#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️
#পর্ব: ১৯
#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশীন একটা ঘোষণা দিল।
— আজ আমি কারও সঙ্গে ঝগড়া করব না!
চায়ের কাপ হাতে বসে থাকা তার মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
— বাহ! আজ সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠেছে?
জারা কোমরে হাত রাখল।
— আম্মু, তুমি কি আমাকে নিয়ে মজা করছ?
— আরে না মা! তুই যে বললি ঝগড়া করবি না, তাই অবাক হলাম।
— মানুষ কি বদলাতে পারে না?
মা হেসে বললেন,
— অবশ্যই পারে। তবে তোর এই পরিবর্তনের খবরটা রুদ্রকে জানিয়ে দিই?
জারা সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,
— একদম না!
মা হেসে ফেললেন।
— এই তো! সকাল সকাল প্রথম ঝগড়াটা হয়ে গেল।
জারা কপালে হাত চাপড়াল।
— হে আল্লাহ! এই বাড়িতে আমার শান্তি বলে কিছু নেই!
ঠিক তখনই ফোনে রুদ্রের মেসেজ এল।
রুদ্র: সুপ্রভাত, ঝগড়ার রানী। আজ ঝগড়ার দোকান বন্ধ নাকি খোলা?
জারা: বন্ধ। আজ থেকে আমি ভদ্র মানুষ।
রুদ্র: তাহলে আমার পুরোনো ঝগড়ার রানীকে ফিরিয়ে দাও। নতুন মানুষটাকে আমার একদম পছন্দ হচ্ছে না।
জারা দাঁত চেপে উত্তর দিল,
জারা: তোর সঙ্গে কথা বলব না।
রুদ্র: আহা! মাত্র তিনটা মেসেজেই দোকান খুলে গেল!
জারা ফোনটা বিছানায় রেখে বিড়বিড় করল,
— এই ছেলেটাকে আমি একদিন ঠিক করেই ছাড়ব!
দরজার বাইরে থেকে মা বললেন,
— কাকে ঠিক করবি মা?
জারা চোখ বন্ধ করল।
দিনটা শুরু হওয়ার আগেই তার শান্তির বিদায় হয়ে গেছে!
বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে জারা দেখল, রুদ্র গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে দুটো ফুচকার প্যাকেট।
জারা কাছে যেতেই রুদ্র একটা প্যাকেট এগিয়ে দিল।
— নাও, তোমার জন্য।
জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।
— ফুচকা কেন?
— আজ তুই ঘোষণা দিয়েছিস, ঝগড়া করবি না। তাই ভাবলাম, একটা শান্তিচুক্তি করা দরকার।
— ফুচকা দিয়ে শান্তিচুক্তি?
— অবশ্যই! পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হয়। আমাদের সমস্যার সমাধান ফুচকার মাধ্যমে হতে পারে।
জারা প্যাকেটটা হাতে নিলেও মুখ গম্ভীর রাখল।
— আমি ফুচকা খাচ্ছি মানে এই না যে তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,
— অবশ্যই না। তুই ফুচকা খাচ্ছিস, আর আমি আশা করছি।
— কীসের আশা?
— অন্তত একটা ফুচকা আমাকে দিবি।
জারা সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটটা বুকের কাছে টেনে নিল।
— নিজেরটা খা!
রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সত্যিই অন্ধকার।
জারা ফুচকা মুখে দিয়ে বলল,
— তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত নই।
রুদ্র নিজের প্যাকেট খুলতে খুলতে বলল,
— আমিও না। তবে তোর সঙ্গে ঝগড়া না হলে আমার দিনটা অসম্পূর্ণ লাগে।
জারা চিবানো থামিয়ে তার দিকে তাকাল।
— তুই কি জন্মের পর থেকেই এমন বিরক্তিকর?
— না। তোর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে প্রতিভাটা বিকশিত হয়েছে।
জারা হেসে ফেলল।
রুদ্র কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার হাসি দেখলে তার মনে হতো, সারাদিনের ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তে দূর হয়ে যায়।
কিন্তু সে কথাটা মুখে বলল না। কারণ সে জানে, কথাটা বললেই জারা ফুচকার বদলে তার মাথায় পুরো প্যাকেট ঢেলে দিতে পারে!
ক্লাস শেষে মিমি জারার কাছে এসে বলল,
— শোন, আজ বিকেলে আমাদের একটা কাজ আছে।
জারা ব্যাগ গোছাতে গোছাতে জিজ্ঞেস করল,
— কী কাজ?
— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটা ছোট ভিডিও বানানো হবে। আমাদের নাটকের নায়ক-নায়িকার মজার মুহূর্তগুলো থাকবে।
জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।
— নায়ক-নায়িকা কারা?
মিমি মিষ্টি করে হাসল।
— তুই আর রুদ্র।
জারা ব্যাগ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল।
— আমি এই ভিডিওতে থাকব না।
ঠিক তখনই তন্ময় এসে বলল,
— কিন্তু তোদের দুজনের নাম তো প্রস্তাব করা হয়েছে!
জারা ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরল।
— আমার অনুমতি ছাড়া আমার নাম প্রস্তাব করেছিস কে?
তন্ময় সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত তুলে বলল,
— আরে, আমি করিনি! মিমি করেছে। আমি শুধু খবরটা দিলাম।
মিমি প্রতিবাদ করল,
— আমি একা করিনি! অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সবাই ভেবেছে, তোদের খুনসুটি ভিডিওতে দারুণ মানাবে।
জারা কিছু বলার আগেই রুদ্র এগিয়ে এল।
— ও রাজি না থাকলে ভিডিও হবে না। অন্য কাউকে নেওয়া যাবে।
রুদ্রের কথায় জারা একটু থমকে গেল। সে ভেবেছিল, ছেলেটা নিশ্চয়ই তাকে রাজি করানোর জন্য আবার বিরক্ত করা শুরু করবে।
কিন্তু রুদ্র এমনভাবে বিষয়টা মেনে নিল, যেন জারার সিদ্ধান্তই শেষ কথা।
কিছুক্ষণ ভেবে জারা বলল,
— আচ্ছা, আমি ভিডিও করব। তবে একটা শর্ত আছে।
মিমি খুশিতে হাততালি দিল।
— বল, কী শর্ত?
— ভিডিওতে রুদ্রকে যতবার হাসতে দেখা যাবে, ততবার ওকে আমার জন্য ফুচকা কিনতে হবে।
তন্ময় হেসে উঠল।
রুদ্র মাথা চুলকে বলল,
— তাহলে তো আমার সর্বস্ব বিক্রি হয়ে যাবে!
জারা মুচকি হেসে বলল,
— সমস্যা নেই। তোর হাসির দাম তো কম না!
কথাটা বলেই সে বুঝতে পারল, বাক্যটা একটু অন্যরকম শোনাচ্ছে।
মিমি আর তন্ময় একসঙ্গে বলে উঠল,
— ওহ! কী রোমান্টিক!
জারা আঙুল তুলে দুজনকে শাসাল।
— আর একটা শব্দ বললে তোদের দুজনকেই ভিডিও থেকে বাদ দেব!
রুদ্র নিচু স্বরে বলল,
— আমার হাসির দাম কম না—কথাটা কিন্তু ভালো ছিল।
জারা মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— তুই শুনিসনি!
— আমার কান দুটো বেশ ভালো কাজ করে।
— তোর কান বন্ধ করে দেওয়া উচিত!
— কিন্তু তোর কথা শুনব কীভাবে?
জারা আর উত্তর দিল না। শুধু মুখ ঘুরিয়ে হাঁটতে শুরু করল। পেছনে মিমির হাসি থামতেই চাইছিল না।
বিকেলে ভিডিওর শুটিং শুরু হলো।
প্রথম দৃশ্যে জারাকে রুদ্রের ওপর রাগ করতে হবে, কারণ রুদ্র নাকি তাদের দেখা করার সময় ভুলে গেছে।
ক্যামেরা চালু হতেই জারা হাত গুটিয়ে বলল,
— তুমি সবসময় এমন করো! সময়ের কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে?
রুদ্র সংলাপ অনুযায়ী উত্তর দিল,
— আমি তো মাত্র পাঁচ মিনিট দেরি করেছি!
— পাঁচ মিনিট? মেয়েদের অপেক্ষা করানো অপরাধ!
— তাহলে তোমার সঙ্গে দেখা করার আগে কি আমাকে ঘড়ির সঙ্গে বিয়ে করতে হবে?
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা তন্ময় হেসে উঠল।
মিমি চেঁচিয়ে বলল,
— কাট! এটা স্ক্রিপ্টে ছিল না!
রুদ্র কাঁধ ঝাঁকাল।
— চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে গেছে।
জারা চোখ পাকাল।
— তুই ইচ্ছা করে আমাকে রাগাচ্ছিস!
— অভিনয়ের বাস্তবতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
পরের দৃশ্যে রুদ্রকে জারার জন্য চকলেট আনতে হবে। কিন্তু সে চকলেটের বদলে একটা ছোট চিরুনি নিয়ে এল।
জারা চিরুনিটা হাতে নিয়ে বলল,
— এটা কী?
রুদ্র নির্বিকারভাবে উত্তর দিল,
— তুই রাগ করলে চুল এলোমেলো হয়ে যায়। তাই আগেভাগে ব্যবস্থা করে রাখলাম।
জারা চিরুনিটা তার হাতে ফিরিয়ে দিল।
— তোর মাথায় আগে এটা চালা। হয়তো কিছু বুদ্ধি বের হবে।
সবাই হেসে উঠল।
শেষ দৃশ্যে রুদ্রের জারাকে জিজ্ঞেস করার কথা, “তুমি কি আমাকে পছন্দ করো?” আর জারার উত্তর দেওয়ার কথা, “একদম না!”
কিন্তু ক্যামেরা চালু হতেই রুদ্র জারার দিকে তাকিয়ে হাসল।
জারা সেই হাসি দেখে নিজের সংলাপ ভুলে গেল।
রুদ্র আস্তে করে বলল,
— কী হলো? সংলাপ ভুলে গেছিস?
— না!
— তাহলে বল, আমাকে পছন্দ করিস?
জারা ক্যামেরার কথা ভুলে গিয়ে বলল,
— তুই আমাকে এত বিরক্ত করিস কেন?
রুদ্রের হাসি আরও গভীর হলো।
— কারণ তুই বিরক্ত হলে আমার দিকে তাকাস। আর আমি তোকে দেখতে ভালোবাসি।
কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশ নীরব হয়ে গেল।
জারার গাল লাল হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— কাট! এই দৃশ্য বাদ!
মিমি ক্যামেরা বন্ধ করে হেসে বলল,
— দৃশ্য বাদ দেব কেন? এটাই তো ভিডিওর সেরা অংশ!
জারা ফোনটা নিতে এগিয়ে গেল।
— ভিডিওটা মুছে দে!
মিমি ফোনটা পেছনে সরিয়ে বলল,
— দাঁড়া, আগে দেখি!
রুদ্র সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— জারা না চাইলে ভিডিওটা ব্যবহার করিস না। ওর অস্বস্তি হলে রাখার দরকার নেই।
মিমি এবার গম্ভীর হয়ে মাথা নাড়ল।
জারা রুদ্রের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, ছেলেটা তাকে হাসানোর জন্য যতই দুষ্টুমি করুক, তার অস্বস্তির জায়গাটা সে বোঝে।
জারা একটু ভেবে বলল,
— ভিডিওটা থাক। তবে শেষ দৃশ্যটা কেটে দিতে হবে।
রুদ্র হেসে বলল,
— ঠিক আছে, ম্যাডাম।
জারা চোখ সরু করল।
— এত সহজে রাজি হয়ে গেলি কেন?
— কারণ তোর হাসির ভিডিও চাই, তোর অস্বস্তির নয়।
কথাটা শুনে জারা আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় রুদ্র জারাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিল।
জারা বলল,
— আজ তুই একটা কাজ ভালো করেছিস।
রুদ্র অবাক হওয়ার ভান করল।
— কোন কাজ? আমি তো সারাদিন অসাধারণ কাজ করেছি।
— বেশি আত্মবিশ্বাস ভালো না। ভিডিওটা নিয়ে তুই আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছিস।
রুদ্র কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলল,
— একটা কথা মনে রাখিস, জারা। তোকে পছন্দ করি বলে তোর সব সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হতেই হবে, এমন না। কিন্তু তোর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা আমার দায়িত্ব।
জারা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— তুই জানিস, তোর এই ভালো মানুষ হওয়ার অভ্যাসটাই আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা?
রুদ্র ভ্রু তুলে বলল,
— কেন?
— কারণ তোর ওপর রাগ করে থাকতে পারি না!
রুদ্রের চোখে দুষ্টুমি ফিরে এল।
— তা হলে একটা সমাধান আছে।
— কী?
— কাল বিকেল পাঁচটায় আবার ফুচকা খেতে যাবি। আমি এমন কিছু করব, যাতে তুই আবার রাগ করতে পারিস।
জারা তার বাহুতে হালকা ধাক্কা দিল।
— তুই একটা অসহ্য মানুষ!
— কিন্তু তোর প্রিয় অসহ্য মানুষ?
জারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,
— নিজেকে এত গুরুত্বপূর্ণ ভাবিস না।
তারপর দ্রুত চলে গেল।
রুদ্র পেছন থেকে ডাকল,
— কাল ফুচকা?
জারা পেছনে না তাকিয়েই হাত তুলে ইশারা করল।
— যাব!
কিছুটা দূরে গিয়ে জারা নিজেই থেমে গেল। সে কখন যে রাজি হয়ে গেছে, বুঝতেই পারেনি।
নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করল,
— এই ছেলেটার সঙ্গে ঝগড়া করাটাও এখন অভ্যাস হয়ে গেছে!
রাতে জারা ডায়েরি খুলে লিখল—
“রুদ্রকে ভালোবাসি কি না, সেটা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নই। কিন্তু ওর একটা গুণ আমাকে বারবার অবাক করে। ও আমাকে হাসায়, রাগায়, আবার আমার সিদ্ধান্তকে সম্মানও করে।
ওর কাছে আমাকে সবসময় শক্ত থাকার অভিনয় করতে হয় না। ভয় পেলে ভয় পাওয়ার কথা বলতে পারি, রাগ হলে রাগ দেখাতে পারি। ও আমার সব কথা মেনে নেয় না, কিন্তু আমার কথা শোনে।
আজ ভিডিওতে ও বলেছিল, আমি বিরক্ত হলে ওর দিকে তাকাই। কথাটা শুনে রাগ হয়েছিল। কিন্তু পরে বুঝলাম, কথাটা পুরোপুরি মিথ্যেও নয়।
সমস্যা হলো, আমি যদি ওকে সত্যিই পছন্দ করতে শুরু করি, তাহলে আমার ঝগড়ার অধিকারটা থাকবে তো?”
ডায়েরি বন্ধ করতেই রুদ্রের মেসেজ এল।
রুদ্র: কাল বিকেল পাঁচটা। ফুচকার দোকানে হাজির থাকবি।
জারা: আমি কি তোর চাকর?
রুদ্র: না। তুই আমার ঝগড়ার সঙ্গী।
জারা: ফুচকা ভালো না হলে কিন্তু তোর খবর আছে।
রুদ্র: ফুচকা ভালো না হলেও আমি থাকব।
জারা মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হাসিমুখে ফোনটা পাশে রাখল।
ঠিক তখনই মায়ের কথা মনে পড়ল। সকালে মা বলেছিলেন, রুদ্রের পরিবারের সঙ্গে আবার বসে কথা বলতে হবে। এবার শুধু বড়দের ইচ্ছা নয়, জারা আর রুদ্র আসলে কী চায়, সেটাও পরিষ্কার করে জানতে চান তাঁরা।
জারার হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
রুদ্রকে সে হারাতে চায় না। কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলেটাকে আরও ভালোভাবে জানতে চায়। সে ভয় পায়—সম্পর্কের নাম দেওয়া হলে যদি সবকিছু বদলে যায়?
ফোনটা আবার হাতে নিয়ে রুদ্রের চ্যাট খুলল। অনেক কিছু লিখতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত কিছুই পাঠাল না।
অন্যদিকে রুদ্রও জানত, জারার মনে এখনো অনেক প্রশ্ন আছে। সে শুধু চাইছিল, মেয়েটা যেন ভয় পেয়ে নিজের মনের দরজাটা বন্ধ না করে দেয়।
আগামী দিনের পারিবারিক আলোচনায় হয়তো তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠবে। সেখানে কি জারা নিজের মনের কথা বলতে পারবে? নাকি ভালো লাগার মাঝেও আবার অভিমানের দেয়াল তুলে দেবে?
চলবে… ❤️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।