#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️
#পর্ব: ১৬
#লেখক_মিস্টার_পেন্সিল
বিয়েবাড়ি মানেই আলো, গান, সাজগোজ আর মানুষের একগাদা প্রশ্ন। আর সেই বিয়েবাড়িতে যদি জারা নওশীন আর রুদ্র রহমান একসঙ্গে হাজির হয়, তাহলে প্রশ্নের সংখ্যা যে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, সেটা বুঝতে খুব বেশি বুদ্ধির প্রয়োজন হয় না!
কিন্তু জারার সমস্যা অন্য জায়গায়।
সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওড়নাটা ঠিক করতে করতে বিড়বিড় করছিল,
— মানুষের আর কোনো কাজ নেই? নিজের বিয়ে নিজেরা সামলাতে পারে না? অন্যের জীবন নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?
পাশ থেকে মিমি হেসে বলল,
— তুই কি বিয়েতে যাচ্ছিস, নাকি বিয়েবাড়ির সব অতিথির সঙ্গে ঝগড়া করতে যাচ্ছিস?
জারা চোখ পাকাল।
— দুটোই করতে পারি। প্রয়োজন হলে খাবারের দায়িত্বও নিয়ে নেব!
— বাহ! রুদ্রকে দেখে কী করবি?
— কেন? ও কি খাবার নাকি, যে দেখলেই খেয়ে ফেলব?
মিমি এবার হেসে বিছানায় গড়িয়ে পড়ল।
— না রে, খাবার না। তবে তোর মুখের হাসি দেখে মনে হয়, ছেলেটাকে তুই মনে মনে অনেক আগেই নিজের প্লেটে তুলে রেখেছিস!
জারা বালিশ ছুড়ে মারল।
— বের হ! এখনই বের হ আমার ঘর থেকে!
মিমি বালিশটা ধরে দরজার দিকে যেতে যেতে বলল,
— ঠিক আছে, যাচ্ছি। তবে রুদ্র ভাইকে বলব, তার ঝগড়ার রানী আজ লজ্জায় লাল হয়ে আছে!
— মিমি!
দরজা বন্ধ হওয়ার আগেই মিমি পালিয়ে গেল।
জারা আয়নায় নিজের গাল দুটো দেখল। সত্যিই কি একটু লাল হয়ে গেছে?
সে সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর করে ফেলল।
— ধুর! গরম লাগছে।
অথচ জানালার বাইরে তখন ঠান্ডা বাতাস বইছে!
সন্ধ্যা সাতটার দিকে রুদ্র তাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। পরনে কালো পাঞ্জাবি, সাদা পায়জামা। চুলও আজ একটু বেশি যত্ন নিয়ে সাজানো।
গাড়ি থেকে নেমে জারা তাকে একবার দেখে বলল,
— কী ব্যাপার? আজ এত সাজগোজ কেন? বিয়েটা তোর নাকি?
রুদ্র ভ্রু তুলে বলল,
— তুই তো বলেছিলি, আমাকে ভদ্রলোকের মতো দেখতে লাগে না। তাই আজ চেষ্টা করলাম।
— চেষ্টা ভালো। কিন্তু ভদ্রলোক হতে আরও অনেক সময় লাগবে।
— সমস্যা নেই। তুই পাশে থাকলে প্রতিদিন অনুশীলন করতে পারব।
জারা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। ছেলেটা কথাটা এমন স্বাভাবিকভাবে বলল যে রাগ করার মতো জায়গাই সে খুঁজে পেল না।
রুদ্র গাড়ির দরজা খুলে দিল।
— উঠুন, ঝগড়ার রানী। আজকের সন্ধ্যায় আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।
জারা গাড়িতে বসতে বসতে বলল,
— আমার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তুই নিজের মুখ সামলানোর ব্যবস্থা কর।
— জি, ম্যাডাম। তবে মুখ বন্ধ রাখলে আপনার মন খারাপ হবে না তো?
জারা জানালার বাইরে তাকাল।
— তোর সঙ্গে কথা বলাই ভুল!
রুদ্র মুচকি হাসল।
— অথচ সেই ভুলটা তুই প্রতিদিন করিস।
জারা আর উত্তর দিল না। কারণ কথাটা সত্যি!
বিয়েবাড়িতে পৌঁছানোর পর জারার মনে হলো, সে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে নয়, বরং প্রশ্নের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে।
প্রথমেই রুদ্রের এক খালা এগিয়ে এলেন।
— আরে, এই তো জারা! তোমার কথা তো অনেক শুনেছি। রুদ্রের সঙ্গে তোমাকে বেশ মানিয়েছে!
জারা ভদ্রভাবে হাসল।
— ধন্যবাদ, খালা।
খালা আবার প্রশ্ন করলেন,
— তা তোমাদের ব্যাপারটা কত দূর এগোল?
জারার হাসিটা মুহূর্তেই আটকে গেল।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রুদ্র শান্তভাবে বলল,
— খালা, এখনো আমরা একে অপরকে বুঝছি। দোয়া করবেন, যেন ভালো বন্ধু হতে পারি। ভবিষ্যতে যা হওয়ার, তা সময়মতো হবে।
খালা হেসে বললেন,
— আচ্ছা, আচ্ছা! বুঝেছি। এখনই কিছু বলছ না!
তিনি চলে যেতেই জারা রুদ্রের দিকে তাকাল।
— তুই এত সুন্দর করে কথা বলতে পারিস, আগে জানতাম না!
রুদ্র অবাক হওয়ার ভান করল।
— সত্যি? তাহলে আজ থেকে প্রতিদিন আমার সঙ্গে কথা বলার আগে অনুমতি নিতে হবে। আমি যে এত ভদ্র, সেটা বুঝতে সময় লাগবে।
— বেশি কথা বললে এখানেই তোর ভদ্রতার পরীক্ষা নিয়ে নেব!
— পরীক্ষা নে। তবে ফলাফলটা যেন ভালো হয়।
জারা হাসি চাপতে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
রুদ্র সেটা দেখেও কিছু বলল না। কারণ সে জানে, জারার হাসিটা প্রকাশ্যে স্বীকার করানো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।
কিছুক্ষণ পর সবাই নবদম্পতির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মঞ্চের সামনে জড়ো হলো। জারার মা আর রুদ্রের মা পাশাপাশি বসে গল্প করছিলেন। তাঁদের মুখের হাসি দেখে জারার মনে হলো, নিশ্চয়ই তার অজান্তে কোনো পরিকল্পনা চলছে।
সে মায়ের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— আম্মু, তোমরা আবার কী আলোচনা করছ?
মা মুচকি হেসে বললেন,
— কিছু না রে। তোরা দুজন একসঙ্গে এসেছিস, দেখে ভালো লাগছে।
— ভালো লাগার আর কিছু পেলেন না?
— পেয়েছি তো। তুই যখন রুদ্রের নাম শুনে রাগ করিস, তখনও তোর মুখে হাসি থাকে।
জারা হতভম্ব হয়ে বলল,
— আম্মু! তুমি এসব কোথা থেকে শিখছ?
মা হেসে তার গাল ছুঁয়ে দিলেন।
— বড় হচ্ছিস, মা। সব অনুভূতির উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দিতে হয় না। শুধু নিজের মনকে মিথ্যা বলিস না।
কথাটা জারার মনে কোথাও গিয়ে লাগল।
সে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রুদ্রের দিকে তাকাল। ছেলেটা কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছিল। হঠাৎ তাদের চোখাচোখি হলো। রুদ্র দূর থেকেই হাসল।
জারা চোখ ফিরিয়ে নিলেও তার ঠোঁটের কোণে হাসিটা থেকে গেল।
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়ে এক চাচি হেসে বললেন,
— রুদ্র, জারার হাতটা ধরো। তোমাদের একসঙ্গে বেশ সুন্দর লাগছে!
জারা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— চাচি, ছবি তুলতে হাত ধরতে হবে কেন?
চাচি হেসে বললেন,
— আরে মা, ছবি তো সুন্দর হতে হবে!
রুদ্র জারার দিকে তাকাল। চোখে দুষ্টুমি থাকলেও কণ্ঠে ছিল নরম স্বর।
— ধরব?
প্রশ্নটা শুনে জারা একটু থমকে গেল। সবাই মজা করলেও রুদ্র তার অনুমতি চাইছে।
জারা চারপাশে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,
— এত মানুষের সামনে আবার নাটক করিস না।
রুদ্র সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিল।
— ঠিক আছে। তোর অস্বস্তি হলে দরকার নেই।
কথাটা শুনে জারার বুকের ভেতর কেমন যেন হলো। রুদ্র তাকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করল না। অথচ সে নিজেই বুঝতে পারছিল না, কেন ছেলেটার হাতটা ধরতে তার এত ইচ্ছে করছে!
রুদ্র অন্যদিকে তাকাতেই জারা ধীরে ধীরে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল।
রুদ্র অবাক হয়ে তাকাল।
জারা মুখ গম্ভীর করে বলল,
— ছবি তুলতে দেরি হচ্ছে। হাত ধর, নইলে সবাই আবার কথা বলা শুরু করবে!
রুদ্রের ঠোঁটে হাসি ফুটল। সে আলতো করে জারার হাত ধরল—এমনভাবে, যেন হাতটা ধরে রাখার চেয়ে জারার স্বস্তিটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি তোলার সময় জারা মাথা নিচু করে রেখেছিল। কিন্তু রুদ্রের হাতের উষ্ণতা অনুভব করে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি ছড়িয়ে পড়ছিল।
ছবি তোলা শেষ হওয়ার পরও সে সঙ্গে সঙ্গে হাত ছাড়ল না।
রুদ্র নিচু স্বরে বলল,
— ম্যাডাম, ছবি তো তোলা শেষ।
জারা চমকে হাত ছেড়ে দিল।
— আমি কি জানি না? হাতটা গরম হয়ে গিয়েছিল!
রুদ্র হাসল।
— অবশ্যই। হাত গরম, কান লাল, আর মুখে রাগ। পুরো ব্যাপারটাই আবহাওয়ার দোষ!
জারা তার বাহুতে হালকা একটা চিমটি কাটল।
— আর একটা কথা বললে তোর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলব!
— পাঞ্জাবি ছিঁড়িস না। এটা নতুন।
— তাহলে পুরোনো পাঞ্জাবি পরে আসবি!
— তুই বললে পুরোনোটাই পরে আসব।
জারা থেমে গেল।
কিছু কিছু কথা আছে, যেগুলোর জবাব ঝগড়া দিয়ে দেওয়া যায় না। কারণ সেগুলো মনের খুব কাছের জায়গায় গিয়ে লাগে।
রাতের খাবারের পর বাড়ির পেছনের বাগানে একটু নিরিবিলি জায়গা পেল জারা। চারদিকে ছোট ছোট আলো, ফুলের গন্ধ আর দূর থেকে ভেসে আসা গানের শব্দ। সে একা দাঁড়িয়ে ছিল, এমন সময় রুদ্র এসে পাশে দাঁড়াল।
— কী ভাবছিস?
জারা বলল,
— ভাবছি, মানুষের এত প্রশ্ন করার দরকার কী?
— উত্তর না দিলেও তো পারিস।
— সবাইকে উত্তর না দিলে আবার বলবে, আমি নাকি রাগী।
রুদ্র হেসে বলল,
— তুই রাগী, এটা তো নতুন খবর না।
জারা কনুই দিয়ে তাকে ধাক্কা দিল।
— তোর সঙ্গে কথা বলাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি।
— তা হলে শাস্তিটা চালিয়ে যাবি তো?
জারা এবার তার দিকে তাকাল। রুদ্রের মুখে হাসি থাকলেও চোখে কোনো ঠাট্টা ছিল না।
সে ধীরে বলল,
— জানি না, রুদ্র। মাঝে মাঝে ভয় হয়। সবাই যখন আমাদের নিয়ে এত কথা বলে, তখন মনে হয়—আমাদের নিজেদের অনুভূতিগুলোও কি একসময় অন্যদের সিদ্ধান্তের মধ্যে আটকে যাবে?
রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,
— আমি সেটা হতে দেব না। তুই যত দিন সময় চাইবি, তত দিন সময় পাবি। আমাদের সম্পর্কের নাম কী হবে, সেটা ঠিক করার অধিকার আমাদের দুজনের। অন্য কারও নয়।
জারা নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
— আর যদি একদিন বুঝি, আমি তোকে ভালোবাসি না?
রুদ্র মৃদু হাসল।
— তা হলে কষ্ট পাব। কিন্তু তোর সিদ্ধান্তকে অসম্মান করব না। ভালোবাসা তো কাউকে আটকে রাখার নাম না, জারা।
জারা তার দিকে তাকাল। ছেলেটার কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরের ভয়টা একটু হলেও কমে গেল।
সে আস্তে করে বলল,
— তুই মাঝে মাঝে এত ভালো কথা বলিস কেন?
— যাতে তুই ভুলে না যাস, আমার ভালো দিকও আছে।
— তোর ভালো দিক খুঁজতে গেলে মাইক্রোস্কোপ লাগবে!
রুদ্র হেসে ফেলল।
— সমস্যা নেই। তুই খুঁজে দেখ। আমি অপেক্ষা করছি।
জারা এবার সত্যিই হেসে উঠল।
কিছুক্ষণ পর সে নিজেই রুদ্রের হাত ধরল। কোনো ছবি তোলার জন্য নয়, কাউকে দেখানোর জন্যও নয়—শুধু নিজের ইচ্ছায়।
রুদ্র তার দিকে তাকাল, কিন্তু কিছু বলল না।
জারা বলল,
— এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
— ভাবছি, আজকের দিনটা ডায়েরিতে লিখে রাখব কি না।
— কী লিখবি?
রুদ্র একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
— ঝগড়ার রানী আজ নিজে থেকে আমার হাত ধরেছে। ঐতিহাসিক ঘটনা!
জারা সঙ্গে সঙ্গে হাত ছেড়ে দিল।
— যা! তোর হাত ধরাটাই ভুল হয়েছে!
রুদ্র হেসে বলল,
— ঠিক আছে। ভুলটা আবার কবে করবি?
জারা চলে যাওয়ার ভান করেও কয়েক পা পর থেমে গেল। পেছনে তাকিয়ে বলল,
— কাল ক্যাম্পাসে দেখা হবে। তখন কিন্তু এসব নিয়ে একটা কথাও বলবি না!
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,
— ঠিক আছে।
জারা সন্দেহের চোখে তাকাল।
— সত্যি?
— সত্যি। তবে তুই নিজে থেকে বললে আলাদা কথা।
জারা আর দাঁড়াল না। দ্রুত ভেতরে চলে গেল। কিন্তু তার মুখের হাসি আর লুকানো গেল না।
সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে জারা ডায়েরি খুলল।
“আজ অনেক মানুষের সামনে রুদ্র আমার হাত ধরেছিল। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার হলো, হাতটা ধরে রাখার সিদ্ধান্তটা শেষ পর্যন্ত আমারই ছিল।
আমি এখনো জানি না, এই অনুভূতির নাম ভালোবাসা কি না। শুধু জানি, ও যখন বলে আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে, তখন ওকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। আর ও যখন হাসে, তখন আমার সব রাগের হিসাব গুলিয়ে যায়।
সমস্যা একটাই—আমি যদি সত্যিই ওকে ভালোবেসে ফেলি, তাহলে ওর সঙ্গে ঝগড়া করব কী নিয়ে?”
ডায়েরি বন্ধ করার আগেই ফোনে রুদ্রের মেসেজ এল।
রুদ্র: বাসায় পৌঁছেছিস?
জারা: হ্যাঁ। তুই?
রুদ্র: আমিও। আর একটা কথা—আজ হাত ধরার অনুমতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
জারা মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর লিখল—
জারা: এত ভদ্র হওয়ার দরকার নেই। কাল থেকে আবার আগের মতো বিরক্ত করবি।
রুদ্রের উত্তর এল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।
রুদ্র: নিশ্চিন্ত থাক। তোর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার!
জারা হেসে ফোনটা বালিশের পাশে রাখল।
কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার মনে হলো, আজ বিয়েবাড়িতে শুধু একটা হাতই ধরা পড়েনি—তার নিজের মনটাও যেন একটু একটু করে রুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে।
আর এই খবরটা যদি মিমি জানতে পারে, তাহলে আগামীকাল ক্যাম্পাসে তার শান্তি বলে কিছু থাকবে না!
চলবে… ❤️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।