাজে আমরা সবাই একসাথে ভেসে চলেছি, সেখানে নারীরা দীর্ঘদিন ছিলেন নাবি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
142 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস লিখতে চাইলে আপনার কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং প্রস্তুতি প্রয়োজন। এটি গ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
126 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মুখোশের যুগে মানুষ খোঁজা   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী সামাজিক প্রবন্ধ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...