Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বউ আমার ঝগড়ার রানী ❤️ পর্ব: ৫

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (252 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

#বউ আমার ঝগড়ার রানী ❤️


#পর্ব: ৫ 


#লেখক: মিস্টার পেন্সিল


জারা নওশীন জীবনে অনেক বিপদ দেখেছে। পরীক্ষার আগের রাতে সিলেবাস শেষ না হওয়া, মিমির কাছে নিজের গোপন কথা লুকাতে না পারা, আর সবচেয়ে বড় বিপদ—রুদ্র রহমানের মুখ বন্ধ করতে না পারা!


কিন্তু আজ যে বিপদটা তার জন্য অপেক্ষা করছে, সেটা সে কল্পনাও করেনি।


কারণ আজ তাকে একটা পারিবারিক দাওয়াতে যেতে হবে। আর সেখানে উপস্থিত থাকবে সেই অসহ্য ছেলেটা!


রুদ্র রহমান!


সকাল আটটা।


জারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছিল। বিছানায় ছড়িয়ে আছে তিনটা পোশাক। কোনটা পরবে, তা ঠিক করতে না পেরে সে বিরক্ত হয়ে একটা ওড়না বিছানায় ছুড়ে মারল।


মিমি বিছানায় বসে বাদাম খেতে খেতে বলল,


— তোর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দাওয়াতে না, বিয়ের আসরে যাচ্ছিস!


জারা চোখ বড় করে তাকাল।


— চুপ কর! আমি শুধু ঠিক করছি কোন ড্রেসটা পরব।


— হ্যাঁ, বুঝেছি। নিশ্চয়ই রুদ্র রহমানের সামনে নিজেকে সুন্দর দেখানোর প্রতিযোগিতা!


জারা হাতে থাকা চিরুনি নামিয়ে বলল,


— ওর সামনে সুন্দর দেখানোর কী আছে? ও তো একটা হাঁটাচলা করা বিরক্তি!


মিমি হেসে বলল,


— তাহলে কাল রাতে ও বাসায় পৌঁছে মেসেজ করেছিল কেন, সেটা নিয়ে এত আলোচনা করছিলি কেন?


জারা থমকে গেল।


গত রাতে রুদ্র লিখেছিল, ‘বাসায় পৌঁছেছি। এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাও, ছাতার মালিক।’


জারা উত্তর দিয়েছিল, ‘আমি তোমার জন্য চিন্তা করিনি। আমার ছাতার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম।’


রুদ্র লিখেছিল, ‘অবশ্যই। ছাতার জন্য তোমার চোখে এত মায়া দেখে আমি মুগ্ধ!’


তারপর জারা আর উত্তর দেয়নি। যদিও মেসেজটা দুবার পড়েছিল।


এটা অবশ্য কাউকে বলার মতো ঘটনা নয়!


জারা গলা পরিষ্কার করে বলল,


— ছাতার কথা বাদ দে। আজ আমি ওর সঙ্গে দেখা করতেই চাই না।


মিমি মুচকি হেসে বলল,


— খুব ভালো। কারণ আজ আমার খালার ছেলের গায়ে হলুদ। তুই আমার সঙ্গে যাবি, আর রুদ্রও আসবে। সে বরের কাজিন।


জারার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেল।


— কী বললি?


— যা শুনেছিস। তোর মা-ও যাবেন। আর রুদ্রের পরিবারকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।


জারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,


— এই পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে ওর পরিবারকেই দাওয়াত দিতে হলো কেন?


মিমি কাঁধ ঝাঁকাল।


— হয়তো ভাগ্য চায়, তোর ঝগড়ার নতুন একটা জায়গা তৈরি হোক!


— তুই আমার বন্ধু, নাকি আমার শত্রু?


— দুটোই। তবে আজ সাজতে দেরি করলে কিন্তু তোকে বাসায় রেখে চলে যাব!


জারা বিরক্ত মুখে পোশাকটা হাতে নিল।


— ঠিক আছে। তবে একটা কথা মনে রাখিস, রুদ্রের সঙ্গে দেখা হলেও আমি ওর দিকে তাকাব না!


মিমি মাথা নেড়ে বলল,


— অবশ্যই। তুই শুধু ওর দিকে তাকাবি না, ও কোথায় বসে, কার সঙ্গে কথা বলে, কখন খায়—এসবও খেয়াল করবি না!


— মিমি!


ঘরটা হাসিতে ভরে উঠল।


সন্ধ্যা সাতটা।


বাড়িটা আলো, ফুল আর মানুষের হাসিতে ভরে উঠেছে। উঠানে রঙিন বাতি ঝুলছে, একদিকে গান বাজছে, অন্যদিকে আত্মীয়স্বজনের আড্ডা চলছে।


জারা মায়ের সঙ্গে প্রবেশ করল। পরনে হালকা গোলাপি পোশাক, খোলা চুল আর ছোট্ট একজোড়া কানের দুল। তাকে আজ বেশ সুন্দর লাগছিল।


মিমি পাশে এসে ফিসফিস করে বলল,


— বাহ! ঝগড়ার রানীকে আজ তো রাজকন্যা লাগছে!


জারা হেসে বলল,


— তোর প্রশংসা শুনে সন্দেহ হচ্ছে, নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে।


— আছে তো! তোর মুখের হাসিটা সারাক্ষণ ধরে রাখার ষড়যন্ত্র!


জারা কিছু বলার আগেই পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।


— এই যে, ঝগড়ার রানী! আজ তোমাকে এত ভদ্র দেখাচ্ছে কেন?


জারা ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।


কালো পাঞ্জাবি পরা রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে। চুল সুন্দর করে আঁচড়ানো, মুখে সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি।


জারা চোখ সরু করে বলল,


— তোমাকে এত সুস্থ দেখাচ্ছে কেন? আমি ভেবেছিলাম, আমার সঙ্গে ঝগড়া না করে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে!


রুদ্র বুকের ওপর হাত রেখে বলল,


— তোমার অভাব অনুভব করেছি, কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাইনি।


জারা এক মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে গেল।


কথাটা কি সত্যি বলল?


না, নিশ্চয়ই আবার মজা করছে!


সে মুখ ঘুরিয়ে বলল,


— নিজের নাটক নিজের কাছে রাখো।


রুদ্র হেসে বলল,


— নাটক তো আজ মঞ্চে হবে। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটকের নায়িকা এখানে উপস্থিত। নায়ককে একটু সম্মান দেওয়া উচিত!


— তুমি নায়ক? তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, ভুল করে নাটকের ভিলেনকে ডেকে এনেছে!


— তাহলে তুমি নায়িকা না, ভিলেনের মাথাব্যথা!


পাশ দিয়ে যাওয়া তন্ময় কথাটা শুনে হেসে ফেলল।


— ভাই, তোরা দাওয়াতে এসেছিস, নাকি ঝগড়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে?


জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,


— ও শুরু করেছে!


রুদ্র নিরীহ মুখে বলল,


— আমি তো শুধু শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলাম।


তন্ময় মাথা নাড়িয়ে বলল,


— আল্লাহ তোদের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীকে ধৈর্য দিক!


জারা আর রুদ্র একসঙ্গে বলে উঠল,


— আমিন!


কথাটা বলেই দুজন দুজনের দিকে তাকাল।


এক সেকেন্ড নীরবতা।


তারপর জারা চোখ পাকিয়ে বলল,


— তুমি আমার সঙ্গে একসঙ্গে কথা বললে কেন?


রুদ্র হেসে উত্তর দিল,


— একই সঙ্গে আমিন বলেছি। বিয়ে তো আর করে ফেলিনি!


জারা মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল। পেছনে তন্ময় আর রুদ্রের হাসি শোনা গেল।


মিমি পাশে এসে ফিসফিস করল,


— তোদের ঝগড়ার মধ্যে বিয়ের কথাটা বেশ মানিয়ে যায় কিন্তু!


— আর একটা কথা বললে তোকে গায়ে হলুদের হলুদ দিয়ে এমন রাঙাব, তোর নিজের মা-ও চিনতে পারবে না!


খাওয়ার সময় জারা ভেবেছিল, অন্তত এই জায়গায় রুদ্রের হাত থেকে বাঁচতে পারবে।


কিন্তু খাবারের টেবিলে বসতেই দেখল, তার পাশের চেয়ারটা টেনে রুদ্র বসে পড়েছে।


জারা বিরক্ত হয়ে বলল,


— অন্য চেয়ার খালি নেই?


রুদ্র চারদিকে তাকাল।


— অনেকগুলোই খালি।


— তাহলে এখানে বসেছ কেন?


— কারণ এখানে বসলে খাবারের সঙ্গে বিনোদনও পাওয়া যায়।


জারা চামচ হাতে নিয়ে বলল,


— আর একটু কথা বললে খাবারের সঙ্গে চামচও খাওয়াব!


রুদ্র হেসে বলল,


— এত যত্ন! বিয়ের পর নিশ্চয়ই নিজের হাতে খাইয়ে দেবে!


জারা কাশতে গিয়ে প্রায় পানি ফেলে দিল।


— তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে হবে, এমন স্বপ্ন দেখেছ কখনো?


রুদ্র এবার একটু শান্ত গলায় বলল,


— স্বপ্ন দেখিনি। তবে তুমি প্রতিদিন এভাবে ঝগড়া করলে জীবনটা একঘেয়ে হবে না, এটুকু বুঝেছি।


জারা তার দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলেটা কথাটা মজা করেই বলেছে, কিন্তু কেন যেন তার উত্তর দিতে একটু সময় লাগল।


শেষ পর্যন্ত সে বলল,


— তোমার আত্মবিশ্বাসের চিকিৎসা দরকার।


রুদ্র নিজের প্লেট থেকে একটা মিষ্টি তুলে জারার প্লেটে রাখল।


— এই নাও। রাগ কমবে।


— আমি মিষ্টি খাই না।


— জানি। তাই তো তোমার জন্য নিয়েছি।


জারা ভ্রু কুঁচকে বলল,


— তুমি জানলে কীভাবে?


— ক্যাম্পাসে সবাই যখন মিষ্টি খাচ্ছিল, তুমি বলেছিলে মিষ্টির চেয়ে ঝাল খাবার তোমার বেশি পছন্দ।


জারা চুপ করে গেল।


এত ছোট একটা কথা রুদ্র মনে রেখেছে?


সে মিষ্টিটা প্লেটের এক পাশে সরিয়ে রাখল। কিন্তু রুদ্র অন্যদিকে তাকাতেই ছোট্ট একটা কামড় দিল।


রুদ্র দেখে ফেলল।


— কী ব্যাপার? মিষ্টি তো খাও না!


জারা তাড়াতাড়ি বলল,


— পরীক্ষা করে দেখছি বিষ মেশানো কি না!


— তাহলে পুরোটা খেয়ে পরীক্ষা শেষ করো।


জারা মিষ্টিটা খেয়ে মুখ গম্ভীর করে বলল,


— বেশি খুশি হয়ো না। মিষ্টিটা মোটামুটি ভালো ছিল।


রুদ্র হাসল।


— তোমার মুখ থেকে প্রশংসা শুনতে হলে মনে হয়, আগে একটা যুদ্ধ জিততে হবে!


— তোমার সঙ্গে যুদ্ধ জিতলে পুরস্কার কী?


রুদ্র একটু ভেবে বলল,


— আমার মুখ বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা!


জারা এবার হেসে ফেলল।


হাসিটা দেখে রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর আর কোনো খোঁচা দিল না। সে জানত, জারা হাসলে তাকে বিরক্ত করার লোভ হয় ঠিকই, কিন্তু সব মুহূর্তে মজা করতেই হবে এমন নয়।


খাওয়া শেষে জারা মায়ের খোঁজ করতে গিয়ে পাশের বসার ঘরের দরজার কাছে থামল। ভেতরে তার মা, রুদ্রের মা আর কয়েকজন আত্মীয় গল্প করছিলেন।


একজন মহিলা হাসতে হাসতে বললেন,


— আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন বড় হয়েছে। পড়াশোনাও চলছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময়ও তো আসবে!


জারার মা বললেন,


— অবশ্যই। তবে আগে পড়াশোনাটা শেষ হোক। জারা এখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করে।


রুদ্রের মা হেসে বললেন,


— আমাদের রুদ্রও কম যায় না। সারাক্ষণ কথা বলে, আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল!


আরেকজন আত্মীয় মজা করে বললেন,


— দুজনকে একসঙ্গে রাখলে বাড়িতে কখনো নীরবতা থাকবে না!


ঘরের সবাই হেসে উঠলেন।


দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জারার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।


দুজনকে একসঙ্গে রাখা মানে কী?


তার আর রুদ্রের কথা হচ্ছে নাকি?


সে দ্রুত সরে যেতে চাইল। কিন্তু ঠিক তখনই রুদ্র পাশে এসে দাঁড়াল।


— কী হলো? এমন মুখ করেছ কেন? কেউ কি তোমার ফুচকা কেড়ে নিয়েছে?


জারা নিচু গলায় বলল,


— তোমার পরিবার আর আমার পরিবার আমাদের নিয়ে কথা বলছে!


রুদ্র দরজার দিকে তাকিয়ে আবার জারার দিকে ফিরল।


— আমাদের নিয়ে? কী বলছে?


— ভবিষ্যৎ, একসঙ্গে থাকা—এসব কথা!


রুদ্র কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর মৃদু হেসে বলল,


— বড়রা তো অনেক কিছু নিয়েই মজা করেন। তাই বলে এখনই কিছু ঠিক হয়ে গেছে, এমন তো নয়।


জারা একটু থমকে গেল। সে ভেবেছিল রুদ্র হয়তো আবার বিয়ের কথা তুলে তাকে জ্বালাবে।


রুদ্র বলল,


— তুমি অস্বস্তি বোধ করলে আমরা বিষয়টা নিয়ে মজা করব না। ঠিক আছে?


জারা তার দিকে তাকাল। রুদ্রের মুখে এবার দুষ্টুমি নেই।


সে একটু স্বস্তি পেয়ে বলল,


— ভালো। কারণ তোমাকে বিয়ে করার চেয়ে একা পাহাড়ে গিয়ে থাকা ভালো!


রুদ্রের মুখে আবার হাসি ফুটল।


— পাহাড়ে গেলে কিন্তু তোমার সঙ্গে ঝগড়া করার জন্য আমাকে পাহাড়েও আসতে হবে!


— তুমি এলে আমি পাহাড় থেকে লাফ দেব!


— না, আগে আমাকে জানিও। আমি হেলমেট পরে আসব!


জারা নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল।


রুদ্রও হাসল, কিন্তু এবার কথাটা আর বাড়াল না।


দুজনের এই কথোপকথন দূর থেকে দেখে তন্ময় মিমিকে বলল,


— ওদের ঝগড়া দেখে মনে হচ্ছে, একদিন বিয়ের মঞ্চেও ঝগড়া করবে।


মিমি মাথা নেড়ে বলল,


— শুধু বিয়ের মঞ্চে? আমার তো মনে হয়, বিয়ের পরেও প্রতিদিন নতুন পর্ব বের হবে!


রাত বাড়তে শুরু করেছে। জারা মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাইরে গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে রুদ্র এগিয়ে এল।


— বাসায় পৌঁছে মেসেজ দিও।


জারা ভ্রু কুঁচকে বলল,


— কেন? তুমি কি আমার নিরাপত্তারক্ষী?


— না। তবে রাতে ঠিকঠাক পৌঁছেছ কি না জানতে চাওয়া অপরাধ হলে আর বলব না।


জারা একটু থেমে গেল।


রুদ্র কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবে বলেছে। কোনো খোঁচা নেই, কোনো জোর নেই।


সে মুখ ঘুরিয়ে বলল,


— ঠিক আছে, পৌঁছালে জানাব। কিন্তু এটা নিয়ে বেশি ভাবার কিছু নেই।


— আমি তো ভাবছি না। তুমি নিজেই ব্যাখ্যা দিচ্ছ!


— রুদ্র!


— আচ্ছা, আর বলছি না। সাবধানে যেয়ো।


জারা গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করল। গাড়ি চলতে শুরু করার আগে জানালার কাচ নামিয়ে বলল,


— আর হ্যাঁ, নিজের বাসায় পৌঁছে তুমিও জানাবে!


রুদ্র একটু অবাক হয়ে তাকাল।


তারপর হাসল।


— নিশ্চয়ই, ঝগড়ার রানী!


জারা দ্রুত জানালা তুলে দিল।


বাসায় ফেরার পুরো পথ তার মাথায় ঘুরতে থাকল আজকের ঘটনাগুলো—রুদ্রের হাসি, মিষ্টি মনে রাখা, বড়দের কথা শুনে তাকে অস্বস্তিতে না ফেলা, আর বিদায়ের সময় সেই সাধারণ কথাটা।


‘সাবধানে যেয়ো।’


কথাটা তো খুব সাধারণ। তবু বারবার মনে পড়ছে কেন?


বাসায় ফিরে পোশাক বদলে জারা ফোন হাতে নিল। রুদ্রকে মেসেজ দেওয়ার কথা ছিল।


সে লিখল—


জারা: বাসায় পৌঁছেছি।


কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—


রুদ্র: ভালো। আমিও একটু আগে পৌঁছেছি।


জারা মেসেজটা পড়ে ফোন নামিয়ে রাখতে যাচ্ছিল, তখন আরেকটা মেসেজ এল।


রুদ্র: আজকের দাওয়াতে তোমাকে সুন্দর লাগছিল।


জারা কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর লিখল—


জারা: চোখের সমস্যা হলে ডাক্তার দেখাও।


রুদ্র: ডাক্তার বলেছে, সমস্যা নেই। কিন্তু ঝগড়ার রানী প্রশংসা শুনলে অস্বীকার করে!


জারা: তোমার সঙ্গে কথা বলাই ভুল হয়েছে!


রুদ্র: তবু কথা বলছ।


জারা উত্তর দেওয়ার আগে কয়েকবার টাইপ করল, মুছল। শেষ পর্যন্ত লিখল—


জারা: শুভরাত্রি। আর আমাকে বিরক্ত করবে না।


রুদ্র: শুভরাত্রি, জারা। ভালো থেকো।


এবার আর কোনো খোঁচা নেই।


জারা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। কেন যেন তার মনে হলো, রুদ্র আরও কিছু বলবে। কিন্তু সে আর মেসেজ পাঠাল না।


জারা নিজেকে বোঝাল, ছেলেটা তার বন্ধু। এর বেশি কিছু নয়।


ঠিক তখনই মা ঘরে এসে বিছানার পাশে বসলেন।


— আজ দাওয়াতে ভালো লাগল?


— হ্যাঁ, মা।


— রুদ্রের সঙ্গে দেখা হলো?


জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,


— দুর্ভাগ্যবশত!


মা হেসে ফেললেন।


— ছেলেটা কিন্তু ভদ্র। আর তোমার সঙ্গে কথা বলার সময় তোকে বেশ হাসিখুশি লাগে।


— মা! ও আমাকে সারাক্ষণ বিরক্ত করে!


— তা তো দেখলাম। কিন্তু তুইও তো ওর সঙ্গে কম ঝগড়া করিস না।


জারা মুখ ফুলিয়ে বলল,


— আমি ওকে একদম পছন্দ করি না।


মা মৃদু হেসে বললেন,


— ঠিক আছে। এখনই কাউকে পছন্দ করতে হবে না। নিজের পড়াশোনা কর, নিজের মতো করে মানুষকে চিনে নে। ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নিতে হয় না।


জারা মায়ের কথায় একটু স্বস্তি পেল। মা তার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন না।


মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে জারা ফোনটা আবার হাতে নিল। রুদ্রের শেষ মেসেজটা তখনো স্ক্রিনে।


‘শুভরাত্রি, জারা। ভালো থেকো।’


জারা মৃদু হেসে বিড়বিড় করল,


— অসহ্য একটা ছেলে!


কিন্তু আজ সে আর নিজেকে বোঝাতে পারল না, রুদ্রের মেসেজ দেখে তার ভালো লাগেনি।


হয়তো ছেলেটাকে সে এখনো পছন্দ করে না।


হয়তো শুধু তার খুনসুটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।


অথবা, তার অজান্তেই মনের কোথাও ছোট্ট একটা পরিবর্তন শুরু হয়েছে।


জারা বালিশে মাথা রাখল। চোখ বন্ধ করার আগে মনে মনে বলল,


— রুদ্র রহমান, তোমাকে নিয়ে আমি একদমই ভাবছি না!


কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।


আর এই হাসির কারণটা সে নিজেও এখনো জানে না।


চলবে... ❤️image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 5120
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১২ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মনট&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১১ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালের আলো জানালার পর্দা ভে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ৯  #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ৮ #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকাল থেকে জারা নওশীনের জীবনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ৭  #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মেজ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2447 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    121 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    212 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...