Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

ই-নলেজ আইডিয়া

আপনার লেখার কি আছে নিজস্ব পরিচয়, স্বীকৃতি ও স্থায়ী ঠিকানা?

Author ID, স্বতন্ত্র eID, লেখার পরিচয় যাচাই, জীবন্ত পোর্টফোলিও ও ফ্রি প্রমোশন—লেখালেখির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম।

বিস্তারিত পড়ুন ↓

আমাদের মনের ভেতর প্রতিদিন কত শত ভাবনা আসে, কত অনুভূতি জন্ম নেয়, কত কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিছু কথা কাউকে বলা হয় না, কিছু অনুভূতি ভাষা খুঁজে পায় না, আবার কিছু ভাবনা মুহূর্তের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় চিরতরে।

অথচ সেই ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন একটি সুন্দর গল্প হয়ে উঠতে পারত, একটি কবিতা হয়ে কারও হৃদয় ছুঁতে পারত, কিংবা এমন কোনো লেখা হয়ে উঠতে পারত, যার মধ্যে অন্য কেউ খুঁজে পেত নিজের জীবনের গল্প।

তাই যা কিছু ভাবনায় আসে, তা এক বাক্যে হলেও লিখে রাখা উচিত। কে জানে, আজকের ছোট্ট একটি ভাবনাই হয়তো একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লেখাটি হয়ে উঠবে!

আর একটা কথা ভেবেছেন? একদিন হয়তো আপনি অনেক দূরে চলে যাবেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও আপনার নাম মুছে যেতে পারে। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া লেখাগুলো আপনার অনুভূতি, চিন্তা ও অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কেউ হয়তো আপনার লেখা পড়ে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন, আপনার অজানা কোনো অনুভূতি বুঝতে পারবেন। আপনি তাঁর কাছে অপরিচিত হয়েও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর অনুভূতির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন। এটাই তো লেখার এক অসাধারণ ক্ষমতা!

কিন্তু এত সৃষ্টির স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো লেখা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়, আইডির কিছু হলে লেখার সোর্সও মুছে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেখাগুলো ছড়িয়ে থাকায় নিজের লেখক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও তৈরি করা কঠিন। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার তারিখ বা তথ্যও পরিবর্তন করা সম্ভব। আবার কেউ লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করলে মূল লেখককেই অনেক সময় নিজের লেখার পরিচয় ও প্রকাশনার উৎস খুঁজে বের করে প্রমাণ করতে হয়।

একজন লেখক কি তাঁর সময় ও শ্রম লেখালেখিতে ব্যয় করবেন, নাকি নিজের লেখার লিংক ফেরি করে বেড়াবেন?

এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে Enolej Idea। এটি কেবল লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; লেখকের নিজস্ব পরিচয়, প্রতিটি সৃষ্টির স্বতন্ত্র পরিচয়, লেখার সংরক্ষণ, স্বীকৃতি এবং পাঠকের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত ডিজিটাল লেখালেখির ইকোসিস্টেম।

১. নিজস্ব লেখক পরিচয় — Author ID

প্রতিটি লেখকের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র লেখক আইডি নম্বর। নিজের লেখক প্রোফাইলে পরিচিতি, প্রকাশিত লেখা ও লেখালেখির পথচলা একসঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন। এই Author ID Bio, CV কিংবা নিজের বইয়েও ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে লেখক হিসেবে আপনার পরিচয়ের জন্য থাকবে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানা।

২. প্রতিটি লেখার আলাদা পরিচয় — eID

একজন লেখকের প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র eID। এটি নির্দিষ্ট লেখাটিকে তার মূল প্রকাশনা ও লেখকের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। মনে রাখবেন, Author ID হলো লেখকের পরিচয়, আর eID হলো নির্দিষ্ট লেখার পরিচয়।

৩. eID Verification System

eID Verified: লেখার সঙ্গে স্বতন্ত্র eID ও মূল প্রকাশনার রেফারেন্স যুক্ত করার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে লেখাটির পরিচয় ও Enolej Idea-তে মূল প্রকাশনার তথ্য তুলে ধরা যায়।

eID Scan: eID Verified চিহ্নযুক্ত লেখা স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে সংশ্লিষ্ট লেখক, eID ও মূল প্রকাশনার পরিচয় যাচাই করার সুবিধা।

eID Bridge: বাইরের প্রকাশনা বা প্ল্যাটফর্মেও eID ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, যাতে মূল লেখার পরিচয় ও Enolej Idea-তে প্রকাশিত লেখার সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে।

eID ব্যবস্থা লেখার পরিচয় ও মূল প্রকাশনার তথ্য যাচাই এবং স্বত্বের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। এটি নিজে থেকে আইনি কপিরাইট নিবন্ধনের বিকল্প নয়।

৪. জীবন্ত লেখক পোর্টফোলিও

আপনার সব লেখা এক জায়গায় সাজিয়ে তৈরি করুন নিজের জীবন্ত পোর্টফোলিও। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখা যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আপনার লেখক পরিচয়। পাঠকও সহজেই এক জায়গা থেকে আপনার সব সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

৫. লেখালেখির আরও সুবিধা

সিরিজ ও পর্ব: ধারাবাহিক লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজিয়ে রাখুন, যাতে পাঠক সহজেই পরবর্তী পর্বগুলো খুঁজে পান।

Draft ও Notes: অসম্পূর্ণ লেখা, প্রাথমিক ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নোট সংরক্ষণ করুন।

এক ক্লিকে ই-বুক ও পাণ্ডুলিপি: নিজের প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করে ই-বুক বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করুন।

পাঠকের সঙ্গে সংযোগ: মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন।

Points, Badges ও Ranking: লেখালেখি ও পাঠক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পয়েন্ট, ব্যাজ ও র‍্যাঙ্কিং অর্জনের সুযোগ।

ফ্রি প্রমোশন ও Google Discoverability: নিজের লেখা ও লেখক পরিচিতি আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুরু করতে পারেন আজই।

আপনি নতুন লেখক হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন—নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে ভালোবাসলেই শুরু করতে পারেন। প্রতিটি লেখাই অসাধারণ হতে হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ভাবনাগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে নিজের লেখকসত্তাকে গড়ে তোলা।

আপনার ভাবনাগুলো মূল্যবান। সেগুলো শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও যত্ন করে রেখে দিন।

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline] →

Enolej Idea — Write. Preserve. Be remembered.

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৯

লেখা যখন কণ্ঠে! শুনতে প্রস্তুত? প্রতি শনি, সোম ও বুধবার | বিকেল ৪টা ▶ FACEBOOK | ▶ YOUTUBE
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (397 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
eID স্ক্যান · লেখাটি যাচাই করা হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন…

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️


#পর্ব: ১৯


#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশীন একটা ঘোষণা দিল।


— আজ আমি কারও সঙ্গে ঝগড়া করব না!


চায়ের কাপ হাতে বসে থাকা তার মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।


— বাহ! আজ সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠেছে?


জারা কোমরে হাত রাখল।


— আম্মু, তুমি কি আমাকে নিয়ে মজা করছ?


— আরে না মা! তুই যে বললি ঝগড়া করবি না, তাই অবাক হলাম।


— মানুষ কি বদলাতে পারে না?


মা হেসে বললেন,


— অবশ্যই পারে। তবে তোর এই পরিবর্তনের খবরটা রুদ্রকে জানিয়ে দিই?


জারা সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,


— একদম না!


মা হেসে ফেললেন।


— এই তো! সকাল সকাল প্রথম ঝগড়াটা হয়ে গেল।


জারা কপালে হাত চাপড়াল।


— হে আল্লাহ! এই বাড়িতে আমার শান্তি বলে কিছু নেই!


ঠিক তখনই ফোনে রুদ্রের মেসেজ এল।


রুদ্র: সুপ্রভাত, ঝগড়ার রানী। আজ ঝগড়ার দোকান বন্ধ নাকি খোলা?


জারা: বন্ধ। আজ থেকে আমি ভদ্র মানুষ।


রুদ্র: তাহলে আমার পুরোনো ঝগড়ার রানীকে ফিরিয়ে দাও। নতুন মানুষটাকে আমার একদম পছন্দ হচ্ছে না।


জারা দাঁত চেপে উত্তর দিল,


জারা: তোর সঙ্গে কথা বলব না।


রুদ্র: আহা! মাত্র তিনটা মেসেজেই দোকান খুলে গেল!


জারা ফোনটা বিছানায় রেখে বিড়বিড় করল,


— এই ছেলেটাকে আমি একদিন ঠিক করেই ছাড়ব!


দরজার বাইরে থেকে মা বললেন,


— কাকে ঠিক করবি মা?


জারা চোখ বন্ধ করল।


দিনটা শুরু হওয়ার আগেই তার শান্তির বিদায় হয়ে গেছে!


বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে জারা দেখল, রুদ্র গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে দুটো ফুচকার প্যাকেট।


জারা কাছে যেতেই রুদ্র একটা প্যাকেট এগিয়ে দিল।


— নাও, তোমার জন্য।


জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।


— ফুচকা কেন?


— আজ তুই ঘোষণা দিয়েছিস, ঝগড়া করবি না। তাই ভাবলাম, একটা শান্তিচুক্তি করা দরকার।


— ফুচকা দিয়ে শান্তিচুক্তি?


— অবশ্যই! পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হয়। আমাদের সমস্যার সমাধান ফুচকার মাধ্যমে হতে পারে।


জারা প্যাকেটটা হাতে নিলেও মুখ গম্ভীর রাখল।


— আমি ফুচকা খাচ্ছি মানে এই না যে তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি।


রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,


— অবশ্যই না। তুই ফুচকা খাচ্ছিস, আর আমি আশা করছি।


— কীসের আশা?


— অন্তত একটা ফুচকা আমাকে দিবি।


জারা সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটটা বুকের কাছে টেনে নিল।


— নিজেরটা খা!


রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলল।


— আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সত্যিই অন্ধকার।


জারা ফুচকা মুখে দিয়ে বলল,


— তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত নই।


রুদ্র নিজের প্যাকেট খুলতে খুলতে বলল,


— আমিও না। তবে তোর সঙ্গে ঝগড়া না হলে আমার দিনটা অসম্পূর্ণ লাগে।


জারা চিবানো থামিয়ে তার দিকে তাকাল।


— তুই কি জন্মের পর থেকেই এমন বিরক্তিকর?


— না। তোর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে প্রতিভাটা বিকশিত হয়েছে।


জারা হেসে ফেলল।


রুদ্র কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার হাসি দেখলে তার মনে হতো, সারাদিনের ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তে দূর হয়ে যায়।


কিন্তু সে কথাটা মুখে বলল না। কারণ সে জানে, কথাটা বললেই জারা ফুচকার বদলে তার মাথায় পুরো প্যাকেট ঢেলে দিতে পারে!


ক্লাস শেষে মিমি জারার কাছে এসে বলল,


— শোন, আজ বিকেলে আমাদের একটা কাজ আছে।


জারা ব্যাগ গোছাতে গোছাতে জিজ্ঞেস করল,


— কী কাজ?


— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটা ছোট ভিডিও বানানো হবে। আমাদের নাটকের নায়ক-নায়িকার মজার মুহূর্তগুলো থাকবে।


জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।


— নায়ক-নায়িকা কারা?


মিমি মিষ্টি করে হাসল।


— তুই আর রুদ্র।


জারা ব্যাগ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল।


— আমি এই ভিডিওতে থাকব না।


ঠিক তখনই তন্ময় এসে বলল,


— কিন্তু তোদের দুজনের নাম তো প্রস্তাব করা হয়েছে!


জারা ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরল।


— আমার অনুমতি ছাড়া আমার নাম প্রস্তাব করেছিস কে?


তন্ময় সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত তুলে বলল,


— আরে, আমি করিনি! মিমি করেছে। আমি শুধু খবরটা দিলাম।


মিমি প্রতিবাদ করল,


— আমি একা করিনি! অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সবাই ভেবেছে, তোদের খুনসুটি ভিডিওতে দারুণ মানাবে।


জারা কিছু বলার আগেই রুদ্র এগিয়ে এল।


— ও রাজি না থাকলে ভিডিও হবে না। অন্য কাউকে নেওয়া যাবে।


রুদ্রের কথায় জারা একটু থমকে গেল। সে ভেবেছিল, ছেলেটা নিশ্চয়ই তাকে রাজি করানোর জন্য আবার বিরক্ত করা শুরু করবে।


কিন্তু রুদ্র এমনভাবে বিষয়টা মেনে নিল, যেন জারার সিদ্ধান্তই শেষ কথা।


কিছুক্ষণ ভেবে জারা বলল,


— আচ্ছা, আমি ভিডিও করব। তবে একটা শর্ত আছে।


মিমি খুশিতে হাততালি দিল।


— বল, কী শর্ত?


— ভিডিওতে রুদ্রকে যতবার হাসতে দেখা যাবে, ততবার ওকে আমার জন্য ফুচকা কিনতে হবে।


তন্ময় হেসে উঠল।


রুদ্র মাথা চুলকে বলল,


— তাহলে তো আমার সর্বস্ব বিক্রি হয়ে যাবে!


জারা মুচকি হেসে বলল,


— সমস্যা নেই। তোর হাসির দাম তো কম না!


কথাটা বলেই সে বুঝতে পারল, বাক্যটা একটু অন্যরকম শোনাচ্ছে।


মিমি আর তন্ময় একসঙ্গে বলে উঠল,


— ওহ! কী রোমান্টিক!


জারা আঙুল তুলে দুজনকে শাসাল।


— আর একটা শব্দ বললে তোদের দুজনকেই ভিডিও থেকে বাদ দেব!


রুদ্র নিচু স্বরে বলল,


— আমার হাসির দাম কম না—কথাটা কিন্তু ভালো ছিল।


জারা মুখ ঘুরিয়ে বলল,


— তুই শুনিসনি!


— আমার কান দুটো বেশ ভালো কাজ করে।


— তোর কান বন্ধ করে দেওয়া উচিত!


— কিন্তু তোর কথা শুনব কীভাবে?


জারা আর উত্তর দিল না। শুধু মুখ ঘুরিয়ে হাঁটতে শুরু করল। পেছনে মিমির হাসি থামতেই চাইছিল না।


বিকেলে ভিডিওর শুটিং শুরু হলো।


প্রথম দৃশ্যে জারাকে রুদ্রের ওপর রাগ করতে হবে, কারণ রুদ্র নাকি তাদের দেখা করার সময় ভুলে গেছে।


ক্যামেরা চালু হতেই জারা হাত গুটিয়ে বলল,


— তুমি সবসময় এমন করো! সময়ের কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে?


রুদ্র সংলাপ অনুযায়ী উত্তর দিল,


— আমি তো মাত্র পাঁচ মিনিট দেরি করেছি!


— পাঁচ মিনিট? মেয়েদের অপেক্ষা করানো অপরাধ!


— তাহলে তোমার সঙ্গে দেখা করার আগে কি আমাকে ঘড়ির সঙ্গে বিয়ে করতে হবে?


পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা তন্ময় হেসে উঠল।


মিমি চেঁচিয়ে বলল,


— কাট! এটা স্ক্রিপ্টে ছিল না!


রুদ্র কাঁধ ঝাঁকাল।


— চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে গেছে।


জারা চোখ পাকাল।


— তুই ইচ্ছা করে আমাকে রাগাচ্ছিস!


— অভিনয়ের বাস্তবতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।


পরের দৃশ্যে রুদ্রকে জারার জন্য চকলেট আনতে হবে। কিন্তু সে চকলেটের বদলে একটা ছোট চিরুনি নিয়ে এল।


জারা চিরুনিটা হাতে নিয়ে বলল,


— এটা কী?


রুদ্র নির্বিকারভাবে উত্তর দিল,


— তুই রাগ করলে চুল এলোমেলো হয়ে যায়। তাই আগেভাগে ব্যবস্থা করে রাখলাম।


জারা চিরুনিটা তার হাতে ফিরিয়ে দিল।


— তোর মাথায় আগে এটা চালা। হয়তো কিছু বুদ্ধি বের হবে।


সবাই হেসে উঠল।


শেষ দৃশ্যে রুদ্রের জারাকে জিজ্ঞেস করার কথা, “তুমি কি আমাকে পছন্দ করো?” আর জারার উত্তর দেওয়ার কথা, “একদম না!”


কিন্তু ক্যামেরা চালু হতেই রুদ্র জারার দিকে তাকিয়ে হাসল।


জারা সেই হাসি দেখে নিজের সংলাপ ভুলে গেল।


রুদ্র আস্তে করে বলল,


— কী হলো? সংলাপ ভুলে গেছিস?


— না!


— তাহলে বল, আমাকে পছন্দ করিস?


জারা ক্যামেরার কথা ভুলে গিয়ে বলল,


— তুই আমাকে এত বিরক্ত করিস কেন?


রুদ্রের হাসি আরও গভীর হলো।


— কারণ তুই বিরক্ত হলে আমার দিকে তাকাস। আর আমি তোকে দেখতে ভালোবাসি।


কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশ নীরব হয়ে গেল।


জারার গাল লাল হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে বলল,


— কাট! এই দৃশ্য বাদ!


মিমি ক্যামেরা বন্ধ করে হেসে বলল,


— দৃশ্য বাদ দেব কেন? এটাই তো ভিডিওর সেরা অংশ!


জারা ফোনটা নিতে এগিয়ে গেল।


— ভিডিওটা মুছে দে!


মিমি ফোনটা পেছনে সরিয়ে বলল,


— দাঁড়া, আগে দেখি!


রুদ্র সঙ্গে সঙ্গে বলল,


— জারা না চাইলে ভিডিওটা ব্যবহার করিস না। ওর অস্বস্তি হলে রাখার দরকার নেই।


মিমি এবার গম্ভীর হয়ে মাথা নাড়ল।


জারা রুদ্রের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, ছেলেটা তাকে হাসানোর জন্য যতই দুষ্টুমি করুক, তার অস্বস্তির জায়গাটা সে বোঝে।


জারা একটু ভেবে বলল,


— ভিডিওটা থাক। তবে শেষ দৃশ্যটা কেটে দিতে হবে।


রুদ্র হেসে বলল,


— ঠিক আছে, ম্যাডাম।


জারা চোখ সরু করল।


— এত সহজে রাজি হয়ে গেলি কেন?


— কারণ তোর হাসির ভিডিও চাই, তোর অস্বস্তির নয়।


কথাটা শুনে জারা আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না।


সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় রুদ্র জারাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিল।


জারা বলল,


— আজ তুই একটা কাজ ভালো করেছিস।


রুদ্র অবাক হওয়ার ভান করল।


— কোন কাজ? আমি তো সারাদিন অসাধারণ কাজ করেছি।


— বেশি আত্মবিশ্বাস ভালো না। ভিডিওটা নিয়ে তুই আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছিস।


রুদ্র কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলল,


— একটা কথা মনে রাখিস, জারা। তোকে পছন্দ করি বলে তোর সব সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হতেই হবে, এমন না। কিন্তু তোর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা আমার দায়িত্ব।


জারা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।


— তুই জানিস, তোর এই ভালো মানুষ হওয়ার অভ্যাসটাই আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা?


রুদ্র ভ্রু তুলে বলল,


— কেন?


— কারণ তোর ওপর রাগ করে থাকতে পারি না!


রুদ্রের চোখে দুষ্টুমি ফিরে এল।


— তা হলে একটা সমাধান আছে।


— কী?


— কাল বিকেল পাঁচটায় আবার ফুচকা খেতে যাবি। আমি এমন কিছু করব, যাতে তুই আবার রাগ করতে পারিস।


জারা তার বাহুতে হালকা ধাক্কা দিল।


— তুই একটা অসহ্য মানুষ!


— কিন্তু তোর প্রিয় অসহ্য মানুষ?


জারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,


— নিজেকে এত গুরুত্বপূর্ণ ভাবিস না।


তারপর দ্রুত চলে গেল।


রুদ্র পেছন থেকে ডাকল,


— কাল ফুচকা?


জারা পেছনে না তাকিয়েই হাত তুলে ইশারা করল।


— যাব!


কিছুটা দূরে গিয়ে জারা নিজেই থেমে গেল। সে কখন যে রাজি হয়ে গেছে, বুঝতেই পারেনি।


নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করল,


— এই ছেলেটার সঙ্গে ঝগড়া করাটাও এখন অভ্যাস হয়ে গেছে!


রাতে জারা ডায়েরি খুলে লিখল—


“রুদ্রকে ভালোবাসি কি না, সেটা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নই। কিন্তু ওর একটা গুণ আমাকে বারবার অবাক করে। ও আমাকে হাসায়, রাগায়, আবার আমার সিদ্ধান্তকে সম্মানও করে।


ওর কাছে আমাকে সবসময় শক্ত থাকার অভিনয় করতে হয় না। ভয় পেলে ভয় পাওয়ার কথা বলতে পারি, রাগ হলে রাগ দেখাতে পারি। ও আমার সব কথা মেনে নেয় না, কিন্তু আমার কথা শোনে।


আজ ভিডিওতে ও বলেছিল, আমি বিরক্ত হলে ওর দিকে তাকাই। কথাটা শুনে রাগ হয়েছিল। কিন্তু পরে বুঝলাম, কথাটা পুরোপুরি মিথ্যেও নয়।


সমস্যা হলো, আমি যদি ওকে সত্যিই পছন্দ করতে শুরু করি, তাহলে আমার ঝগড়ার অধিকারটা থাকবে তো?”


ডায়েরি বন্ধ করতেই রুদ্রের মেসেজ এল।


রুদ্র: কাল বিকেল পাঁচটা। ফুচকার দোকানে হাজির থাকবি।


জারা: আমি কি তোর চাকর?


রুদ্র: না। তুই আমার ঝগড়ার সঙ্গী।


জারা: ফুচকা ভালো না হলে কিন্তু তোর খবর আছে।


রুদ্র: ফুচকা ভালো না হলেও আমি থাকব।


জারা মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হাসিমুখে ফোনটা পাশে রাখল।


ঠিক তখনই মায়ের কথা মনে পড়ল। সকালে মা বলেছিলেন, রুদ্রের পরিবারের সঙ্গে আবার বসে কথা বলতে হবে। এবার শুধু বড়দের ইচ্ছা নয়, জারা আর রুদ্র আসলে কী চায়, সেটাও পরিষ্কার করে জানতে চান তাঁরা।


জারার হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।


রুদ্রকে সে হারাতে চায় না। কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলেটাকে আরও ভালোভাবে জানতে চায়। সে ভয় পায়—সম্পর্কের নাম দেওয়া হলে যদি সবকিছু বদলে যায়?


ফোনটা আবার হাতে নিয়ে রুদ্রের চ্যাট খুলল। অনেক কিছু লিখতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত কিছুই পাঠাল না।


অন্যদিকে রুদ্রও জানত, জারার মনে এখনো অনেক প্রশ্ন আছে। সে শুধু চাইছিল, মেয়েটা যেন ভয় পেয়ে নিজের মনের দরজাটা বন্ধ না করে দেয়।


আগামী দিনের পারিবারিক আলোচনায় হয়তো তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠবে। সেখানে কি জারা নিজের মনের কথা বলতে পারবে? নাকি ভালো লাগার মাঝেও আবার অভিমানের দেয়াল তুলে দেবে?


চলবে… ❤️image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 5229
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

1 প্রতিক্রিয়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
প্রিয় লেখক,

শিরোনাম এ হ্যাশট্যাগ এবং আন্ডারস্কোর(_) ব্যবহার না করে সাধারণ বাক্যগঠন অনুযায়ী শব্দচয়ন করুন।

যেমম: "#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৯" 

এভাবে না লিখে

"বউ আমার ঝগড়ার রানী - পর্ব: ১৯"

এভাবে লিখুন।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুভ হোক।

ধন্যবাদ।
করেছেন ♛ (1,642 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে প্রতিক্রিয়া প্রদান

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৮ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশী[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব:১০ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৭ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠে জারা নওশী[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৬ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল বিয়েবাড়ি মানেই আলো, গান, সাজগো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৫ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মাথা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. Mayabi Ilmaz Megh

    603 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    30 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    423 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    123 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Rimpa Mollika

    31 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...