Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বউ আমার ঝগড়ার রানী ❤️‍ পর্ব: ৪

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (252 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️‍🔥


#পর্ব: ৪


#লেখক: মিস্টার পেন্সিল


সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশীনের প্রথম কাজ হলো ফোন হাতে নেওয়া। সাধারণত ঘুম ভাঙার পর সে মিমিকে একটা মেসেজ দিয়ে দিনের শুরু করে। কিন্তু আজ তার চোখ আটকে আছে অন্য একজনের চ্যাটবক্সে।


রুদ্র রহমান!


গতকাল রাতেও ছেলেটা নাটকের মহড়া নিয়ে কত কথা বলল! কখনো স্ক্রিপ্টের সংলাপ, কখনো অভিনয়ের ভুল, আবার কখনো অকারণে জারাকে বিরক্ত করা। অথচ আজ সকাল থেকে তার কোনো খবর নেই।


জারা বারবার ফোনের স্ক্রিন জ্বালিয়ে দেখল। নতুন কোনো মেসেজ নেই।


— বাহ! কাল পর্যন্ত আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল, আর আজ নিজেই উধাও! ছেলেটার সমস্যা কী?


নিজের কথাতেই থমকে গেল সে।


রুদ্র মেসেজ না দিলে তার কী? ছেলেটা কথা না বললে তার শান্তিতে থাকার কথা। তাহলে সে বারবার ফোন দেখছে কেন?


ঠিক তখনই মিমির ফোন এল।


— কী রে ঝগড়ার রানী, সকাল সকাল কার চ্যাটবক্স পাহারা দিচ্ছিস?


— কারও না! নিজের ফোন দেখছি।


— ও আচ্ছা! ফোনের নাম কি রুদ্র রহমান?


— মিমি!


— কী হয়েছে? নামটা শুনেই তো আগুন জ্বলে উঠল!


— তুই একদম চুপ কর। আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে ওই ছেলেকে বুঝিয়ে দেব, আমাকে বিরক্ত না করলে পৃথিবী থেমে যায় না।


মিমি হাসতে হাসতে বলল,


— বুঝলাম। তুই আজ ওকে শিক্ষা দিবি, আর সেই শিক্ষার অজুহাতে সারাদিন ওর আশপাশেই থাকবি!


জারা ফোন কেটে দিল।


— অসহ্য মেয়ে!


কিন্তু ফোনটা নামিয়ে রাখার কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার হাতে তুলে নিল।


চ্যাটবক্স তখনো নীরব।


জারার মেজাজ আরও খারাপ হয়ে গেল।


ক্যাম্পাসে নতুন বিপদ


দুপুরের দিকে ক্লাস শেষ করে জারা মিমিকে নিয়ে ক্যান্টিনে গেল। নাটকের মহড়ার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া দরকার। গত কয়েক দিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাটক নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। আর সেই নাটকের প্রধান দুই চরিত্রে জারা ও রুদ্র!


জারা অবশ্য মনে মনে এখনো বুঝতে পারে না, শিক্ষক তাদের দুজনকে একসঙ্গে কাজ করার দায়িত্ব দিয়ে কী পুণ্য অর্জন করতে চেয়েছেন।


ক্যান্টিনে ঢুকেই মিমি একটা টেবিলের দিকে ইশারা করল।


— ওইদিকে তাকাস না, কিন্তু!


জারা সঙ্গে সঙ্গে তাকিয়ে ফেলল।


— কী আছে ওইদিকে?


তারপরই চোখ আটকে গেল দৃশ্যটায়।


রুদ্র একটা টেবিলে বসে আছে। তার সামনে বসা সুন্দরী এক মেয়ে হেসে হেসে কথা বলছে। মেয়েটি কথা বলার সময় একবার রুদ্রের হাতে আলতো করে স্পর্শ করল। রুদ্রও হাসল।


জারার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অস্বস্তি হলো।


সে চোখ সরিয়ে নিল।


আবার তাকাল।


মেয়েটা এবার আরও জোরে হেসে উঠেছে!


জারার ভ্রু কুঁচকে গেল।


— মিমি, মেয়েটা কে?


মিমি মুখ টিপে হাসল।


— কেন? পরিচয় করিয়ে দেব?


— আমি পরিচয় জানতে চেয়েছি, বিয়ের দাওয়াত চাইনি!


— তাহলে নিজেই গিয়ে জিজ্ঞেস কর। তোর তো কথা বলার অনেক অভিজ্ঞতা আছে!


জারা আর কথা না বাড়িয়ে সোজা রুদ্রের টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল।


মিমি পেছন থেকে ফিসফিস করে বলল,


— আল্লাহ, আজ ক্যান্টিনে বিনা টিকিটে নাটক দেখব!


জারা সেটা শুনেও না শোনার ভান করল।


টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সে গম্ভীর গলায় বলল,


— বাহ! আজকাল বেশ ব্যস্ত দেখছি!


রুদ্র মুখ তুলে তাকাল। তারপর ঠোঁটের কোণে পরিচিত দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।


— আরে, ঝগড়ার রানী! তুমি এখানে? আমি তো ভাবছিলাম, আজ আমাকে ছাড়া তোমার দিনটা বেশ শান্তিতে কাটছে।


— আমার দিন শান্তিতেই কাটছিল। তোমার টেবিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পরিবেশটা একটু দূষিত মনে হলো।


রুদ্র হেসে ফেলল।


পাশে বসা মেয়েটিও হাসতে হাসতে বলল,


— তুমি নিশ্চয়ই জারা নওশীন?


জারা একটু থমকে গেল।


— হ্যাঁ। কিন্তু আপনি আমাকে চেনেন কীভাবে?


মেয়েটি হাত বাড়িয়ে বলল,


— আমি তিথি। রুদ্রের স্কুলের বন্ধু। তোমার কথা ওর মুখে এত শুনেছি যে মনে হচ্ছিল, তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়াটা বাকি আছে শুধু!


জারা একবার তিথির দিকে, আরেকবার রুদ্রের দিকে তাকাল।


রুদ্র নিরীহ মুখ করে বলল,


— আমি কিন্তু তোমার নামে কোনো অভিযোগ করিনি।


তিথি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,


— অভিযোগ না, প্রশংসাই বেশি করেছে। তবে তোমাদের ঝগড়ার গল্প শুনে মনে হয়, তোমরা দুজন মিলে একটা আলাদা নাটক করতে পারবে!


জারার গাল সামান্য লাল হয়ে উঠল।


— ও যা বলে, তার অর্ধেকও বিশ্বাস করবেন না। ছেলেটা সারাক্ষণ মানুষকে বিরক্ত করে।


রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,


— দেখলে তিথি? আমার সম্পর্কে এত কিছু জানে যে আমার জীবনী লিখে ফেলতে পারবে!


— তোমার জীবনী লেখার মতো সময় আমার নেই!


— অথচ আমার মেসেজের উত্তর দেওয়ার মতো সময়ও তোমার নেই, আবার আমি মেসেজ না দিলে খোঁজ রাখার মতো সময় আছে!


জারা চমকে উঠল।


— কী বললে?


রুদ্র হেসে বলল,


— কিছু না। চা খাবে?


— তোমার মাথায় ঢেলে দেওয়ার জন্য হলে খাব!


তিথি আবার হেসে উঠল।


কিছুক্ষণ পর তিথি অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে চলে গেল। যাওয়ার আগে জারাকে বলল,


— তোমার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল। আবার দেখা হবে!


জারা ভদ্রভাবে হাসল।


তিথি চলে যেতেই রুদ্র তার দিকে তাকিয়ে বলল,


— তো, কেমন লাগল আমার বন্ধুকে?


— ভালোই। ভদ্র মেয়ে।


— তাহলে এতক্ষণ মুখটা এমন করে রেখেছিলে কেন?


— কেমন করে?


— মনে হচ্ছিল, কেউ তোমার প্রিয় ফুচকার শেষ টুকরাটা খেয়ে ফেলেছে!


— রুদ্র!


সে এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল,


— আচ্ছা, মজা বাদ দিলাম। তিথি আমার স্কুলের বন্ধু। অনেক দিন পর দেখা হয়েছে, তাই কথা বলছিলাম। তোমাকে দেখে যদি অস্বস্তি হয়ে থাকে, সেটা নিয়ে তোমাকে বিব্রত করতে চাই না। তবে কিছু খারাপ লাগলে আগে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো।


জারা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।


ছেলেটা সব সময় মজা করে ঠিকই, কিন্তু কখনো কখনো এমনভাবে কথা বলে যে জারা কী উত্তর দেবে বুঝতে পারে না।


সে মুখ ঘুরিয়ে বলল,


— আমার কিছু খারাপ লাগেনি।


— অবশ্যই না। তোমার মুখের ওই গম্ভীর ভাবটা নিশ্চয়ই ক্যান্টিনের বাতাসের জন্য!


— তুমি কি এক মিনিট চুপ থাকতে পারো?


— পারি। তবে তোমাকে রাগিয়ে দেওয়ার সুযোগটা খুব মিস করব।


জারা চোখ পাকাল। রুদ্র হেসে উঠল।


কিছুক্ষণ পর সে জারার সামনে একটা আইসক্রিম এগিয়ে দিল।


— নাও।


— এটা কেন?


— বন্ধুত্বের উপহার।


— আমি তোমার বন্ধু কবে হলাম?


রুদ্র একটু ভেবে বলল,


— ঠিক আছে, ভবিষ্যতের বন্ধুত্বের অগ্রিম উপহার।


জারা আইসক্রিমটা নিয়ে বলল,


— তোমার সঙ্গে তর্ক করার শক্তি আমার নেই।


রুদ্র মৃদু হেসে উত্তর দিল,


— তাহলে আইসক্রিম খাও। শক্তি ফিরে এলে আবার ঝগড়া করো।


জারা মুখে বিরক্তি দেখাল, কিন্তু আইসক্রিমটা ফেরত দিল না।


নাটকের মহড়ায় বিপত্তি


বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া শুরু হলো। শিক্ষক সবাইকে স্ক্রিপ্ট বুঝিয়ে দিয়ে বললেন,


— তোমাদের দুজনের দৃশ্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংলাপের সঙ্গে চোখের অভিব্যক্তি আর শরীরী ভাষাও মিলিয়ে অভিনয় করবে। আর নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত সংলাপ যোগ করার আগে আমাকে জানাবে!


শেষ কথাটা বলার সময় তিনি সরাসরি রুদ্রের দিকে তাকালেন।


রুদ্র বুকের ওপর হাত রেখে বলল,


— স্যার, আমি তো নিয়মের বাইরে একদমই যাই না!


জারা পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল,


— মিথ্যা বলার সময় অন্তত মুখটা একটু ছোট করো।


রুদ্র নিচু গলায় উত্তর দিল,


— তোমার সামনে সত্যি বললে তো তুমি ঝগড়া করার বিষয়ই পাবে না!


মহড়া শুরু হলো।


দৃশ্য অনুযায়ী, জারা রুদ্রের চরিত্রের ওপর রাগ করে চলে যেতে চাইবে। রুদ্র তাকে থামিয়ে নিজের অনুভূতি বোঝানোর চেষ্টা করবে।


জারা সংলাপ বলল,


— আমি তোমাকে একদম সহ্য করতে পারি না!


রুদ্র স্ক্রিপ্টের দিকে তাকিয়ে বলল,


— অথচ তুমি রাগ করলে আমার দিনটাই ভালো হয়ে যায়।


জারা সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল।


— এই সংলাপ কোথায় লেখা আছে?


রুদ্র স্ক্রিপ্ট দেখিয়ে বলল,


— এই যে, এখানে। একটু নিজের মতো করে বললাম।


— নিজের মতো করে বলার দরকার নেই!


শিক্ষক দূর থেকে বললেন,


— রুদ্র, স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করো। জারা, তুমিও চরিত্রের মধ্যে থাকো।


দুজনেই মাথা নাড়ল।


পরের দৃশ্যে রুদ্রের চরিত্রকে জারার হাত ধরে তাকে থামাতে হবে। দৃশ্যটা শুরু করার আগে রুদ্র নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল,


— হাত ধরার অংশটা ঠিক আছে তো? অস্বস্তি হলে আমরা অন্যভাবে করতে পারি।


জারা একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। তারপর চোখ সরিয়ে বলল,


— স্ক্রিপ্টে যা আছে, সেটাই করো। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে বাড়াবাড়ি করবে না।


— ঠিক আছে, ম্যাডাম পরিচালক!


দৃশ্য শুরু হলো।


রুদ্র আলতো করে জারার হাত ধরল। জারার সংলাপ বলার কথা ছিল, “আমাকে ছেড়ে দাও!”


কিন্তু রুদ্রের চোখের দিকে তাকাতেই তার মাথা থেকে সংলাপ উধাও হয়ে গেল।


কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।


রুদ্র ফিসফিস করে বলল,


— সংলাপ ভুলে গেছ?


জারা দ্রুত হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,


— না! আমি অভিনয়টা আরও বাস্তব করার চেষ্টা করছিলাম!


পাশ থেকে তন্ময় হেসে বলল,


— হ্যাঁ, এত বাস্তব যে সংলাপও বাস্তবতা দেখে পালিয়েছে!


সবাই হেসে উঠল।


জারা তন্ময়ের দিকে আঙুল তুলে বলল,


— তুমি হাসছ কেন? তোমাকে নাটকে নিলে দর্শক প্রথম দৃশ্যেই হল ছেড়ে পালাবে!


তন্ময় মুখ বন্ধ করে ফেলল।


রুদ্র হেসে বলল,


— আমার ঝগড়ার রানী কিন্তু অভিনয়েও আগুন!


জারা তার দিকে তাকিয়ে বলল,


— আর তুমি আগুনে ঘি ঢালার বিশেষজ্ঞ!


মহড়া শেষ হওয়ার পর শিক্ষক তাদের অভিনয়ের প্রশংসা করলেন। জারা সেটা শুনে খুশি হলো, যদিও রুদ্রকে সেটা বোঝার সুযোগ দিল না।


বৃষ্টির দিনে অদ্ভুত যত্ন


ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় আকাশ কালো হয়ে এল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হলো।


জারা ব্যাগ থেকে ছাতা বের করতে গিয়ে বুঝল, আজ সে ছাতা আনেনি।


— ধুর! আজই ছাতা আনতে ভুললাম!


রুদ্র পাশে এসে দাঁড়াল।


— আমার কাছে একটা অতিরিক্ত ছাতা আছে। নাও।


জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।


— তুমি এত ভালো কেন হচ্ছ?


— আমি কি সব সময় খারাপ?


— বেশির ভাগ সময়।


— তাহলে আজ ব্যতিক্রম হিসেবে মনে রেখো।


জারা ছাতাটা নিল। রুদ্র নিজেও একটা ছোট ছাতা খুলল।


দুজন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বাসস্টপে পৌঁছাল। বৃষ্টির শব্দে চারপাশটা কেমন শান্ত লাগছিল।


রুদ্র বলল,


— বাসায় পৌঁছে একটা মেসেজ দিও। ছাতাটা ঠিকঠাক নিয়ে গেছ কি না, সেটাও জানতে পারব।


জারা ছাতার হাতল শক্ত করে ধরে বলল,


— আমি বাসায় পৌঁছালে মেসেজ দেব। তবে তুমিও বাসায় পৌঁছে জানাবে।


রুদ্র অবাক হওয়ার ভান করল।


— আমার জন্য এত চিন্তা?


— একদম না! ছাতাটা তোমার। হারিয়ে গেলে যেন আবার আমাকে দোষ দিতে না পারো!


— অবশ্যই। ছাতার নিরাপত্তার জন্যই তুমি আমার বাসায় পৌঁছানোর খবর জানতে চাও।


— রুদ্র, বেশি কথা বললে ছাতাটা ফেরত দিয়ে বৃষ্টিতে দাঁড় করিয়ে রাখব!


রুদ্র হেসে বলল,


— ঠিক আছে, আর বলছি না। সাবধানে যেয়ো, জারা।


কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠে কোনো দুষ্টুমি ছিল না।


জারা বাসে ওঠার আগে একবার পেছনে তাকাল। রুদ্র তখনো বাসস্টপে দাঁড়িয়ে ছিল। চোখাচোখি হতেই সে হাত নাড়ল।


জারা দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।


কিন্তু বাসের জানালার পাশে বসে তার ঠোঁটে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল।


রাতের মেসেজ


রাতে বাসায় ফিরে জারা ছাতাটা নিজের ঘরের একপাশে রেখে ফোন হাতে নিল। রুদ্রকে মেসেজ দেওয়ার কথা ছিল। সে লিখল—


জারা: বাসায় পৌঁছেছি। ছাতাটা ঠিক আছে।


কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।


রুদ্র: ভালো। তুমি ঠিক আছ তো?


জারা মেসেজটা দুবার পড়ল।


জারা: হ্যাঁ। আপনি কি সবার সঙ্গেই এমন করেন?


মেসেজ পাঠিয়েই সে কপালে হাত দিল।


— এটা কী লিখলাম আমি!


ওপাশ থেকে উত্তর এল।


রুদ্র: কী রকম?


জারা: এই যে, এত খোঁজ নেওয়া!


রুদ্র: না। সবার সঙ্গে এত কথা বলতে ভালো লাগে না।


জারার বুকের ভেতর আবার সেই অদ্ভুত অনুভূতিটা হলো।


কিছুক্ষণ পর আরেকটা মেসেজ এল।


রুদ্র: কারণ সবাই জারা নওশীন নয়।


জারা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর তাড়াতাড়ি লিখল—


জারা: এসব সংলাপ নাটকের স্ক্রিপ্টে ব্যবহার করবেন না। আপনার অভিনয় এমনিতেই বেশি!


রুদ্র: বুঝলাম। প্রশংসা শুনলে ঝগড়া, আর মেসেজ না দিলে রাগ!


জারা: আমি রাগ করিনি!


রুদ্র: ঠিক আছে, ঝগড়ার রানী। শুভরাত্রি।


জারা উত্তর দিল না। ফোনটা পাশে রেখে বালিশে মুখ গুঁজে দিল।


কিন্তু ঘুম আসছিল না।


ক্যান্টিনে তিথির সঙ্গে রুদ্রের হাসাহাসি, মহড়ার সময় তার চোখের দিকে তাকানো, বৃষ্টির মধ্যে ছাতা এগিয়ে দেওয়া—সবকিছু একটার পর একটা মনে পড়ছিল।


জারা নিজেকে বোঝাল, রুদ্র তার বন্ধু হলেও নয়, তার জীবনে বিশেষ কেউ নয়। ছেলেটা সবার সঙ্গেই এমন হতে পারে।


কিন্তু মনের ভেতর থেকে ছোট্ট একটা প্রশ্ন উঠল—


রুদ্র যদি একদিন সত্যিই তাকে বিরক্ত করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে কি জারা খুশি হবে?


উত্তরটা সে নিজেও জানে না।


ঠিক তখনই ফোনে মিমির মেসেজ এল।


মিমি: কাল কিন্তু আমার সঙ্গে তোর একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেতে হবে। বিস্তারিত পরে বলব। আর হ্যাঁ, রুদ্রকে নিয়ে বেশি ভাবিস না!


জারা সঙ্গে সঙ্গে লিখল—


জারা: আমি রুদ্রকে নিয়ে ভাবছি না!


মিমির উত্তর এল—


মিমি: আমি তো শুধু নাম বলেছি। তুই নিজেই স্বীকার করে ফেললি!


জারা ফোনটা বিছানায় ছুড়ে দিল।


— এই মেয়েটাকে একদিন আমি সত্যিই খুন করে ফেলব!


তারপর কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ফোনটা আবার তুলে নিল। রুদ্রের চ্যাটবক্সে শেষ মেসেজটা তখনো জ্বলজ্বল করছে—


“কারণ সবাই জারা নওশীন নয়।”


জারা মৃদু হেসে ফেলল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বিড়বিড় করল,


— বেশি খুশি হওয়ার কিছু নেই, রুদ্র রহমান। তোমাকে এখনো সহ্য করতে পারি না!


কিন্তু তার ঠোঁটের হাসিটা আর মিলিয়ে গেল না।


চলবে... ❤️‍🔥image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 5119
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️‍🔥 #পর্ব: ৩  #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকালবেলা জারা নওশীনের ঘর&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️‍🔥 #পর্ব: ২  #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকাল ৮টা ৩০ মিনিট। ঢাকা ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১২ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মনট&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১১ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালের আলো জানালার পর্দা ভে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ৯  #লেখক: মিস্টার পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2447 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    121 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    212 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...