#বউ_আমার_ঝগড়ার_রানী ❤️
পর্ব: ১
লেখক: মিস্টার পেন্সিল
কিছু মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখা হলে মনে হয়, মানুষটা হয়তো একদিন জীবনের সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠবে। আবার কিছু মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখা হলে মনে হয়, এই মানুষটাকে জীবন থেকে যত দূরে রাখা যায়, ততই শান্তি!
কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের মনের মতো চলে না। কখনো কখনো যাকে সহ্য করতে পারি না, একদিন তাকেই ছাড়া সবকিছু অসম্পূর্ণ মনে হয়। আর সেই মানুষটাই যদি একদিন জীবনসঙ্গী হয়ে যায়, তাহলে?
তখন ঝগড়ারও হয়তো আলাদা একটা নাম হয়—ভালোবাসা!
সকাল ১০টা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক উৎসব। সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। কোথাও গান চলছে, কোথাও নাচের মহড়া, আবার কোথাও শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্টল সাজাতে ব্যস্ত। রঙিন ব্যানার, ফুল আর মানুষের কোলাহলে চারপাশটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করল একটি কালো গাড়ি।
গাড়ি থেকে নামল লম্বা, সুদর্শন এক তরুণ। পরনে কালো জিনস, সাদা টি-শার্টের ওপর খোলা কালো শার্ট, হাতে দামি ঘড়ি। এলোমেলো চুল আর ঠোঁটের কোণে আত্মবিশ্বাসী হাসি।
তার নাম রুদ্র রহমান। বয়স বাইশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে হওয়ায় জীবনে তেমন অভাবের মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। দেখতে সুন্দর, কথা বলতে পটু, আর দুষ্টুমির জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ পরিচিত।
গাড়ির দরজা বন্ধ করে সে সানগ্লাস চোখে পরল।
— আহা! কী সুন্দর সকাল! আজকে কার জীবন অতিষ্ঠ করা যায়?
পেছন থেকে কথাটা শুনে তার বন্ধু তন্ময় থমকে গেল।
— ভাই, তোর সকাল শুরু হয় মানুষের জীবন নষ্ট করার পরিকল্পনা দিয়ে?
রুদ্র হেসে বলল,
— জীবন নষ্ট বলছিস কেন? আমি মানুষের জীবনে আনন্দ নিয়ে আসি।
— তোর আনন্দ আর মানুষের বিপদ একই জিনিস।
— হিংসা করিস না। জনপ্রিয় মানুষের জীবনে শত্রু থাকবেই।
তন্ময় দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— তুই জনপ্রিয় না, তুই একটা চলন্ত সমস্যা!
রুদ্র বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে বলল,
— সমস্যা হলেও আমি সুদর্শন সমস্যা।
তন্ময় এবার হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই রুদ্রের ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠল—ইরা ভাবি।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ইরার কণ্ঠ শোনা গেল।
— হ্যালো, মিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় কাঁপানো! আজ আবার কী কাণ্ড করতে যাচ্ছিস?
রুদ্র গম্ভীর গলায় বলল,
— ভাবি, আপনি আমাকে এত ভুল বোঝেন কেন? আমি খুব শান্তশিষ্ট ছেলে।
— তোর এই কথা শুনে আমার চায়ের কাপও হাসছে।
— আপনি আমাকে অপমান করছেন!
— বাসায় আয়, সরাসরি করব। আর শোন, আজ কোনো মেয়েকে বিরক্ত করবি না।
রুদ্র মুচকি হেসে বলল,
— আমি কাউকে বিরক্ত করি না। মেয়েরাই আমার উপস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে যায়।
— এই আত্মবিশ্বাসটা যদি একটু কমত, পৃথিবীর মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারত!
কথাটা বলে ইরা ফোন কেটে দিল।
রুদ্র ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসল।
তন্ময় বলল,
— তোদের দেবর-ভাবির সম্পর্কটা স্বাভাবিক না।
— সম্পর্কটা স্বাভাবিক। শুধু আমরা দুজনই অসাধারণ!
দুজন হাসতে হাসতে উৎসবের মূল মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেল।
তারা কেউ জানত না, আজকের দিনেই রুদ্রের জীবনে এমন একজনের আগমন ঘটবে, যে তার আত্মবিশ্বাসকে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ জানাবে।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিট
উৎসবের মঞ্চের পাশে
জারা নওশীন দুই হাতে কয়েকটা ফাইল আর সাজানোর কাগজ নিয়ে দ্রুত হাঁটছিল। পরনে হালকা নীল সালোয়ার-কামিজ, কপালে ছোট্ট কালো টিপ। দেখতে শান্ত মনে হলেও তার বন্ধুরা জানে, জারার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে সামনে থাকা মানুষটির খবর আছে!
পাশে হাঁটছিল তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু মিম।
মিম বলল,
— জারা, একটু আস্তে হাঁট। মনে হচ্ছে কেউ তোর পেছনে পুলিশ লাগিয়েছে!
জারা বিরক্ত মুখে বলল,
— পুলিশ লাগানোর মতো কাজ করিনি। কিন্তু এই উৎসবের আয়োজকরা যা করেছে, তাতে আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে সবাইকে দিয়ে আবার নতুন করে সাজাতাম।
— কেন? কী হয়েছে?
— ব্যানার একদিকে, ফুল অন্যদিকে, মঞ্চের সামনে তার ঝুলছে। মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে আসবে, নাকি তারের ওপর দিয়ে লাফিয়ে অলিম্পিকে অংশ নেবে?
মিম হেসে উঠল।
— তুই না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক কাজই ঠিকমতো হতো না।
— আর তুই না থাকলে আমার রাগের সাক্ষী থাকত না কেউ।
কথা বলতে বলতে তারা মঞ্চের পাশে পৌঁছাল। জারা ফাইলগুলো টেবিলে রেখে সাজসজ্জা পরীক্ষা করছিল।
ঠিক তখন পেছন থেকে একটা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ ভেসে এল,
— এই যে, নীল পরী!
জারা পাত্তা দিল না।
কণ্ঠটা আবার শোনা গেল,
— জি, আপনাকেই বলছি। সকাল সকাল এত রাগ নিয়ে হাঁটছেন কেন? কারও হৃদয় ভেঙেছেন নাকি?
মিম ঘুরে তাকাল। কালো শার্ট পরা এক সুদর্শন ছেলে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। মুখে এমন হাসি, যেন পৃথিবীর কোনো সমস্যাই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
জারা ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।
— আপনি আমাকে বলছেন?
রুদ্র চারদিকে তাকানোর ভান করে বলল,
— না, আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটাকে বলছি। আপনি তো শুধু উত্তর দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন!
জারা চোখ সরু করল।
— আপনার কি সব সময় এত কথা বলতে হয়?
— না। সুন্দর মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় একটু বেশি বলতে ইচ্ছা করে।
মিম মুখে হাত দিয়ে হাসি চাপল।
জারা নির্বিকার গলায় বলল,
— তাহলে অন্য কাউকে খুঁজুন। আমি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিচারক নই।
রুদ্র একটুও দমল না।
— আপনার নামটা জানতে পারি?
— নাম জানলে কী করবেন? বিরক্তির তালিকায় লিখে রাখবেন?
— না, যোগাযোগের তালিকায় রাখব।
— আমার তালিকায় আপনার নাম লেখার জায়গা নেই।
— একটা জায়গা বানিয়ে নিন। ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
জারা ফাইলগুলো হাতে তুলে নিল।
— আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। নিজের কাজ থাকলে করুন।
কথাটা বলে সে চলে যেতে উদ্যত হলো।
রুদ্র পেছন থেকে বলল,
— মেয়েটার রাগ আছে!
তন্ময় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
— মেয়েটার বুদ্ধিও আছে। শুধু তোর প্রতি আগ্রহ নেই।
রুদ্র হেসে বলল,
— আগ্রহ নেই বলেই তো আগ্রহ হচ্ছে!
তন্ময় কপালে হাত দিল।
— ভাই, তোর অবস্থা খারাপ!
সকাল ১১টা
খাবারের স্টলের সামনে
কাজ করতে করতে জারা আর মিমের ক্ষুধা পেয়ে গেল। দুজন খাবারের স্টলের পাশে এসে দাঁড়াল।
মিম বলল,
— একটা কথা বলব?
— বল।
— ছেলেটা দেখতে কিন্তু বেশ ভালো।
জারা পানির বোতল খুলতে খুলতে বলল,
— তো?
— তো কিছু না। শুধু বললাম।
— দেখতে ভালো হলেই কি মানুষের যা খুশি বলার অধিকার জন্মায়?
মিম হেসে ফেলল।
— তুই তো দেখছি ওর ওপর ভীষণ রেগে আছিস!
— রাগ করব না? সকাল থেকে আমার পেছনে লেগে আছে!
ঠিক তখনই পাশ থেকে রুদ্র এসে হাজির হলো। তার হাতে দুটি ঠান্ডা পানীয়।
— আপনাদের জন্য এনেছি।
সে একটি বোতল মিমের দিকে বাড়িয়ে দিল। তারপর অন্যটি জারার দিকে এগিয়ে ধরল।
জারা বোতলটার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কেন?
— মানুষকে পানীয় দিতে কারণ লাগে?
— অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে আমি বিনা কারণে কিছু নিই না।
রুদ্র বোতলটা টেবিলের ওপর রেখে বলল,
— ঠিক আছে, না খেলে খাবেন না। তবে পরিচয়টা অন্তত হোক। আমি রুদ্র।
— পরিচয় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এবার নিজের পথ দেখুন।
তন্ময় পাশ থেকে মুখ ঘুরিয়ে হাসছিল।
রুদ্র বুকের ওপর হাত রেখে অভিনয় করে বলল,
— এত অপমান! আমার হৃদয় ভেঙে গেল।
জারা ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,
— ভাঙলে হাসপাতালে যান। এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
মিম এবার আর হাসি আটকাতে পারল না।
রুদ্র কয়েক মুহূর্ত জারার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
— আপনি সত্যিই ভয়ংকর!
— ধন্যবাদ। কথাটা মনে রাখবেন।
জারা মিমের হাত ধরে চলে গেল। রুদ্র তাদের পেছনে গেল না।
তন্ময় বলল,
— এবার বুঝলি? মেয়েটা তোকে একদম সহ্য করতে পারে না।
রুদ্র কাঁধ ঝাঁকাল।
— সমস্যা নেই। আজ প্রথম দিন।
— আর তুই কী করতে চাস?
— আপাতত মেয়েটাকে হাসাতে চাই।
— কেন?
রুদ্র একটু ভেবে বলল,
— জানি না। ও রেগে গেলে মজার লাগে, কিন্তু হাসলে হয়তো আরও ভালো লাগবে।
তন্ময় বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। প্রথমবার তার মনে হলো, রুদ্র হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো নতুন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছে।
দুপুর ১২টা
মূল মঞ্চ
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। জারা মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে সময়সূচি মিলিয়ে দেখছিল। হঠাৎ মাইক্রোফোনে বিকট শব্দ হলো।
জারা বিরক্ত হয়ে বলল,
— এটা আবার কী!
পেছন থেকে রুদ্রের কণ্ঠ ভেসে এল,
— মাইক্রোফোনও মনে হয় আপনার রাগ সহ্য করতে পারছে না!
জারা ঘুরে তাকাল।
— আপনি কি জীবনে একবারও চুপ থাকতে পারেন না?
রুদ্র হাসিমুখে বলল,
— পারি। কিন্তু তখন মানুষ আমার কথা মিস করে।
— কে মিস করে?
— আপনি তো করছেন না। তাই আরও চেষ্টা করছি।
জারা তার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
— শুনুন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান। সবাই এখানে কাজ করতে এসেছে। আপনার মতো সময় নষ্ট করতে নয়।
রুদ্র এবার একটু গম্ভীর হলো।
— ঠিক আছে। আর বিরক্ত করব না।
জারা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কথা দিলেন?
— কথা দিলাম।
জারা ফিরে গেল।
তন্ময় অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।
— সত্যি সত্যি চুপ থাকবি?
— অবশ্যই।
কিন্তু দশ সেকেন্ড পরই রুদ্র বলল,
— মেয়েটা রাগ করলে চোখ দুটো আরও বড় হয়ে যায়, খেয়াল করেছিস?
তন্ময় আকাশের দিকে তাকাল।
— হে আল্লাহ, এই ছেলেকে তুমি নিজেই সামলাও!
কিছুক্ষণ পর একজন স্বেচ্ছাসেবক তাড়াহুড়ো করে যেতে গিয়ে জারার হাতে থাকা কাগজে ধাক্কা দিল। কাগজগুলো মাটিতে ছড়িয়ে পড়ল।
জারা নিচু হয়ে কাগজ তুলছিল। একটি কাগজ গড়িয়ে গিয়ে রুদ্রের পায়ের কাছে থামল।
রুদ্র কাগজটা তুলে তার দিকে এগিয়ে দিল।
— এই যে, আপনার কাগজ।
জারা কাগজটা নিয়ে বলল,
— ধন্যবাদ।
রুদ্রের চোখ চকচক করে উঠল।
— বাহ! আজ প্রথমবার ধন্যবাদ পেলাম!
জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— কাগজ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছি। আপনার বাকি কাজের জন্য নয়।
— বুঝেছি। আমার উন্নতির সুযোগ এখনো আছে।
— আপনার উন্নতির দায়িত্ব আমি নিইনি।
জারা চলে গেল। তবে এবার তার ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটে উঠেছিল।
মিম সেটা দেখে বলল,
— কী রে, হাসছিস কেন?
— হাসছি না।
— নিজের চোখকে বিশ্বাস করব, নাকি তোকে?
জারা মুখ গম্ভীর করে বলল,
— বেশি কথা বললে তোর পানীয়টা কেড়ে নেব।
মিম হেসে উঠল।
দুপুর ১টা
একটি ছোট্ট পরিবর্তন
অনুষ্ঠানের বিরতিতে জারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে পানি খাচ্ছিল। রুদ্র দূর থেকে তাকে দেখে এগিয়ে এল। এবার তার মুখে আগের মতো দুষ্টু হাসি ছিল না।
— জারা, একটা কথা বলব?
জারা সতর্ক চোখে তাকাল।
— কী?
রুদ্র মাথা চুলকে বলল,
— আজ আপনাকে অনেক বিরক্ত করেছি। সরি।
জারা অবাক হয়ে গেল।
— আপনি ক্ষমা চাইছেন?
— হ্যাঁ। ক্ষমা চাইলে কি জরিমানা দিতে হয়?
জারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও হেসে ফেলল।
— আপনার মতো মানুষও যে ক্ষমা চাইতে পারে, সেটা জানতাম না।
রুদ্র বুকের ওপর হাত রাখল।
— আবার অপমান! আমি কিন্তু ভদ্র পরিবারের ছেলে।
— ভদ্র পরিবারের হলে একটু ভদ্র আচরণও শিখুন।
— জি, ম্যাডাম। চেষ্টা করব।
জারা মাথা নেড়ে বলল,
— ঠিক আছে, ক্ষমা করলাম। তবে আবার বিরক্ত করলে ক্ষমা পাবেন না।
রুদ্র মৃদু হেসে বলল,
— একটা সমস্যা আছে।
— আবার কী?
— আপনাকে হাসতে বেশ ভালো লাগে।
জারার মুখ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল।
— আপনি আবার শুরু করেছেন!
সে দ্রুত চলে গেল।
রুদ্র তার চলে যাওয়া দেখল। তন্ময় পাশে এসে দাঁড়াল।
— কী রে, এবার কী বুঝলি?
রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— মেয়েটাকে হাসানো সহজ না।
— আর তুই চেষ্টা চালিয়ে যাবি?
রুদ্র হেসে উত্তর দিল,
— হ্যাঁ। কারণ ওকে হাসাতে পারলে আমার দিনটা ভালো হয়ে যায়।
তন্ময় মাথা নাড়ল।
— তোর এই কথার মানে তুই নিজেও জানিস ।
রুদ্র উত্তর দিল না।
সে জানত না, এই মেয়েটিই একদিন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠবে। জানত না, একদিন জারার অভিমান ভাঙানোর জন্য তাকে কত কিছু করতে হবে। আর এটাও জানত না, আজকের এই ছোট্ট হাসি একদিন তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে জারা মিমের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে ফিরে যাচ্ছিল।
মিম হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,
— ছেলেটাকে কি একটু হলেও ভালো লেগেছে?
জারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— একদম না!
— তাহলে হাসছিলি কেন?
— মানুষ হাসলেই কি কাউকে ভালো লেগে যায়?
মিম মুচকি হেসে বলল,
— না। তবে কখনো কখনো গল্পের শুরুটা এমনই হয়।
জারা বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোর গল্পের বই পড়া কমানো দরকার।
মিম হাসতে হাসতে তার হাত ধরল।
সেদিনের মতো সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন চলতে থাকল। রুদ্র আবার বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দিল, আর জারা নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
দুজনের পথ আলাদা ছিল, ভাবনাও আলাদা।
একজন মনে মনে ভাবছিল, মেয়েটাকে আবার কীভাবে হাসানো যায়।
অন্যজন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল, এই ছেলেকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।
কিন্তু জীবন যে তাদের জন্য অন্য রকম গল্প লিখে রেখেছে, তা কেউ জানত না।
কারণ যে ছেলেটাকে আজ জারা সহ্য করতে পারছে না, একদিন সেই ছেলেটাকেই সে নিজের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ বলে মেনে নেবে।
আর রুদ্র?
সে একদিন বুঝবে, পৃথিবীর সব মেয়েকে মুগ্ধ করা গেলেও নিজের বউয়ের রাগ ভাঙানোই সবচেয়ে কঠিন কাজ!
চলবে... ❤️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।