Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প-১০ আলোটা একদিন ফিরবেই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,542 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা।

গল্প-১০ 

আলোটা একদিন ফিরবেইimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। ৮ আগষ্ট, ২০২৬



সন্ধ্যা নামতে তখনও একটু দেরি। তৃষা টেবিলে বসে পড়ছিল। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। ঘরে আর কোনো শব্দ নেই, শুধু ফ্যানের একটানা ঘুরপাক আর পাতা ওল্টানোর শব্দ।


হঠাৎ ফ্যানটা থেমে গেল। বাতিটা দপ করে নিভে গেল।


প্রথমে ভাবল লোডশেডিং। কিন্তু জানালার ফাঁক দিয়ে পাশের বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখে বুকটা ধক করে উঠল।


লাইন কেটে দিয়েছে।


দরজার সামনে বাবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। একটু আগেই বিদ্যুৎ অফিসের লোকেরা এসে ঘুরে গেছে। বাবা অনেক করে বুঝিয়েছিলেন।


"আর কটা দিন সময় দেন ভাই। কাজ পেলেই বিলটা দিয়ে দেব।"


লোকটা বলেছিল, "কিছু করার নেই ভাই, আমাদেরও নিয়ম মানতে হয়।"


তারপর তারা চলে গেছে। ঘরের আলোটাও সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।


রফিক আগে নির্মাণের কাজে নিয়মিত মজুরি পেত। এখন কাজ জোটে ভাগ্যের ওপর। কখনো তিন দিন কাজ, তারপর চার দিন বসা। বাজারের ব্যাগ আর আগের মতো ভরে না। হিসাব করতে করতে সংসারটা যেন দিনে দিনে আরও ছোট হয়ে আসছে।


সালমা এসব নিয়ে বেশি কথা বলে না। অনেকদিন হলো নিজের জন্য কিছু চাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। নতুন শাড়ি, স্যান্ডেল, এসব নিয়ে আর ভাবে না। শুধু একটা কথাই বারবার বলে, "মেয়েটার পড়াটা যেন না থামে।"


সেই রাতে আলমারি থেকে একটা ছোট মোমবাতি বের করল।


তৃষা সেটা জ্বালিয়ে আবার বই খুলল।


বাবা বলল, "আজ থাক না মা, এই আলোয় পড়ে কী হবে?"


তৃষা বই থেকে মুখ তুলে বলল, "আজ না পড়লে কালও পারব না বাবা।"


এর বেশি কিছু বলল না।


রফিকও আর জোর করল না। বারান্দায় গিয়ে বসে রইল। অন্ধকারে কাঁদলে কেউ টের পায় না।


স্কুলে গিয়েও তৃষা কিছু বলেনি। বন্ধুরা নতুন বই, কোচিং, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছিল। ও শুধু শুনছিল। মনে মনে ভাবছিল, একটা চাকরি পেলেই বাবাকে আর কারও সামনে হাতজোড় করে দাঁড়াতে হবে না।


এভাবেই কয়েকটা রাত কেটে গেল। মোমবাতি ছোট হয়ে আসতে লাগল, কিন্তু তৃষার জেদটা ছোট হলো না।


একদিন পাশের বাড়ির আনোয়ার চাচা সব জানতে পারল।


এসে শুধু বলল, "এত কষ্টে ছিলি, বলিসনি কেন?"


রফিক একটু হেসে বলল, "সব কষ্ট কি মুখে বলা যায় চাচা?"


পরদিন আনোয়ার চাচা আর পাড়ার আরও দুজন মিলে বকেয়া বিলটা দিয়ে এলো।


সন্ধ্যায় তৃষা কাঁপা হাতে সুইচ চাপল। বাতিটা জ্বলে উঠল। অনেকদিন পর ঘরটা আবার আলোয় ভরে গেল।


সালমা আঁচলে চোখ মুছল। রফিক মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, "এবার একটু বিশ্রাম নে মা।"


তৃষা হেসে বলল, "পরীক্ষাটা শেষ হলেই অনেক বিশ্রাম নেব।"


তারপর আবার বইয়ে চোখ রাখল।


দুই বছর পর।


সেই টিনের ঘরটা এখনও আছে। তবে চালটা বদলেছে, দেয়ালে নতুন রঙের ছোঁয়া।


এক সকালে তৃষা প্রথম বেতনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরল। বাবাকে নিয়ে বাজারে গেল।


সালমা ভেবেছিল, হয়তো চাল ডাল কিনবে। কিন্তু তৃষা আগে ঢুকল একটা শাড়ির দোকানে। মায়ের জন্য একটা নীল শাড়ি কিনল। তারপর বাবার জন্য একটা সাদা পাঞ্জাবি।


রফিক একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল, "এত টাকা খরচ করলি কেন?"


তৃষা হেসে বলল, "একদিন তোমরা আমার জন্য সব আটকে রেখেছিলে। আজ আমার পালা।"


সালমা শাড়িটা হাতে নিয়ে কিছু বলতে পারল না। রফিকও না। শুধু মেয়ের মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল।


বাইরে তখন সন্ধ্যা নামছে। এক এক করে আশপাশের সব ঘরে আলো জ্বলছে। তাদের ঘরেও আলো জ্বলছে।


রফিক জানে, এই আলো শুধু বিদ্যুতের নয়। এই আলো এসেছে অনেক রাতের না ঘুম, অনেক অপূর্ণ ইচ্ছে আর একটা মেয়ের জেদ থেকে। সেই জেদটাই শেষ পর্যন্ত তাদের অন্ধকারটা হারিয়ে দিয়েছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1215 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24542। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4591
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-১০ শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯ জুলাই, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১০ -আবার দেখা হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ১০: আমি কি সত্যিই অসুস্থ?   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    708 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    35 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    344 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Monsoon Harmony

    141 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...