#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️
#পর্ব: ১৫
#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল
সকাল থেকেই জারা নওশীনের মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—রুদ্র রহমান তাকে কোথায় নিয়ে যাবে?
ঘুম থেকে উঠে সে ফোন হাতে নিয়ে মেসেজ দিল।
জারা: শুনুন, রহস্যময় সাহেব! আজকের সারপ্রাইজের জায়গাটা অন্তত শহরের বাইরে কি না, বলুন।
রুদ্র: কেন? শহরের বাইরে হলে যাবে না?
জারা: আগে থেকে জানতে চাই, যাতে মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারি।
রুদ্র: কীসের প্রস্তুতি?
জারা: তোমার বকবকানি সহ্য করার প্রস্তুতি!
রুদ্র: তাহলে প্রস্তুতি নিয়ে লাভ নেই। আমার বকবকানি সারপ্রাইজের সঙ্গে ফ্রি।
জারা ফোনের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। তারপর লিখল—
জারা: বিকেল চারটায় কোথায় আসব?
রুদ্র: বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে। আর হ্যাঁ, আরামদায়ক জুতা পরে আসবে।
জারা: কেন? পাহাড়ে উঠব নাকি?
রুদ্র: তুমি এলে পাহাড়ও নিজে থেকে নিচে নেমে আসবে।
জারা কয়েক সেকেন্ড মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর লিখল—
জারা: তুমি কি সকালে ঘুম থেকে উঠে কবি হয়ে যাও?
রুদ্র: না। তোমার সঙ্গে কথা বললেই আমার ভেতরের কবি জেগে ওঠে।
জারা ফোনটা বালিশের ওপর রেখে বলল, “এই ছেলেটাকে একদিন সত্যিই মেরে ফেলব!”
কিন্তু পরক্ষণেই ফোনটা আবার হাতে তুলে মেসেজটা পড়ল। তারপর নিজের অজান্তেই হাসল।
বিকেল চারটার পাঁচ মিনিট আগে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছে গেল। রুদ্র একটা মোটরবাইকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তাকে দেখেই হেলমেটটা এগিয়ে দিল।
জারা অবাক হয়ে বলল, “আমরা বাইকে যাব?”
“হ্যাঁ।”
“আর তুমি এতক্ষণ আমাকে বলোনি?”
রুদ্র ভ্রু তুলে বলল, “বললে কি তুমি আসতে না?”
জারা একটু ভেবে বলল, “সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করত।”
“বুঝেছি। তোমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলাদা একটা কমিটি দরকার।”
জারা হেলমেট পরতে পরতে বলল, “তোমার মতো মানুষের সঙ্গে চলতে গেলে কমিটি নয়, পুরো মন্ত্রণালয় লাগে!”
রুদ্র হেসে উঠল।
বাইকে ওঠার আগে জারা সতর্ক করে দিল, “শোনো, খুব জোরে চালাবে না। আর হঠাৎ ব্রেক করবে না।”
“ঠিক আছে।”
“রাস্তার দিকে তাকাবে। আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে কিন্তু—”
“তাহলে?”
“তাহলে তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আমি রিকশায় চলে যাব!”
রুদ্র হাসতে হাসতে বলল, “জ্বি, ম্যাডাম। এবার উঠুন।”
বাইক চলতে শুরু করল। প্রথমে জারা যথেষ্ট দূরত্ব রেখে বসেছিল। কিন্তু একটা বাঁক নিতে গিয়ে বাইকটা একটু কাত হতেই সে অজান্তেই রুদ্রের শার্টের পেছনটা ধরে ফেলল।
রুদ্র আয়নায় তাকিয়ে বলল, “কী হলো? ভয় পাচ্ছ?”
জারা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, “না! আমি নিশ্চিত করছি, তুমি যেন বাইক থেকে পড়ে না যাও।”
“ওহ! আমার নিরাপত্তার এত চিন্তা?”
“তোমার কিছু হলে আমাকে নতুন ঝগড়ার সঙ্গী খুঁজতে হবে। সেটাই সমস্যা।”
রুদ্র হেসে ফেলল। জারা এবার তার শার্টটা একটু শক্ত করে ধরে বসে রইল।
মনের ভেতর সে নিজেকেই বলল, ছেলেটা সত্যিই একটা অসহ্য মানুষ!
কিন্তু বাইকের পেছনে বসে তার মুখে যে হাসিটা ফুটে ছিল, সেটা সে নিজেও লুকাতে পারল না।
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর তারা শহরের একটু নিরিবিলি এলাকায় পৌঁছাল। রাস্তার পাশে গাছ, ছোট ছোট দোকান আর দূরে একটা লেকের ওপর বিকেলের আলো ঝিলমিল করছে।
জারা চারদিকে তাকিয়ে বলল, “এখানে এনেছ কেন?”
রুদ্র বাইক থামিয়ে বলল, “নেমে দেখো।”
লেকের পাশ দিয়ে একটা ছোট হাঁটার পথ চলে গেছে। পথের ধারে কয়েকটা বেঞ্চ, ফুলের গাছ আর একটা ছোট্ট ক্যাফে।
জারা মুগ্ধ হয়ে বলল, “জায়গাটা সুন্দর!”
রুদ্র মুচকি হেসে বলল, “জানি।”
“তুমি আগে এখানে এসেছ?”
“হ্যাঁ। একদিন তন্ময়কে নিয়ে এসেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, জায়গাটা তোমার ভালো লাগবে।”
জারার বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে গেল।
“আমার ভালো লাগবে, সেটা তুমি কীভাবে বুঝলে?”
রুদ্র কাঁধ ঝাঁকাল। “তুমি যখন খুব রেগে যাও, তখন তোমাকে একটু শান্ত জায়গায় নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। এখানে বসে থাকলে অন্তত কিছুক্ষণ ঝগড়া করার ইচ্ছা কমে যেতে পারে।”
জারা মুখ বাঁকিয়ে বলল, “আমার ঝগড়া করার ইচ্ছা কমে না।”
“তাহলে জায়গাটা ব্যর্থ।”
“একদম!”
রুদ্র হেসে বলল, “চলো, আগে হাঁটি।”
দুজন লেকের পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগল। জারা কখনো পানির দিকে তাকাচ্ছিল, কখনো গাছের পাতার দিকে। রুদ্র মাঝে মাঝে তার দিকে তাকাচ্ছিল, কিন্তু কিছু বলছিল না।
শেষ পর্যন্ত জারা প্রশ্ন করল, “তুমি এত চুপ কেন?”
“ভাবছি।”
“কী ভাবছ?”
“ভাবছি, তুমি এতক্ষণে অন্তত পাঁচটা অভিযোগ করার কথা। এখনো মাত্র দুটো করেছ।”
জারা তার বাহুতে ধাক্কা দিল। “আমি তোমার সঙ্গে এসেছি, তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দিতে নয়!”
রুদ্র হেসে বলল, “তাহলে আজকের দিনটা আমার জন্য বিশেষ।”
জারা একটু থমকে গেল। “কেন?”
রুদ্র তার দিকে তাকিয়ে বলল, “কারণ তুমি আমার সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছ। শুধু আমার জেদের কারণে নয়, নিজের ইচ্ছায়।”
জারা চোখ নামিয়ে ফেলল। কথাটা সত্যি। সে চাইলে আজ অন্য কোনো অজুহাত দিতে পারত। কিন্তু সে নিজেই এসেছিল।
কিছুক্ষণ হাঁটার পর তারা লেকের পাশের একটা বেঞ্চে বসল। রুদ্র ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা কাগজের প্যাকেট বের করল।
জারা সন্দেহের চোখে তাকাল। “ওটা কী?”
“তোমার জন্য।”
“কী কিনেছ?”
“খুলে দেখো।”
জারা প্যাকেট খুলে দেখল, ভেতরে একটা ছোট নোটবুক। মলাটটা হালকা নীল, আর সামনে ছোট করে লেখা—‘আমাদের ঝগড়ার হিসাব’।
জারা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে হেসে উঠল।
“এটা কী ধরনের উপহার?”
রুদ্র গম্ভীর মুখে বলল, “খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সব ঝগড়ার হিসাব এখানে লিখে রাখবে।”
জারা পাতা উল্টে দেখল, প্রথম পাতায় রুদ্র লিখেছে—
প্রথম ঝগড়া: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।
কার দোষ: দুজনেই দাবি করে, অন্যজনের।
শাস্তি: একসঙ্গে চা খাওয়া।
জারা হাসতে হাসতে বলল, “তুমি পাগল!”
“দ্বিতীয় ঝগড়া: ছাতা নিয়ে। তৃতীয় ঝগড়া: চায়ের চিনি নিয়ে। চতুর্থ ঝগড়া: ফুচকার ঝাল নিয়ে।”
জারা নোটবুকটা বুকে চেপে ধরল। “তুমি এত কিছু মনে রেখেছ?”
রুদ্রের মুখে মৃদু হাসি ফুটল। “তোমার সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু হয়তো মনে থাকবে না, কিন্তু এই স্মৃতিগুলো হারাতে চাই না।”
জারার হাসিটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে গেল।
সে আস্তে বলল, “আমি কখনো ভাবিনি, কেউ আমার সঙ্গে ঝগড়ার কথাও উপহার হিসেবে মনে রাখবে।”
রুদ্র বলল, “তোমার সঙ্গে ঝগড়া মানে তো শুধু ঝগড়া নয়। কখনো হাসি, কখনো অভিমান, কখনো একে অপরকে বোঝার চেষ্টা। আমার কাছে সবকিছুই আমাদের গল্পের অংশ।”
জারা নোটবুকের পাতায় হাত বুলিয়ে দিল।
তারপর হঠাৎ বলল, “তাহলে আমিও একটা নিয়ম বানাচ্ছি।”
রুদ্র ভ্রু তুলল। “কী নিয়ম?”
“যে ঝগড়া করবে, সে আগে ক্ষমা চাইবে।”
রুদ্র হেসে বলল, “তাহলে তো প্রতিবার আমাকেই ক্ষমা চাইতে হবে!”
“কেন?”
“কারণ তুমি তো কখনো ভুল করো না!”
জারা নোটবুকটা দিয়ে তার বাহুতে আলতো আঘাত করল। “এই যে, প্রথম নিয়ম ভাঙলে!”
দুজনেই হেসে উঠল।
সূর্য ডুবতে শুরু করলে রুদ্র ক্যাফে থেকে দু কাপ চা নিয়ে এল। একটা জারার হাতে দিয়ে পাশে বসল।
জারা চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, “তুমি জানো, একটা কথা অনেক দিন ধরে ভাবছি?”
“কী কথা?”
“তুমি যখন প্রথম আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে, তখন তোমাকে আমার একদম সহ্য হতো না।”
রুদ্র নাটকীয়ভাবে বুকের ওপর হাত রাখল। “আমার হৃদয় ভেঙে গেল!”
“নাটক বন্ধ করো। এখনো পুরো কথা বলিনি।”
রুদ্র চুপ করে বসে রইল।
জারা বলল, “তারপর ধীরে ধীরে তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগতে শুরু করল। তুমি না থাকলে ক্যাম্পাসটা কেমন ফাঁকা লাগে। কোনো মজার ঘটনা ঘটলে প্রথমে তোমাকে বলতে ইচ্ছে করে। আর তুমি মন খারাপ করে থাকলে আমারও ভালো লাগে না।”
রুদ্রের মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়ে সেখানে গভীর মনোযোগ ফুটে উঠল।
জারা একটু থেমে বলল, “আমি জানি না, এটাকে ঠিক কী নামে ডাকব। কিন্তু তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আমার কাছে বিশেষ।”
রুদ্র কাপটা পাশে রেখে বলল, “তুমি জানো, এই কথাগুলো শুনতে আমার কত ভালো লাগছে?”
জারা মৃদু হেসে বলল, “জানি না। তবে বেশি খুশি হয়ো না। আমি কিন্তু এখনো তোমার অনেক অভ্যাস পছন্দ করি না।”
রুদ্র হেসে বলল, “যেমন?”
“যেমন, তুমি অতিরিক্ত কথা বলো। সব সময় আমাকে জ্বালাও। নিজের প্রশংসা নিজে করো।”
“আর?”
জারা একটু ভেবে বলল, “আর… তুমি যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসো, তখন আমার রাগ করতে কষ্ট হয়।”
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
রুদ্র কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে বলল, “জারা, তুমি কি আমাকে একটু একটু করে ভালোবাসতে শুরু করেছ?”
জারার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। সে চোখ নামিয়ে বলল, “হয়তো।”
রুদ্রের মুখে এমন একটা হাসি ফুটল, যা দেখে জারার নিজেরও হাসি পেল।
“এই ‘হয়তো’ শব্দটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।”
জারা ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন?”
“কারণ এর মধ্যে আশা আছে।”
জারা মৃদু স্বরে বলল, “কিন্তু আমি এখনো ভয় পাই।”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “ভয় পেলে আমার হাত ধরতে পারো। তবে মনে রেখো, তোমার ভয় দূর করার দায়িত্ব শুধু আমার নয়। আমরা দুজন মিলে চেষ্টা করব।”
জারা তার দিকে তাকাল। তারপর ধীরে নিজের হাতটা রুদ্রের হাতে রাখল।
“তাহলে আজ থেকে চেষ্টা শুরু।”
রুদ্র তার হাতটা আলতো করে ধরল।
“চুক্তি হলো।”
ফেরার পথে জারা আগের চেয়ে অনেক স্বাভাবিকভাবে রুদ্রের পেছনে বসল। এবার রাস্তার বাঁকে বাইক একটু কাত হতেই সে আর কোনো অজুহাত দিল না। নিজের হাত দিয়ে রুদ্রের কোমরটা ধরে রাখল।
রুদ্র আয়নায় তাকিয়ে মুচকি হাসল।
“কী হলো, ঝগড়ার রানী? আজ আর আমার নিরাপত্তার অজুহাত দিচ্ছ না?”
জারা তার পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে বলল, “বেশি কথা বললে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দেব!”
রুদ্র হেসে বলল, “জ্বি, ম্যাডাম!”
বাইক চলতে থাকল। সন্ধ্যার বাতাসে জারার চুল উড়ছিল। তার মনে হচ্ছিল, জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর আজই পেয়ে যেতে হবে না। কিছু উত্তর সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়।
আর রুদ্রের সঙ্গে সে সেই সময়টুকু কাটাতে চায়।
বাড়ি ফিরে জারা নোটবুকটা খুলে প্রথম পাতার নিচে নিজের হাতে লিখল—
আজকের স্মৃতি: একটা নীল নোটবুক, এক কাপ চা, আর এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে ঝগড়া করতেও ভালো লাগে, আবার চুপচাপ বসে থাকতেও ভালো লাগে।
আমি এখনো নিশ্চিত নই, ভালোবাসা ঠিক কখন শুরু হয়। হয়তো কোনো বিশেষ মুহূর্তে নয়। হয়তো ছোট ছোট যত্নের ভেতরেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয়।
আজ আমি শুধু এটুকু জানি—রুদ্র রহমান আমার জীবনে থাকুক, এটা আমি মন থেকে চাই।
লেখা শেষ করে জারা নোটবুকটা বন্ধ করল।
ঠিক তখন রুদ্রের মেসেজ এল।
রুদ্র: বাসায় ঠিকমতো পৌঁছেছ?
জারা: হ্যাঁ।
রুদ্র: আজকের দিনটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
জারা: আমারও।
কিছুক্ষণ পর জারা নিজেই আরেকটা মেসেজ পাঠাল।
জারা: রুদ্র?
রুদ্র: বলো।
জারা: ধন্যবাদ।
রুদ্র: কিসের জন্য?
জারা অনেকক্ষণ ভেবে লিখল—
জারা: আমাকে তাড়াহুড়ো না করানোর জন্য।
রুদ্রের উত্তর এল—
রুদ্র: তোমার পাশে থাকতে চাই বলেই তোমাকে সময় দিতে চাই। তোমাকে নিজের মতো করে ভালোবাসতে শেখার সুযোগটুকু দাও।
জারা মেসেজটা পড়ে চোখ বন্ধ করল। তার মুখে শান্ত একটা হাসি ফুটে উঠল।
কিন্তু সেই রাতেই রুদ্রের মা ছেলেকে জানালেন, পরিবারের এক আত্মীয়ের বিয়েতে আগামী সপ্তাহে জারা ও রুদ্রকে একসঙ্গে যেতে বলা হয়েছে। আত্মীয়রা তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা বলতে চাইছেন।
রুদ্র বিষয়টা জারাকে কীভাবে জানাবে, তা ভেবে একটু চিন্তায় পড়ল।
কারণ সে জানে, তার ঝগড়ার রানী ভালোবাসার দিকে এগোতে রাজি হয়েছে ঠিকই—কিন্তু পরিবারের সামনে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গেলে আবারও তার ভয় ফিরে আসতে পারে।
রুদ্র ফোন হাতে নিয়ে জারাকে মেসেজ লিখতে শুরু করল। কয়েকবার লিখে আবার মুছে দিল।
শেষ পর্যন্ত শুধু লিখল—
রুদ্র: “জারা, আগামী সপ্তাহে তোমাকে একটা কথা বলতে হবে। তবে ভয় পেয়ো না, আমি তোমার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না।”
জারা মেসেজটা পড়ে ভ্রু কুঁচকাল।
জারা: “তোমার জীবনে কি কোনো দিন এমন আসে, যেদিন কোনো রহস্য থাকে না?”
রুদ্র: “তুমি থাকলে রহস্য থাকবেই।”
জারা হেসে ফেলল। কিন্তু তার মনের এক কোণে নতুন একটা প্রশ্ন জন্ম নিল—আগামী সপ্তাহে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে?
চলবে… ❤️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।