#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️
#পর্ব: ৮
#লেখক: মিস্টার পেন্সিল
সকাল থেকে জারা নওশীনের জীবনে একটা অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সমস্যাটার নাম—রুদ্র রহমান!
গত রাতে ছেলেটা এমন একটা মেসেজ দিয়েছে, যার পর থেকে জারা ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেনি। বারবার মনে হচ্ছে, আজ দেখা হলে রুদ্র কী বলবে? কোন কথাগুলো এখনো বলা হয়নি? আর সবচেয়ে বড় কথা, সে নিজেই বা কী শুনতে চায়?
অবশ্য জারা নিজের কাছে এসব স্বীকার করবে না।
সে শুধু জানে, আজ রুদ্রের সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করবে, এত রহস্য করার কী আছে!
সকাল সাড়ে আটটায় মিমি ঘরে ঢুকে দেখল, জারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে।
মিমি দরজায় হেলান দিয়ে বলল, “কোথায় যাচ্ছিস?”
জারা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল, “বিশ্ববিদ্যালয়ে।”
“আজ তো তোর ক্লাস এগারোটায়!”
“তাতে কী?”
“আর তুই সকাল সাড়ে আটটায় তৈরি হয়ে গেছিস?”
জারা চিরুনি নামিয়ে বলল, “আমি সময়ের মূল্য বুঝি।”
মিমি হেসে বলল, “বুঝিস তো! বিশেষ করে রুদ্র রহমানের সঙ্গে চা খাওয়ার সময়ের মূল্য!”
জারা বালিশ ছুড়ে মারল।
“তুই একদম অসহ্য!”
মিমি বালিশটা ধরে বলল, “আমি অসহ্য হলে রুদ্র কী? তোর জীবনের সবচেয়ে বড় বিনোদন?”
“আজকে যদি ও আমার সঙ্গে বেশি কথা বলে, আমি উঠে চলে আসব!”
“অবশ্যই। আর যদি কথা না বলে, তুই নিজেই ওর পেছনে ঘুরবি।”
জারা আর উত্তর দিল না। ব্যাগ কাঁধে তুলে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
মিমি পেছন থেকে চিৎকার করল, “চা খেয়ে বিল দিতে ভুলিস না!”
জারা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলল, “বিল ও দেবে!”
মিমি হাসতে হাসতে বলল, “বাহ! বিয়ের আগেই সংসারের হিসাব শুরু!”
“মিমি!”
“আচ্ছা, আর বলব না!”
কিন্তু মিমির হাসি থামল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের ছোট্ট চায়ের দোকানটায় রুদ্র আগে থেকেই বসে ছিল। সামনে দুটো কাপ, পাশে কিছু বিস্কুট। জারাকে আসতে দেখে সে ঘড়ির দিকে তাকাল।
“বাহ! আজ সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেছে নাকি?”
জারা চেয়ার টেনে বসে বলল, “কেন?”
“তুমি নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগেই এসেছ। আমার তো মনে হচ্ছে, আজকের দিনটা ইতিহাসে লেখা উচিত।”
জারা ব্যাগটা পাশে রেখে বলল, “আমি সময়ের মূল্য বুঝি। তোমার মতো ফালতু কথা বলে সময় নষ্ট করি না।”
রুদ্র হাসল।
“ঠিক আছে, ইতিহাসের পাতায় তোমার নাম লিখব—‘একজন মেয়ে, যে চায়ের জন্য সময়ের আগে হাজির হয়েছিল।’”
“আমি চায়ের জন্য আসিনি।”
“তাহলে?”
জারা এক মুহূর্ত থেমে বলল, “তুমি বলেছিলে কিছু কথা বলবে। সেগুলো শুনতে এসেছি।”
রুদ্রের মুখের হাসিটা একটু নরম হলো।
“বেশ। আগে চা খাও।”
জারা কাপ হাতে নিয়ে চুমুক দিল। চা বেশ ভালো। সে মনে মনে স্বীকার করল, জায়গাটা রুদ্রের পছন্দ হয়েছে বলে ভালো লাগছে না—চা সত্যিই ভালো।
রুদ্র বলল, “তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?”
“করো।”
“তুমি আমাকে এত অপছন্দ করো কেন?”
জারা কাপ নামিয়ে বলল, “কারণ তুমি সব সময় আমাকে বিরক্ত করো, আমার কথার জবাবে আরও দশটা কথা বলো, আর নিজের ভুল কখনো স্বীকার করো না।”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে। আর কিছু?”
জারা একটু ভেবে বলল, “তুমি নিজেকে খুব চালাক ভাবো।”
“আর?”
“তুমি... তুমি...”
“আমি?”
“তুমি খুব বেশি হাসো!”
রুদ্র হেসে ফেলল।
“এটা আবার অপরাধ?”
“আমার সামনে হলে অপরাধ!”
রুদ্র এবার চুপ করে তার দিকে তাকাল।
“জানো, তুমি রাগ করলে আমার হাসি পায়। কিন্তু তোমার মন খারাপ দেখলে হাসতে পারি না।”
জারা কাপের দিকে তাকিয়ে রইল।
কথাটা শুনে তার ভেতরে কোথাও যেন নরম কিছু একটা ছুঁয়ে গেল।
সে দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টাল।
“আচ্ছা, গতকাল বলেছিলে সব সত্যি কথা এখনো বলোনি। এবার বলো।”
রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আমি তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি, জারা। তোমার সঙ্গে ঝগড়া করতে, তোমার রাগী মুখ দেখতে, তোমার অদ্ভুত যুক্তি শুনতে—সবকিছু।”
জারা চোখ তুলে তাকাল।
রুদ্র আবার বলল, “আমি জানি না, এটাকে ভালোবাসা বলব কি না। কিন্তু তোমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে বুঝেছি, তোমার অনুপস্থিতি আমার ভালো লাগে না।”
জারার হাতের কাপটা স্থির হয়ে গেল।
রুদ্র শান্ত গলায় বলল, “তোমার কাছে এখনই কোনো উত্তর চাইছি না। শুধু চাই, তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দিও না।”
জারা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তুমি কি সবার সঙ্গেই এমন কথা বলো?”
রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “না। সবার সঙ্গে কথা বলার পর আমাকে এত ব্যাখ্যা দিতে হয় না।”
জারা হাসি আটকাতে পারল না।
“তুমি সত্যিই অসহ্য!”
রুদ্র মুচকি হাসল।
“এই কথাটা শুনেই বুঝলাম, আমাদের আলোচনা সফল হয়েছে।”
চা শেষ হয়ে গেলেও দুজনের কথার শেষ হচ্ছিল না।
জারা অনেকক্ষণ কাপের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “রুদ্র, একটা কথা বলি?”
“বলো।”
“আমি তোমাকে বিয়ে করার কথা এখনো ভাবতে পারছি না।”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “আমি তোমাকে আজই বিয়ে করতে বলিনি।”
“আমি জানি। কিন্তু আমার ভয় হয়।”
“কিসের ভয়?”
জারা আঙুল দিয়ে কাপের কিনারা ছুঁতে ছুঁতে বলল, “যদি কাউকে বিশ্বাস করি, তারপর সে বদলে যায়? যদি আজ যে মানুষটা আমার সঙ্গে হাসে, কাল সে আমাকে কাঁদায়?”
রুদ্রের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে বলল, “আমি তোমাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস করাতে চাই না। মানুষ ভবিষ্যতে কী করবে, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। তবে আমি চাই, তুমি আমাকে আমার কাজ দিয়ে চিনো। শুধু কথায় নয়।”
জারা ধীরে মাথা তুলল।
“আর যদি আমি কখনো তোমাকে কষ্ট দিই?”
রুদ্র হেসে বলল, “তাহলে প্রথমে ঝগড়া করব। তারপর তোমার কথা শুনব।”
জারা হেসে ফেলল।
“তুমি ঝগড়া না করে থাকতে পারো না, তাই না?”
“তোমার সঙ্গে তো পারি না।”
কথাটা বলেই রুদ্র থেমে গেল।
জারার গাল লাল হয়ে উঠল।
সে কাপটা টেবিলে রেখে বলল, “চলো, আমার ক্লাস আছে।”
রুদ্র হাসল।
“তোমার ক্লাস তো আরও এক ঘণ্টা পরে।”
জারা চোখ বড় করল।
“তুমি আমার রুটিন জানো?”
“নাটকের দলের গ্রুপে তুমি নিজেই লিখেছিলে।”
“ওহ!”
জারা ব্যাগ তুলে দাঁড়াল। কিন্তু এবার তার মুখে বিরক্তির বদলে ছোট্ট একটা হাসি ছিল।
রুদ্রও উঠে দাঁড়াল।
“জারা?”
“কী?”
“আজ আমার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ধন্যবাদ।”
জারা মুখ ঘুরিয়ে বলল, “আমি শুধু চা খেতে এসেছিলাম।”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “অবশ্যই। চায়ের কাপের নামই এখন থেকে রুদ্র রহমান।”
জারা হেসে ফেলল।
“তোমাকে আমি একদিন ঠিক করব!”
“সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।”
দুজন পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
তারা কেউই খেয়াল করল না, দূর থেকে নীলা তাদের একসঙ্গে দেখে মুচকি হাসছে।
দুপুরে ক্লাস শেষে জারা লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন নীলা তার কাছে এসে বলল, “তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি?”
জারা কিছুটা অবাক হলেও মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, বলুন।”
নীলা বলল, “রুদ্রকে নিয়ে একটা সাহায্য দরকার ছিল।”
জারার বুকের ভেতর অস্বস্তি হলো।
“কী সাহায্য?”
নীলা ব্যাগ থেকে একটা ছোট খাম বের করল।
“রুদ্রের জন্মদিন আগামী সপ্তাহে। স্কুলে আমরা বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর ওর জন্য কিছু একটা করতাম। এবার ওর জন্মদিনে আমি কয়েকজন পুরোনো বন্ধুকে নিয়ে ছোট্ট একটা আয়োজন করতে চাই। কিন্তু রুদ্র এসব পছন্দ করে না। আমাকে দেখলেই বুঝে ফেলবে।”
জারা চুপ করে শুনছিল।
নীলা বলল, “তুমি যদি ওকে অন্য কোথাও নিয়ে যাও, আমরা ততক্ষণে আয়োজনটা করতে পারব। তুমি ওর কাছের মানুষ হয়ে গেছ বলে তোমার সাহায্যটা চাইছি।”
কথাটা জারার কানে আটকে গেল।
ওর কাছের মানুষ হয়ে গেছ।
এই কথাটা কি নীলা সত্যিই বিশ্বাস করে? নাকি সে জানে না, জারা আর রুদ্রের সম্পর্কটা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে?
জারা ধীরে বলল, “আপনি রুদ্রকে নিজেই বলুন না। ও রাজি হবে না কেন?”
নীলা একটু থেমে বলল, “আসলে স্কুলের সময় একটা ঘটনা হয়েছিল। আমি চাই, ওর জন্মদিনে পুরোনো বন্ধুরা আবার একসঙ্গে হোক। রুদ্র হয়তো আমাকে না করবে না, কিন্তু আয়োজনের কথা জানলে আসতেই চাইবে না।”
জারা ভ্রু কুঁচকে বলল, “কী ঘটনা?”
নীলা মৃদু হেসে বলল, “সেটা ওর কাছ থেকেই শুনবে। আমি শুধু চাই, ওকে একটা ভালো দিন উপহার দিতে।”
জারা খামটার দিকে তাকিয়ে রইল।
সে কি সাহায্য করবে?
রুদ্রের জন্মদিনে তার নিজেরও কিছু করার ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু নীলার পরিকল্পনায় সাহায্য করতে গিয়ে যদি রুদ্র মনে করে, সে অন্য কাউকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
আবার সাহায্য না করলে নীলা কষ্ট পেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত জারা বলল, “আমি চেষ্টা করব। তবে রুদ্রকে জোর করে কোথাও নিয়ে যেতে পারব না।”
নীলা খুশি হয়ে তার হাত ধরল।
“ধন্যবাদ, জারা! তুমি সত্যিই খুব ভালো।”
নীলা চলে যাওয়ার পর জারা খামটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সে রুদ্রকে পছন্দ করতে শুরু করেছে কি না, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু রুদ্রের জীবনে তার নিজের একটা জায়গা আছে—এমন ভাবতে ভালো লাগে।
আর এখন সেই জায়গায় নীলাকে সাহায্য করতে হচ্ছে তাকে!
জারা নিজের মনকে ধমক দিল।
‘এটা তো শুধু একটা জন্মদিনের আয়োজন। এখানে ঈর্ষা করার কী আছে?’
কিন্তু মনকে যুক্তি বোঝানো সব সময় এত সহজ হয় না।
বিকেলে রুদ্র জারাকে ফোন করল।
“কোথায় তুমি?”
“ক্যাম্পাসে।”
“আমি লাইব্রেরির সামনে আছি। একটু দেখা করবে?”
জারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তার হাতে তখনো নীলার দেওয়া খাম।
সে বলল, “আজ পারব না। একটু কাজ আছে।”
রুদ্রের গলা বদলে গেল।
“কী কাজ?”
“ব্যক্তিগত কাজ। সবকিছু কি তোমাকে বলতে হবে?”
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর রুদ্র বলল, “না, বলতে হবে না। সময় পেলে জানিও।”
ফোন কেটে গেল।
জারা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
সে বুঝতে পারল, কথাটা একটু কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনই নীলার পরিকল্পনা বলে দিলে চমকটা নষ্ট হয়ে যাবে।
নিজেকে বোঝাল, পরে সব বুঝিয়ে বলবে।
কিন্তু সেই মুহূর্তে রুদ্রও অন্য একটা দৃশ্য দেখছিল।
লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে নীলা তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিল। হাতে একই রকম একটা খাম। রুদ্র কাছে আসতেই নীলা তাকে দেখে হাসল।
“রুদ্র! কেমন আছ?”
রুদ্র স্বাভাবিকভাবে বলল, “ভালো। তুমি?”
নীলা বলল, “জারার সঙ্গে কথা হয়েছে। ও সাহায্য করবে।”
রুদ্র থমকে গেল।
“কীসের সাহায্য?”
নীলা বুঝতে পারল, সে ভুল করে ফেলেছে। তবু বলল, “তোমার জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে। ও তোমাকে কিছু বলেনি?”
রুদ্রের মুখের ভাব বদলে গেল।
জারা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না বলেছে। অথচ নীলার সঙ্গে জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে কথা বলেছে!
তার মনে হলো, জারা হয়তো তার সঙ্গে সময় কাটাতে চাইছে না, অথচ বন্ধুত্বের খাতিরে অন্যদের সাহায্য করতে আপত্তি নেই।
রুদ্র নিজেকে বোঝাল, জারার নিজের জীবন আছে। সে কাকে সময় দেবে, সেটা তার সিদ্ধান্ত।
তবু বুকের ভেতর একটা ছোট্ট অভিমান জমে উঠল।
নীলা বলল, “তুমি রাগ করলে?”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল, “না। জারা যা ভালো মনে করেছে, তাই করেছে।”
কিন্তু তার কণ্ঠে যে কষ্টটা লুকিয়ে ছিল, নীলা সেটা বুঝতে পারল না।
সন্ধ্যায় জারা ফোন হাতে বসে রইল। রুদ্রের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। সকালে চায়ের টেবিলে যে ছেলেটা নিজের অনুভূতির কথা বলেছিল, বিকেলে সেই ছেলেটাই যেন আবার দূরে সরে গেছে।
জারা মেসেজ লিখল—
জারা: ‘তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছ?’
কিছুক্ষণ পর রুদ্রের উত্তর এল—
রুদ্র: ‘না।’
একটা শব্দ। শুধু একটা শব্দ!
জারা বিরক্ত হয়ে লিখল, ‘তাহলে এমন শুকনো উত্তর দিচ্ছ কেন?’
রুদ্র লিখল, ‘তুমি ব্যস্ত। বিরক্ত করতে চাই না।’
জারা এবার বুঝল, কিছু একটা হয়েছে।
সে ফোন করল।
রুদ্র ফোন ধরল, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো কথা এল না।
জারা বলল, “কী হয়েছে তোমার?”
রুদ্র শান্ত গলায় বলল, “কিছু হয়নি।”
“মিথ্যা বলছ।”
“তুমি তো সব সময় বলো, আমি বেশি কথা বলি। আজ কম বলছি, তাতেও সমস্যা?”
জারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“রুদ্র, প্লিজ! এমন করো না।”
ওপাশে নীরবতা।
তারপর রুদ্র বলল, “আজ সকালে তুমি আমার সঙ্গে সময় কাটিয়েছ। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আমরা একটু কাছাকাছি আসছি। কিন্তু বিকেলে তুমি আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে না। অথচ আমার জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছ। আমি বুঝতে পারছি না, তুমি আসলে কী চাও।”
জারার বুকটা ধক করে উঠল।
সে কি সব বলে দেবে? নীলার অনুরোধের কথা, জন্মদিনের আয়োজনের কথা—সব?
কিন্তু সে ভয় পেল, রুদ্র যদি মনে করে সে ইচ্ছা করে তাকে এড়িয়ে গেছে?
জারা ধীরে বলল, “আমি তোমাকে এড়িয়ে যাইনি। একটা কারণ আছে।”
“কী কারণ?”
জারা ঠোঁট কামড়ে রইল।
সে এখনো চমকটা নষ্ট করতে চায় না। অথচ এই নীরবতাই তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত সে বলল, “সব কথা এখনই বলা যায় না, রুদ্র।”
রুদ্রের কণ্ঠ নরম হলেও ক্লান্ত শোনাল।
“ঠিক আছে, জারা। যখন বলতে ইচ্ছে করবে, তখন বলো।”
ফোন কেটে গেল।
জারা কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল, একটা ছোট্ট চমক দিতে গিয়ে সে এমন একটা ভুল করে ফেলেছে, যার জন্য দুজনের মধ্যে আবার দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
রুদ্র জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনটা নামিয়ে রাখল।
সে জারাকে সন্দেহ করতে চায় না। কিন্তু নিজের অনুভূতিগুলোও আর সহজে লুকাতে পারছে না।
অন্যদিকে, জারা বিছানায় বসে সিদ্ধান্ত নিল—আগামীকাল রুদ্রের সঙ্গে দেখা করে সব বুঝিয়ে বলবে।
নীলার পরিকল্পনাও, নিজের দ্বিধাও।
কারণ সে বুঝতে শুরু করেছে, সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা সব সময় ঝগড়া নয়।
কখনো কখনো না বলা কথাই দুজন মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়।
চলবে… ❤️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।