Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

ই-নলেজ আইডিয়া

আপনার লেখার কি আছে নিজস্ব পরিচয়, স্বীকৃতি ও স্থায়ী ঠিকানা?

Author ID, স্বতন্ত্র eID, লেখার পরিচয় যাচাই, জীবন্ত পোর্টফোলিও ও ফ্রি প্রমোশন—লেখালেখির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম।

বিস্তারিত পড়ুন ↓

আমাদের মনের ভেতর প্রতিদিন কত শত ভাবনা আসে, কত অনুভূতি জন্ম নেয়, কত কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিছু কথা কাউকে বলা হয় না, কিছু অনুভূতি ভাষা খুঁজে পায় না, আবার কিছু ভাবনা মুহূর্তের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় চিরতরে।

অথচ সেই ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন একটি সুন্দর গল্প হয়ে উঠতে পারত, একটি কবিতা হয়ে কারও হৃদয় ছুঁতে পারত, কিংবা এমন কোনো লেখা হয়ে উঠতে পারত, যার মধ্যে অন্য কেউ খুঁজে পেত নিজের জীবনের গল্প।

তাই যা কিছু ভাবনায় আসে, তা এক বাক্যে হলেও লিখে রাখা উচিত। কে জানে, আজকের ছোট্ট একটি ভাবনাই হয়তো একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লেখাটি হয়ে উঠবে!

আর একটা কথা ভেবেছেন? একদিন হয়তো আপনি অনেক দূরে চলে যাবেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও আপনার নাম মুছে যেতে পারে। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া লেখাগুলো আপনার অনুভূতি, চিন্তা ও অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কেউ হয়তো আপনার লেখা পড়ে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন, আপনার অজানা কোনো অনুভূতি বুঝতে পারবেন। আপনি তাঁর কাছে অপরিচিত হয়েও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর অনুভূতির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন। এটাই তো লেখার এক অসাধারণ ক্ষমতা!

কিন্তু এত সৃষ্টির স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো লেখা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়, আইডির কিছু হলে লেখার সোর্সও মুছে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেখাগুলো ছড়িয়ে থাকায় নিজের লেখক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও তৈরি করা কঠিন। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার তারিখ বা তথ্যও পরিবর্তন করা সম্ভব। আবার কেউ লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করলে মূল লেখককেই অনেক সময় নিজের লেখার পরিচয় ও প্রকাশনার উৎস খুঁজে বের করে প্রমাণ করতে হয়।

একজন লেখক কি তাঁর সময় ও শ্রম লেখালেখিতে ব্যয় করবেন, নাকি নিজের লেখার লিংক ফেরি করে বেড়াবেন?

এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে Enolej Idea। এটি কেবল লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; লেখকের নিজস্ব পরিচয়, প্রতিটি সৃষ্টির স্বতন্ত্র পরিচয়, লেখার সংরক্ষণ, স্বীকৃতি এবং পাঠকের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত ডিজিটাল লেখালেখির ইকোসিস্টেম।

১. নিজস্ব লেখক পরিচয় — Author ID

প্রতিটি লেখকের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র লেখক আইডি নম্বর। নিজের লেখক প্রোফাইলে পরিচিতি, প্রকাশিত লেখা ও লেখালেখির পথচলা একসঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন। এই Author ID Bio, CV কিংবা নিজের বইয়েও ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে লেখক হিসেবে আপনার পরিচয়ের জন্য থাকবে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানা।

২. প্রতিটি লেখার আলাদা পরিচয় — eID

একজন লেখকের প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র eID। এটি নির্দিষ্ট লেখাটিকে তার মূল প্রকাশনা ও লেখকের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। মনে রাখবেন, Author ID হলো লেখকের পরিচয়, আর eID হলো নির্দিষ্ট লেখার পরিচয়।

৩. eID Verification System

eID Verified: লেখার সঙ্গে স্বতন্ত্র eID ও মূল প্রকাশনার রেফারেন্স যুক্ত করার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে লেখাটির পরিচয় ও Enolej Idea-তে মূল প্রকাশনার তথ্য তুলে ধরা যায়।

eID Scan: eID Verified চিহ্নযুক্ত লেখা স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে সংশ্লিষ্ট লেখক, eID ও মূল প্রকাশনার পরিচয় যাচাই করার সুবিধা।

eID Bridge: বাইরের প্রকাশনা বা প্ল্যাটফর্মেও eID ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, যাতে মূল লেখার পরিচয় ও Enolej Idea-তে প্রকাশিত লেখার সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে।

eID ব্যবস্থা লেখার পরিচয় ও মূল প্রকাশনার তথ্য যাচাই এবং স্বত্বের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। এটি নিজে থেকে আইনি কপিরাইট নিবন্ধনের বিকল্প নয়।

৪. জীবন্ত লেখক পোর্টফোলিও

আপনার সব লেখা এক জায়গায় সাজিয়ে তৈরি করুন নিজের জীবন্ত পোর্টফোলিও। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখা যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আপনার লেখক পরিচয়। পাঠকও সহজেই এক জায়গা থেকে আপনার সব সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

৫. লেখালেখির আরও সুবিধা

সিরিজ ও পর্ব: ধারাবাহিক লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজিয়ে রাখুন, যাতে পাঠক সহজেই পরবর্তী পর্বগুলো খুঁজে পান।

Draft ও Notes: অসম্পূর্ণ লেখা, প্রাথমিক ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নোট সংরক্ষণ করুন।

এক ক্লিকে ই-বুক ও পাণ্ডুলিপি: নিজের প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করে ই-বুক বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করুন।

পাঠকের সঙ্গে সংযোগ: মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন।

Points, Badges ও Ranking: লেখালেখি ও পাঠক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পয়েন্ট, ব্যাজ ও র‍্যাঙ্কিং অর্জনের সুযোগ।

ফ্রি প্রমোশন ও Google Discoverability: নিজের লেখা ও লেখক পরিচিতি আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুরু করতে পারেন আজই।

আপনি নতুন লেখক হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন—নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে ভালোবাসলেই শুরু করতে পারেন। প্রতিটি লেখাই অসাধারণ হতে হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ভাবনাগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে নিজের লেখকসত্তাকে গড়ে তোলা।

আপনার ভাবনাগুলো মূল্যবান। সেগুলো শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও যত্ন করে রেখে দিন।

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline] →

Enolej Idea — Write. Preserve. Be remembered.

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৮

লেখা যখন কণ্ঠে! শুনতে প্রস্তুত? প্রতি শনি, সোম ও বুধবার | বিকেল ৪টা ▶ FACEBOOK | ▶ YOUTUBE
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (376 পয়েন্ট)   9 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
eID স্ক্যান · লেখাটি যাচাই করা হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন…

#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️


#পর্ব: ১৮


#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল


সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশীন সিদ্ধান্ত নিল, আজ সে কোনোভাবেই রুদ্র রহমানের কথায় গলবে না।


একদম না!


ছেলেটা নাকি আজ নাটকের মঞ্চে স্ক্রিপ্টের বাইরে একটা সত্যি কথা বলবে। কথাটা কী, সেটা জারা জানে না। কিন্তু তার মনে হচ্ছে, রুদ্র আবার এমন কিছু বলবে, যার উত্তর দিতে গিয়ে তাকে নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে।


জারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল বাঁধতে বাঁধতে নিজেকে বলল,


— আমি ভয় পাই না। আমি কাউকে ভয় পাই না। আর রুদ্রকে তো একদমই না!


ঠিক তখনই মিমির ফোন এল।


— সুপ্রভাত, ভবিষ্যৎ ভাবি!


জারা চোখ বন্ধ করল।


— তুই কি কোনো দিন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবি না?


— পারব। যেদিন তুই রুদ্র ভাইকে ভালোবাসিস বলে স্বীকার করবি।


— তাহলে তোকে সারা জীবন অপেক্ষা করতে হবে।


মিমি হেসে বলল,


— ঠিক আছে। আমি অপেক্ষা করছি। তবে একটা কথা বল—আজ রুদ্র ভাই যদি সবার সামনে বলে, সে তোকে ভালোবাসে, তখন কী করবি?


জারা চুলের বাঁধনটা শক্ত করতে করতে বলল,


— বলব, নাটকের সংলাপ ভালো হয়েছে!


— আর যদি বলে, নাটক শেষ হলেও সে তোর সঙ্গে থাকতে চায়?


জারার হাত থেমে গেল।


মিমি এবার নরম স্বরে বলল,


— দেখ, তোকে কেউ জোর করছে না। কিন্তু নিজের মনকে সবসময় ঝগড়া দিয়ে চুপ করিয়ে রাখিস না।


জারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,


— ফোন রাখ। দেরি হচ্ছে।


মিমি হেসে বলল,


— যা, ঝগড়ার রানী। আজ তোর রাজ্যে প্রেমের বিচার বসুক!


জারা ফোন কেটে দিয়ে বিড়বিড় করল,


— এই মেয়েটাকে একদিন সত্যি সত্যি বিচার করতে হবে!


কিন্তু নিজের অজান্তেই সে হাসছিল।


বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আজ রঙিন আলো, ফুল আর ব্যানারে সাজানো হয়েছে। সামনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক—সব মিলিয়ে বেশ বড় আয়োজন।


জারা মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে স্ক্রিপ্টের পাতা উল্টাচ্ছিল। যদিও সে সংলাপ মুখস্থ করে ফেলেছে, তবু বারবার একই পাতা দেখছে।


রুদ্র পাশে এসে দাঁড়াল।


— এতবার স্ক্রিপ্ট দেখছিস কেন? নতুন কোনো সংলাপ লিখবি নাকি?


জারা চোখ না তুলেই বলল,


— নিজের কাজ কর।


— নিজের কাজই করছি। নায়িকার খোঁজ নিচ্ছি।


— নায়িকা ঠিক আছে। নায়ককে দেখে মনে হচ্ছে, তার মাথায় সমস্যা আছে।


রুদ্র হাসল।


— নায়িকার কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার আশায় আছি। মাথার একটু সমস্যা তো হবেই।


জারা এবার তার দিকে তাকাল।


— তুই কি আজও স্ক্রিপ্টের বাইরে কথা বলবি?


রুদ্রের মুখের হাসিটা একটু শান্ত হলো।


— হ্যাঁ।


— কী বলবি?


— সেটা আগে বলে দিলে তো আর চমক থাকবে না।


জারা বিরক্ত হয়ে বলল,


— আমি চমক পছন্দ করি না।


— জানি। তুই সবকিছুর আগে ঝগড়া পছন্দ করিস।


— রুদ্র!


— আচ্ছা, আর বলছি না।


সে চলে যেতে উদ্যত হলে জারা হঠাৎ বলে উঠল,


— শোন!


রুদ্র ফিরে তাকাল।


— কী?


জারা একটু ইতস্তত করে বলল,


— যা-ই বলিস, আমাকে যেন সবার সামনে বিব্রত হতে না হয়।


রুদ্র এবার পুরোপুরি গম্ভীর হয়ে গেল।


— কথা দিচ্ছি। তোর সম্মান বা স্বস্তির চেয়ে আমার কোনো সংলাপ বড় নয়। তুই অস্বস্তিতে পড়িস, এমন কিছু আমি করব না।


জারা তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।


কিছুক্ষণ পর সে মাথা নেড়ে বলল,


— ঠিক আছে।


রুদ্র মৃদু হাসল।


— আর একটা কথা?


— আবার কী?


— আজ কিন্তু তুই খুব সুন্দর লাগছিস।


জারা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নিল।


— তোর চোখ পরীক্ষা করা দরকার!


রুদ্র হেসে চলে গেল।


জারা মনে মনে বলল, ‘ছেলেটা এমন কেন? এক মুহূর্তে রাগিয়ে দেয়, পরের মুহূর্তেই সব রাগ ভুলিয়ে দেয়!’


নাটক শুরু হলো সন্ধ্যা ছয়টায়।


প্রথম কয়েকটি দৃশ্য বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে গেল। দর্শক হাসল, হাততালি দিল। তন্ময় মঞ্চের পাশ থেকে জারাকে থাম্বস-আপ দেখাল। মিমি সামনের সারিতে বসে এমনভাবে হাসছিল, যেন নাটকের গল্পের চেয়ে নায়ক-নায়িকার বাস্তব সম্পর্ক নিয়েই তার আগ্রহ বেশি।


অবশেষে এল শেষ দৃশ্য।


নাটকে জারার চরিত্রটি দীর্ঘদিন ধরে নায়ককে ভুল বুঝেছে। নায়ক বারবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু মেয়েটি নিজের ভয় আর অভিমানের কারণে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনি।


শেষ মুহূর্তে নায়ক তার সামনে এসে দাঁড়াল।


রুদ্র সংলাপ শুরু করল,


— তুমি সবসময় ভাবো, আমি তোমাকে হারানোর ভয় দেখিয়ে তোমার কাছ থেকে উত্তর আদায় করতে চাই। কিন্তু আমি চাই না তুমি ভয় পেয়ে আমার পাশে দাঁড়াও। আমি চাই, তুমি নিজের ইচ্ছায় আমার পাশে দাঁড়াও।


জারা নিজের সংলাপ বলল,


— আর যদি আমি কখনো তোমাকে বিশ্বাস করতে না পারি?


রুদ্র এক মুহূর্ত থামল।


তারপর স্ক্রিপ্টের বাইরে বলল,


— তাহলে আমি তোমাকে বিশ্বাস করার জন্য সময় দেব। কারণ তোমাকে ভালোবাসার মানে এই নয় যে তোমাকে আমার মতো করে চলতে হবে। তোমার নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে।


অডিটোরিয়াম নিস্তব্ধ হয়ে গেল।


জারা সংলাপের পরের লাইন ভুলে গেল।


কারণ কথাগুলো শুধু নাটকের নায়িকার জন্য ছিল না। সে বুঝতে পারছিল, রুদ্র তার সঙ্গে কথা বলছে।


রুদ্র আবার বলল,


— আমি তোমার প্রতিটি রাগ পছন্দ করি, এমন নয়। কিন্তু তোমার রাগের আড়ালে যে মানুষটা ভয় পায়, যে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখে, তাকেও আমি বুঝতে চাই। তুমি আজ আমাকে উত্তর না দিলেও চলবে। শুধু নিজের মনকে ভয় পেয়ে কোনো উত্তর দিও না।


জারার চোখ ভিজে উঠল।


সে স্ক্রিপ্টের কথা ভুলে নিজের মতো করে বলল,


— আর যদি একদিন আমি নিজেই তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই?


রুদ্রের চোখে মৃদু হাসি ফুটল।


— তাহলে দরজাটা খোলা থাকবে।


জারা তার দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর নাটকের শেষ সংলাপটি বলল,


— তাহলে আজ থেকে পালিয়ে নয়, তোমার পাশে দাঁড়িয়ে পথ চলতে শিখব।


দর্শক হাততালিতে অডিটোরিয়াম ভরিয়ে দিল।


কিন্তু জারার কাছে তখন হাততালির কোনো শব্দই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তার মনে হচ্ছিল, সে যেন নিজের মনের একটা দরজা একটু খুলে দিয়েছে।


রুদ্র হাত বাড়িয়ে দিল। নাটকের নিয়ম অনুযায়ী তাদের একসঙ্গে দর্শকদের অভিবাদন জানানোর কথা।


জারা তার হাত ধরল।


এবার সে হাতটা লুকাল না।


মঞ্চ থেকে নামতেই মিমি ছুটে এসে জারাকে জড়িয়ে ধরল।


— তুই দেখেছিস কী হয়েছে? রুদ্র ভাই তো আজ সরাসরি হৃদয়ের দরজায় কড়া নেড়েছে!


জারা বলল,


— মিমি, আস্তে কথা বল!


— কেন? সবাই শুনুক! আমি তো আগেই বলেছিলাম, এই নাটকের শেষ দৃশ্যটা তোদের বাস্তব জীবনের ট্রেলার!


তন্ময়ও এসে যোগ দিল।


— ভাই, তোর সংলাপ শুনে আমারও প্রেম করতে ইচ্ছে করছে!


রুদ্র হেসে বলল,


— আগে কাউকে খুঁজে বের কর। তারপর সংলাপ লিখিস।


তন্ময় দীর্ঘশ্বাস ফেলল।


— বন্ধুরা প্রেমে পড়লে বন্ধুরাই সবচেয়ে বেশি একা হয়ে যায়!


জারা হাসি চাপতে পারল না।


ঠিক তখনই তার মা এগিয়ে এলেন। পাশে রুদ্রের মাও ছিলেন।


জারার মা বললেন,


— নাটকটা খুব সুন্দর হয়েছে। তোমাদের অভিনয় দেখে সত্যিই ভালো লাগল।


রুদ্রের মা হেসে বললেন,


— আমাদের ছেলেটা আজ বেশ ভালোই অভিনয় করেছে!


জারা মাথা নিচু করে বলল,


— জি, আন্টি।


রুদ্রের মা মৃদু হেসে তার হাত ছুঁয়ে বললেন,


— তোমরা দুজন একে অপরকে বুঝে চলতে পারলে সেটাই সবচেয়ে ভালো। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।


জারার বুকের ভেতর স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। অন্তত এখানে কেউ তাকে এখনই কোনো উত্তর দিতে বলছেন না।


কিন্তু ঠিক তখনই জারার মা বললেন,


— জারা, বাড়ি গিয়ে তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে।


জারা মায়ের মুখের দিকে তাকাল।


— কী কথা, আম্মু?


মা মৃদু হাসলেন।


— আগে বাড়ি চল। তারপর বলব।


জারার মনে আবার অস্বস্তি ফিরে এল।


রাতে বাড়ি ফিরে জারা মায়ের ঘরে গেল। মা বিছানায় বসে ছিলেন। জারাকে পাশে বসতে ইশারা করলেন।


— আজ তোমার অভিনয় দেখে একটা কথা মনে হলো, মা।


জারা সতর্ক হয়ে বসল।


— কী কথা?


— তুমি রুদ্রকে আগের মতো অপছন্দ করো না, তাই তো?


জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,


— আমি এমন কিছু বলিনি!


মা হাসলেন।


— আমি তো বলিনি তুমি ভালোবাসো। শুধু জিজ্ঞেস করলাম, অপছন্দ করো কি না।


জারা ঠোঁট কামড়ে চুপ করে রইল।


মা তার হাত ধরে বললেন,


— রুদ্রের পরিবার আজ আমাদের সঙ্গে একটা কথা বলেছে। তারা চায়, তোমরা দুজন যদি নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে নিশ্চিত হও, তাহলে দুই পরিবার বসে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে পারে। এখনই বিয়ে নয়, কোনো তাড়াহুড়োও নয়। শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা।


জারা স্থির হয়ে গেল।


— মানে, আবার বিয়ের কথা?


— বিয়ের জন্য চাপ নয়, মা। তারা তোমার মতামতকে গুরুত্ব দেবে বলেছে। আমরাও দেব। তুমি না চাইলে কিছুই হবে না।


জারা মাথা নিচু করল।


তার মনে পড়ল রুদ্রের কথা—‘তোমার নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে।’


সে ধীরে বলল,


— আম্মু, আমি রুদ্রকে হারাতে চাই না। কিন্তু এখনই কোনো সম্পর্ককে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বেঁধে ফেলতে চাই না। আমি আগে ওকে আরও ভালোভাবে জানতে চাই।


মা স্নেহভরে তার মাথায় হাত রাখলেন।


— তাহলে সেটাই বলবে। নিজের সত্যিটা বলতে ভয় পেও না।


জারা মাকে জড়িয়ে ধরল।


— তুমি আমার ওপর রাগ করবে না তো?


— তোর জীবন নিয়ে নিজের মতামত জানালে আমি কেন রাগ করব?


জারার চোখে পানি চলে এল। এতদিন সে ভেবেছিল, ভালোবাসা মানেই হয়তো এমন একটা সিদ্ধান্ত, যেটা নিতে দেরি করলে সবাই অভিমান করবে। আজ বুঝল, তাকে সময় দেওয়ার মানুষও আছে।


ঘরে ফিরে জারা রুদ্রকে মেসেজ দিল।


জারা: আজকের সংলাপগুলো কি শুধু নাটকের জন্য ছিল?


কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।


রুদ্র: না। তবে আমি তোকে কোনো উত্তর দিতে বাধ্য করব না।


জারা লিখল—


জারা: আমাদের পরিবার আবার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে চায়। আনুষ্ঠানিকভাবে বসার কথাও বলেছে।


রুদ্রের উত্তর আসতে একটু সময় লাগল।


রুদ্র: তুই কী চাস?


জারা দীর্ঘক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর লিখল—


জারা: আমি চাই, আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝি। আমি তোকে হারাতে চাই না। কিন্তু এখনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নই।


রুদ্রের উত্তর এল—


রুদ্র: তাহলে সেটাই হবে। তোর প্রস্তুতির আগে কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমরা ধীরে এগোব।


জারার ঠোঁটে হাসি ফুটল।


জারা: আর একটা কথা।


রুদ্র: বল, ঝগড়ার রানী।


জারা: আজ মঞ্চে তুই যা বলেছিস, সেটা আমার ভালো লেগেছে।


রুদ্র: শুধু সংলাপটা?


জারা চোখ ঘুরিয়ে লিখল—


জারা: বেশি বাড়াবাড়ি করিস না। প্রশংসা ফিরিয়ে নেব!


রুদ্র: ঠিক আছে। তবে আমি আজ খুব খুশি।


জারা: কেন?


রুদ্র: কারণ আজ তুই আমাকে হারানোর ভয় নয়, পাশে থাকার ইচ্ছার কথা বলেছিস।


জারা ফোনটা বুকে চেপে ধরল।


তারপর ডায়েরি খুলে লিখল—


“আজ বুঝলাম, ভালোবাসা মানে সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়। ভালোবাসা মানে এমন একজনকে পাওয়া, যার সামনে নিজের ভয়টুকুও লুকাতে হয় না। আমি এখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই। কিন্তু রুদ্রের সঙ্গে পথ চলার ইচ্ছেটা আজ আর অস্বীকার করতে পারছি না।”


ডায়েরি বন্ধ করে সে জানালার বাইরে তাকাল।


তার জীবনে প্রথমবার মনে হলো, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় থাকলেও সেই ভবিষ্যতের কথা ভাবতে তার আর একা লাগছে না।


তবে জারা জানত না, পরদিন দুই পরিবারের আলোচনায় এমন একটি প্রশ্ন উঠবে, যার উত্তর দিতে গিয়ে তাকে নিজের মনের সবচেয়ে কঠিন সত্যটির মুখোমুখি হতে হবে।


চলবে… ❤️image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 5216
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব:১০ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারা নওশ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৭ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে ঘুম থেকে উঠে জারা নওশী[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৬ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল বিয়েবাড়ি মানেই আলো, গান, সাজগো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৫ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকাল থেকেই জারা নওশীনের মাথা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️ #পর্ব: ১৪ #লেখক_মিস্টার_পেন্সিল সকালে নাশতার টেবিলে বসে জারা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. Mayabi Ilmaz Megh

    603 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    30 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    283 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    102 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Qrrier

    31 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...