Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

ই-নলেজ আইডিয়া

আপনার লেখার কি আছে নিজস্ব পরিচয়, স্বীকৃতি ও স্থায়ী ঠিকানা?

Author ID, স্বতন্ত্র eID, লেখার পরিচয় যাচাই, জীবন্ত পোর্টফোলিও ও ফ্রি প্রমোশন—লেখালেখির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম।

বিস্তারিত পড়ুন ↓

আমাদের মনের ভেতর প্রতিদিন কত শত ভাবনা আসে, কত অনুভূতি জন্ম নেয়, কত কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিছু কথা কাউকে বলা হয় না, কিছু অনুভূতি ভাষা খুঁজে পায় না, আবার কিছু ভাবনা মুহূর্তের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় চিরতরে।

অথচ সেই ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন একটি সুন্দর গল্প হয়ে উঠতে পারত, একটি কবিতা হয়ে কারও হৃদয় ছুঁতে পারত, কিংবা এমন কোনো লেখা হয়ে উঠতে পারত, যার মধ্যে অন্য কেউ খুঁজে পেত নিজের জীবনের গল্প।

তাই যা কিছু ভাবনায় আসে, তা এক বাক্যে হলেও লিখে রাখা উচিত। কে জানে, আজকের ছোট্ট একটি ভাবনাই হয়তো একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লেখাটি হয়ে উঠবে!

আর একটা কথা ভেবেছেন? একদিন হয়তো আপনি অনেক দূরে চলে যাবেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও আপনার নাম মুছে যেতে পারে। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া লেখাগুলো আপনার অনুভূতি, চিন্তা ও অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কেউ হয়তো আপনার লেখা পড়ে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন, আপনার অজানা কোনো অনুভূতি বুঝতে পারবেন। আপনি তাঁর কাছে অপরিচিত হয়েও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর অনুভূতির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন। এটাই তো লেখার এক অসাধারণ ক্ষমতা!

কিন্তু এত সৃষ্টির স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো লেখা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়, আইডির কিছু হলে লেখার সোর্সও মুছে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেখাগুলো ছড়িয়ে থাকায় নিজের লেখক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও তৈরি করা কঠিন। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার তারিখ বা তথ্যও পরিবর্তন করা সম্ভব। আবার কেউ লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করলে মূল লেখককেই অনেক সময় নিজের লেখার পরিচয় ও প্রকাশনার উৎস খুঁজে বের করে প্রমাণ করতে হয়।

একজন লেখক কি তাঁর সময় ও শ্রম লেখালেখিতে ব্যয় করবেন, নাকি নিজের লেখার লিংক ফেরি করে বেড়াবেন?

এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে Enolej Idea। এটি কেবল লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; লেখকের নিজস্ব পরিচয়, প্রতিটি সৃষ্টির স্বতন্ত্র পরিচয়, লেখার সংরক্ষণ, স্বীকৃতি এবং পাঠকের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত ডিজিটাল লেখালেখির ইকোসিস্টেম।

১. নিজস্ব লেখক পরিচয় — Author ID

প্রতিটি লেখকের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র লেখক আইডি নম্বর। নিজের লেখক প্রোফাইলে পরিচিতি, প্রকাশিত লেখা ও লেখালেখির পথচলা একসঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন। এই Author ID Bio, CV কিংবা নিজের বইয়েও ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে লেখক হিসেবে আপনার পরিচয়ের জন্য থাকবে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানা।

২. প্রতিটি লেখার আলাদা পরিচয় — eID

একজন লেখকের প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র eID। এটি নির্দিষ্ট লেখাটিকে তার মূল প্রকাশনা ও লেখকের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। মনে রাখবেন, Author ID হলো লেখকের পরিচয়, আর eID হলো নির্দিষ্ট লেখার পরিচয়।

৩. eID Verification System

eID Verified: লেখার সঙ্গে স্বতন্ত্র eID ও মূল প্রকাশনার রেফারেন্স যুক্ত করার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে লেখাটির পরিচয় ও Enolej Idea-তে মূল প্রকাশনার তথ্য তুলে ধরা যায়।

eID Scan: eID Verified চিহ্নযুক্ত লেখা স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে সংশ্লিষ্ট লেখক, eID ও মূল প্রকাশনার পরিচয় যাচাই করার সুবিধা।

eID Bridge: বাইরের প্রকাশনা বা প্ল্যাটফর্মেও eID ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, যাতে মূল লেখার পরিচয় ও Enolej Idea-তে প্রকাশিত লেখার সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে।

eID ব্যবস্থা লেখার পরিচয় ও মূল প্রকাশনার তথ্য যাচাই এবং স্বত্বের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। এটি নিজে থেকে আইনি কপিরাইট নিবন্ধনের বিকল্প নয়।

৪. জীবন্ত লেখক পোর্টফোলিও

আপনার সব লেখা এক জায়গায় সাজিয়ে তৈরি করুন নিজের জীবন্ত পোর্টফোলিও। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখা যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আপনার লেখক পরিচয়। পাঠকও সহজেই এক জায়গা থেকে আপনার সব সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

৫. লেখালেখির আরও সুবিধা

সিরিজ ও পর্ব: ধারাবাহিক লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজিয়ে রাখুন, যাতে পাঠক সহজেই পরবর্তী পর্বগুলো খুঁজে পান।

Draft ও Notes: অসম্পূর্ণ লেখা, প্রাথমিক ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নোট সংরক্ষণ করুন।

এক ক্লিকে ই-বুক ও পাণ্ডুলিপি: নিজের প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করে ই-বুক বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করুন।

পাঠকের সঙ্গে সংযোগ: মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন।

Points, Badges ও Ranking: লেখালেখি ও পাঠক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পয়েন্ট, ব্যাজ ও র‍্যাঙ্কিং অর্জনের সুযোগ।

ফ্রি প্রমোশন ও Google Discoverability: নিজের লেখা ও লেখক পরিচিতি আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুরু করতে পারেন আজই।

আপনি নতুন লেখক হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন—নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে ভালোবাসলেই শুরু করতে পারেন। প্রতিটি লেখাই অসাধারণ হতে হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ভাবনাগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে নিজের লেখকসত্তাকে গড়ে তোলা।

আপনার ভাবনাগুলো মূল্যবান। সেগুলো শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও যত্ন করে রেখে দিন।

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline] →

Enolej Idea — Write. Preserve. Be remembered.

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৪

লেখা যখন কণ্ঠে! শুনতে প্রস্তুত? প্রতি শনি, সোম ও বুধবার | বিকেল ৪টা ▶ FACEBOOK | ▶ YOUTUBE
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (355 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
eID স্ক্যান · লেখাটি যাচাই করা হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন…

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️


#পর্ব: ১৪


#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল


সকালে নাশতার টেবিলে বসে জারা নওশীন এমনভাবে পরোটার টুকরো ছিঁড়ছিল, যেন পরোটার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে।


মা কয়েকবার তার দিকে তাকিয়ে শেষে বললেন, “কী রে, পরোটাটা কী দোষ করেছে?”


জারা মুখ তুলে বলল, “কিছু না, আম্মু। আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবছি।”


“পরোটার ভবিষ্যৎ নিয়ে?”


“আম্মু!”


মা হেসে চায়ের কাপ নামালেন। “আচ্ছা, বল। কী ভাবছিস?”


জারা একটু ইতস্তত করে বলল, “কাল রাতে তুমি যে প্রস্তাবের কথা বলেছিলে, সেটা কি সত্যিই সিরিয়াস?”


“অবশ্যই। তবে তোর ইচ্ছার বাইরে কিছু হবে না। তোরা দুজন একে অপরকে পছন্দ করলে পরিবার জানবে। বিয়ের সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে না।”


জারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “একটা ছেলের সঙ্গে ফুচকা খেতে গেলেই কেন জীবনটা এত জটিল হয়ে যায়?”


মা হেসে বললেন, “ফুচকা খাওয়ার আগে কি কেউ তোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল?”


“না!”


“তাহলে ফুচকাকে দোষ দিস না।”


জারা মুখ ফুলিয়ে উঠে দাঁড়াল। “তোমরা সবাই মিলে আমাকে পাগল করে দেবে!”


মা পেছন থেকে বললেন, “রুদ্রকে কথাটা জানাস। ওরও তো মতামত আছে।”


জারা দরজার কাছে থেমে আস্তে বলল, “জানাব।”


মনে মনে ঠিক করল, ফোনে নয়, সামনাসামনি বলবে। কারণ রুদ্র রহমান সাধারণ কথাকেও এমনভাবে ঘুরিয়ে দেয় যে শেষ পর্যন্ত জারাকেই নিজের কথা ব্যাখ্যা করতে হয়।


আর আজ সে কোনোভাবেই ছেলেটার কথার ফাঁদে পা দেবে না!


অন্তত নিজের কাছে সে এই প্রতিজ্ঞাই করল।


বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে জারা দেখল, রুদ্র ক্যাম্পাসের বেঞ্চে বসে তন্ময়ের সঙ্গে কথা বলছে। তাকে দেখেই তন্ময় মুচকি হেসে বলল, “আরে, আমাদের ভবিষ্যতের ঝগড়ার রানী এসে গেছেন!”


জারা থমকে দাঁড়াল।


“কী বললে?”


তন্ময় সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রের পেছনে সরে গেল। “আমি কিছু বলিনি! রুদ্র বলেছে!”


রুদ্র অবাক হওয়ার অভিনয় করে বলল, “আমি কখন বললাম?”


জারা কোমরে হাত রাখল। “তোমরা দুজন মিলে আমার নামে সভা বসিয়েছ?”


তন্ময় হেসে বলল, “সভা নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলাম।”


“আর একবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করলে তোমার বর্তমান অন্ধকার করে দেব!”


তন্ময় দুই হাত তুলে বলল, “ঠিক আছে, আপু! আলোচনা স্থগিত!”


সে দ্রুত সরে পড়ল।


জারা এবার রুদ্রের সামনে এসে দাঁড়াল। “তুমি ওকে কী বলেছ?”


রুদ্র মুচকি হাসল। “শুধু বলেছি, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে ঝগড়াটে মানুষ।”


“তাহলে ও আমাকে ভবিষ্যতের ঝগড়ার রানী বলল কেন?”


“ছেলেটার কল্পনাশক্তি ভালো।”


জারা চোখ পাকাল। “নিজের বন্ধুকে সামলাতে পারো না, আবার আমাকে বিয়ে করতে চাও!”


কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে যেতেই সে থেমে গেল।


রুদ্রের হাসিটা একটু গভীর হলো।


“তাহলে তুমি জানো, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই?”


জারা মুখ ঘুরিয়ে বলল, “সবাই তো সেই কথাই বলছে!”


“তুমি কী বলছ?”


“আমি ক্লাসে যাচ্ছি!”


রুদ্র হেসে বলল, “বুঝেছি। প্রশ্নটা কঠিন ছিল।”


জারা চলে যেতে যেতে বলল, “প্রশ্ন কঠিন নয়, উত্তরটা তোমার পছন্দ হবে কি না, সেটাই সমস্যা!”


রুদ্র তার পেছনে তাকিয়ে রইল। কথাটার মধ্যে ছোট্ট একটা আশার আলো ছিল। জারা এখনো তাকে ভালোবাসার কথা বলেনি, কিন্তু নিজের ভবিষ্যতের আলোচনায় তাকে একেবারে বাদও দিচ্ছে না।


রুদ্রের কাছে আপাতত এটুকুই অনেক।


দুপুরে ক্লাস শেষে জারা নিজেই রুদ্রকে ফোন করল।


ফোন ধরেই রুদ্র বলল, “কী ব্যাপার? সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেছে নাকি?”


জারা বিরক্ত হয়ে বলল, “তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে।”


“আবার সরকারি গোপন নথি?”


“রুদ্র, আমি সিরিয়াস!”


ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এল।


তারপর রুদ্র বলল, “ঠিক আছে। কোথায় দেখা করবে?”


“লাইব্রেরির পেছনের বাগানে। দশ মিনিটের মধ্যে।”


“জ্বি, ম্যাডাম।”


“আর হাসবে না!”


“আচ্ছা, হাসব না।”


ফোন কেটে জারা বুকের ওপর হাত রাখল। মনে হচ্ছিল, সে কোনো পরীক্ষার হলে বসে আছে, অথচ কোনো প্রশ্নই মুখস্থ করেনি।


বাগানে পৌঁছে দেখল, রুদ্র আগেই এসেছে।


“বলো, কী হয়েছে?” রুদ্র জিজ্ঞেস করল।


জারা কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল, “আম্মু বলেছে, তোমাদের পরিবার নাকি একটা প্রস্তাব দিয়েছে।”


রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ। মা তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।”


“তুমি কি জানো, প্রস্তাবটা কী?”


“জানি। তবে তুমি কী ভাবছ, সেটা তোমার মুখ থেকেই শুনতে চাই।”


জারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।


“আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আমার পড়াশোনা আছে, নিজের কিছু স্বপ্ন আছে। আমি চাই না বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে।”


রুদ্র শান্তভাবে বলল, “আমি কি তোমাকে এখনই বিয়ে করতে বলেছি?”


“না।”


“তাহলে ভয় পাচ্ছ কেন?”


জারা তার দিকে তাকাল। “সম্পর্কের একটা নাম দিয়ে দিলে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। তখন ছোট ছোট ভুলও বড় হয়ে যায়। আমি চাই না আমাদের এই সুন্দর সম্পর্কটা চাপের মধ্যে পড়ে নষ্ট হয়ে যাক।”


রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তাহলে আগে সম্পর্কটা সুন্দরভাবে গড়ে তুলি। তুমি পড়াশোনা করবে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে। আমিও আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে এগোব। আমরা একে অপরকে জানব, বুঝব। পরিবারকে জানাব যে আমাদের সময় প্রয়োজন।”


জারা অবাক হয়ে তাকাল।


“তুমি সত্যিই রাজি?”


রুদ্র মৃদু হেসে বলল, “তোমাকে রাজি করানোর জন্য যদি নিজের ইচ্ছা তোমার ওপর চাপিয়ে দিই, তাহলে তোমার পাশে থাকার মানেটা কী?”


জারার চোখের কোণে পানি জমল। সে তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে নিল।


রুদ্র নরম স্বরে বলল, “এই যে, আবার কাঁদবে নাকি?”


জারা চোখ মুছে বলল, “কে কাঁদছে? চোখে ধুলো পড়েছে।”


“বাগানে ধুলো, নাকি আমার কথায়?”


“তুমি চুপ করবে?”


“জ্বি, ঝগড়ার রানী।”


জারা এবার হাসিটা লুকাতে পারল না।


রুদ্রও হাসল। তারপর বলল, “একটা কথা মনে রেখো, জারা। তোমাকে ভালোবাসি বলেই তোমার সব সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হতে হবে, এমন নয়। কিন্তু তোমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা আমার দায়িত্ব।”


জারা নিচু স্বরে বলল, “তুমি সবসময় এমন কথা বলো কেন?”


“কেমন কথা?”


“যে কথার উত্তর দিতে গেলে আমার রাগ করতে ইচ্ছে করে না!”


রুদ্র হেসে উঠল। “এটা তো আমার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি!”


জারা তার বাহুতে আলতো ধাক্কা দিল।


সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে ফোনে কথা হলো। জারার মা তাকে পাশে বসতে বললেন। স্পিকারে রুদ্রের মায়ের কণ্ঠ শোনা গেল।


“আমরা চাই না, বাচ্চারা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিক। ওরা যদি একে অপরকে পছন্দ করে, তাহলে সময় নিয়ে এগোক।”


জারার বাবা বললেন, “সেটাই ভালো। আগে পড়াশোনা শেষ করুক, নিজেদের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নিক। আমরা শুধু চাই, ওরা নিজেদের অনুভূতি নিয়ে সৎ থাকুক।”


রুদ্রের বাবা হেসে বললেন, “তবে একটা কথা বলি, এই দুজনের ঝগড়া শুনে মনে হয়, ভবিষ্যতে আমাদের বাড়িতে শান্তি বলে কিছু থাকবে না!”


সবাই হেসে উঠলেন।


জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আঙ্কেল, আমি কিন্তু খুব শান্ত মেয়ে!”


ওপাশ থেকে রুদ্রের কণ্ঠ ভেসে এল, “হ্যাঁ, বিশেষ করে যখন কেউ তোমার চায়ের কাপ থেকে শেষ চুমুকটা খেয়ে ফেলে!”


জারা চমকে উঠল। “তুমি আমার চা চুরি করার কথা সবাইকে বলছ?”


রুদ্র বলল, “সত্য গোপন করা উচিত নয়।”


“তোমার সব সত্য আমি একদিন প্রকাশ করব!”


রুদ্রের মা হেসে বললেন, “বাহ! তাহলে তোমাদের ঝগড়া চলতেই থাকবে।”


কথাবার্তা শেষ হলে জারা নিজের ঘরে চলে গেল। মনটা অনেক হালকা লাগছিল। অন্তত এখন কেউ তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে না।


তবু একটা প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরছিল—রুদ্রের সঙ্গে তার সম্পর্কটা ঠিক কী?


বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি, কিন্তু ভালোবাসা বলে স্বীকার করার মতো সাহস এখনো পুরোপুরি হয়নি।


রাতে জারা ফোন হাতে নিয়ে রুদ্রকে মেসেজ করল।


জারা: আমাদের সম্পর্কের নাম কী?


কয়েক মিনিট পর উত্তর এল।


রুদ্র: তুমি কী নাম দিতে চাও?


জারা: আমি প্রশ্ন করেছি। উত্তর দাও।


রুদ্র: আমার কাছে তুমি এমন একজন, যার সঙ্গে ঝগড়া না হলে দিনটা অসম্পূর্ণ লাগে। যার মন খারাপ হলে আমারও ভালো লাগে না। যার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে। তবে তুমি যে নামে স্বস্তি পাও, আপাতত সেটাই থাক।


জারা মেসেজটা কয়েকবার পড়ল।


তারপর লিখল—


জারা: তাহলে আপাতত আমরা একে অপরকে বুঝব। কোনো তাড়াহুড়ো নয়।


রুদ্র: চুক্তি হলো।


জারা: তবে একটা শর্ত আছে।


রুদ্র: কী?


জারা: প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা খাওয়াতে হবে।


রুদ্র: তাহলে আমার মাসিক বাজেটের অর্ধেক তোমার পেছনে চলে যাবে!


জারা: বাকি অর্ধেক দিয়ে নিজের জন্য বিস্কুট কিনো।


রুদ্র: বিয়ের আগেই সংসারের বাজেট তৈরি হচ্ছে দেখছি!


জারা হেসে ফোনটা বুকে চেপে ধরল।


হয়তো সম্পর্কের নাম এখনো ঠিক হয়নি। কিন্তু রুদ্রের সঙ্গে কথা বললে তার মন হালকা হয়ে যায়। রুদ্রের নীরবতা তাকে ভাবায়, তার হাসি জারার মুখেও হাসি এনে দেয়।


এসব অনুভূতির নাম কী, সে এখনো জানে না।


তবে অনুভূতিগুলো যে মিথ্যা নয়, সেটা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে।


পরদিন নাটকের মহড়ার জন্য জারার প্রিয় নীল কলমটা দরকার হলো। ব্যাগে খুঁজেও সে পেল না।


“আমার কলমটা কোথায় গেল?”


রুদ্র পাশ থেকে নিজের পকেট থেকে কলমটা বের করল।


“এটা খুঁজছ?”


জারা চোখ বড় করল। “তুমি আমার কলম নিয়েছ কেন?”


“তোমার ব্যাগ থেকে পড়ে গিয়েছিল। তুলে রেখেছিলাম।”


“তাহলে ফেরত দাও!”


রুদ্র কলমটা এগিয়ে দিল। জারা নেওয়ার আগেই সে বলল, “একটা কথা বলো।”


“কী?”


“তুমি কি আমার সঙ্গে এভাবেই ঝগড়া করতে করতে সারাজীবন কাটাতে পারবে?”


জারা স্থির হয়ে গেল।


রুদ্র হাসি থামিয়ে বলল, “আমি মজা করছি না। ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে থাকি বা না থাকি, আমি চাই আমাদের মধ্যে এমন একটা সম্পর্ক থাকুক, যেখানে আমরা সত্যি কথা বলতে পারব। রাগ হলে বলব, কষ্ট পেলে বলব, ভুল হলে ক্ষমা চাইব।”


জারা কলমটা হাতে নিল। তারপর আস্তে বলল, “আমি চেষ্টা করব।”


“আমিও।”


কয়েক মুহূর্ত পর জারা বলল, “আর সারাজীবন ঝগড়া করতে চাইলে তোমাকে একটা শর্ত মানতে হবে।”


রুদ্র হেসে বলল, “কী শর্ত?”


“ঝগড়ার পর চা খাওয়াতে হবে।”


“তাহলে তো আমাদের সংসার চায়ের দোকান হয়ে যাবে!”


জারা প্রাণ খুলে হেসে উঠল।


রুদ্র তার হাসির দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল, তাদের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। কোনো নিশ্চয়তা নেই, কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কিন্তু দুজনেই যদি একে অপরের হাত ছাড়ার আগে কথা বলতে শেখে, তাহলে হয়তো এই ঝগড়ার মধ্যেই ভালোবাসার একটা সুন্দর জায়গা তৈরি হবে।


রাতে জারা ডায়েরির পাতায় লিখল—


“আজ বুঝলাম, সম্পর্কের নাম ঠিক করে ফেললেই সবকিছু সুন্দর হয়ে যায় না। কখনো কখনো নাম দেওয়ার আগে মানুষটাকে বুঝতে হয়। তার রাগ, অভিমান, ভয় আর স্বপ্ন—সবকিছুকে জায়গা দিতে হয়।


রুদ্র আমাকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেনি। বরং নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দিয়েছে। হয়তো এটাই তার প্রতি আমার বিশ্বাসকে একটু একটু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে।


আমি এখনো জানি না, আমাদের গল্পের শেষ কোথায়। তবে এটুকু জানি, তার সঙ্গে পথ চলার ইচ্ছেটা আমার ভেতরে প্রতিদিন একটু করে বাড়ছে।


আর যদি কখনো তাকে ভালোবাসি বলে স্বীকার করি, তাহলে সেটা ভয় থেকে নয়—নিজের ইচ্ছা থেকেই করব।”


ডায়েরি বন্ধ করতেই ফোনে রুদ্রের মেসেজ এল।


রুদ্র: ঘুমিয়ে পড়েছ?


জারা: না। কেন?


রুদ্র: কাল তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।


জারা: কোথায়?


রুদ্র: বলব না। সারপ্রাইজ।


জারা: আমি কিন্তু সারপ্রাইজ পছন্দ করি না!


রুদ্র: তোমার জন্মদিনে তুমি আমার জন্য সারপ্রাইজ আয়োজন করেছিলে। এবার আমার পালা।


জারা একটু ভেবে লিখল—


জারা: ঠিক আছে। তবে জায়গাটা ভালো না হলে তোমার খবর আছে।


রুদ্র: জ্বি, ম্যাডাম। কাল দেখা হবে।


জারা হাসিমুখে ফোনটা পাশে রাখল।


কিন্তু সে জানত না, পরদিনের সেই ছোট্ট সারপ্রাইজ তাদের দুজনকে এমন এক স্মৃতির সামনে দাঁড় করাবে, যা তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।


চলবে… ❤️image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 5195
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৭ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠে জারা নওশী[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৬ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল বিয়েবাড়ি মানেই আলো, গান, সাজগো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৫ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মাথা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৩ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১২ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মনট&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. Mayabi Ilmaz Megh

    482 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    182 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Qrrier

    31 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...