Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ৩ — ঈদের দিনও যার নতুন জামা হয় না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফুটপাতের শৈশব

পর্ব ৩ — ঈদের দিনও যার নতুন জামা হয় নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১৮ আগস্ট ২০২৬


ঈদের সকালে আমরা যখন নতুন জামা পরে আয়নার সামনে দাঁড়াই, তখন একই শহরের কোনো এক ফুটপাতে একটা শিশু হয়তো তার পুরোনো জামাটাই ঝেড়ে গায়ে দেয়।


তার নতুন কিছু নেই।


তবু ঈদ তো ঈদ।


চারপাশে তখন অন্যরকম ব্যস্ততা। কারও ঘরে সেমাই রান্না হচ্ছে, কোথাও মাংসের গন্ধ। শিশুরা নতুন জামা পরে ছোটাছুটি করছে। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে নামাজে যাচ্ছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর হয়ে আছে। মোবাইলের ক্যামেরায় একের পর এক ছবি উঠছে।


আর সেই একই শহরের অন্য কোথাও একটা শিশু হয়তো রাস্তার পাশে বসে মানুষের যাতায়াত দেখছে।


তার পরনে গত বছরের জামা। হয়তো জামাটার রং অনেক আগেই ফিকে হয়ে গেছে। কোথাও সেলাই, কোথাও ছেঁড়া। কিন্তু আজ সে এটাকেই একটু যত্ন করে পরে নিয়েছে।


হয়তো তারও মনে হয়েছে—আজ তো ঈদ।


নতুন জামা হলে ভালো লাগত।


পেট ভরে খেতে পারলে ভালো লাগত।


কেউ যদি তাকে কাছে টেনে বলত, ‘আজ কাজ করতে হবে না’—তাহলেও হয়তো তার দিনটা অন্যরকম হয়ে যেত।


আমরা উৎসবকে অনেক সময় নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই দেখি। ঈদ মানে নতুন পোশাক, ভালো খাবার, নামাজ, আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা। এগুলো আমাদের কাছে এত স্বাভাবিক যে ভাবিই না—যে শিশুর প্রতিদিনের খাবার নিশ্চিত নয়, তার কাছে উৎসবের আনন্দটা কেমন?


তার কাছে ঈদ হয়তো নতুন জামার চেয়েও বড় কোনো অপেক্ষা।


আজ একটু ভালো খাবার জুটবে কি না।


আজ কেউ তাকে কাজ করতে বলবে কি না।


আজ রাতটা কোথায় কাটবে।


মায়ের কাছে থাকলে মা তাকে একটু বেশি সময় কাছে রাখবে কি না।


এসব ছোট ছোট বিষয়ই হয়তো তার ঈদ।


একই বয়সের দুটো শিশু একই দিনে বড় হচ্ছে। একজন নতুন জামা পরে ছবি তুলছে, আরেকজন মানুষের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একজনের হাতে ঈদের সালামি, অন্যজনের হাতে হয়তো দিনের কাজের সামান্য টাকা।


একজনের ঈদ জমে থাকবে স্মৃতিতে।


অন্যজনের দিনটা হয়তো শেষ হবে অন্য সব দিনের মতোই।


এই পার্থক্যটা শুধু পোশাকের নয়। এর পেছনে আছে পরিবারের নিরাপত্তা, খাবারের নিশ্চয়তা, থাকার জায়গা, শিক্ষা এবং আপনজনের উপস্থিতি।


তাই ঈদের সময় একটা শিশুকে নতুন জামা দেওয়া নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। একটা নতুন জামা শিশুর মুখে আনন্দ আনতে পারে। সেই আনন্দকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই।


কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয়, যখন আমরা জামাটাকেই পুরো দায়িত্ব মনে করি।


ঈদ চলে যায়। জামাটা পুরোনো হয়ে যায়। সেমাইয়ের গন্ধ মিলিয়ে যায়। মানুষের ব্যস্ততা আবার আগের মতো হয়ে যায়।


শিশুটার জীবন কিন্তু থেকে যায়।


তার ক্ষুধা থাকে। কাজের প্রয়োজন থাকে। স্কুলে না যাওয়ার সমস্যা থাকে। অসুস্থ হলে চিকিৎসার দরকার হয়। রাতে ঘুমানোর নিরাপদ জায়গার প্রয়োজন থাকে।


তাই সাহায্য করতে চাইলে শুধু ‘কী দেব?’ এই প্রশ্ন না করে ‘কী দরকার?’—এই প্রশ্নটাও করা দরকার।


কারও দরকার নতুন জামা। কারও দরকার খাবার। কারও চিকিৎসা। কারও স্কুলে ফেরার সুযোগ। আবার এমন শিশুও আছে, যার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নিরাপদ আশ্রয় এবং এমন একজন দায়িত্বশীল মানুষ, যে তাকে সঠিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।


একই সাহায্য সবার জন্য সমান নয়।


আর সাহায্যটা যদি সম্ভব হয়, একদিনের মধ্যে আটকে না রেখে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সহায়তার পথ তৈরি করা ভালো। স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক, সমাজকর্মী বা বিশ্বস্ত শিশু-সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে শিশুকে নিজের ইচ্ছেমতো কোথাও নিয়ে যাওয়া বা অপরিচিত কারও হাতে তুলে দেওয়া ঠিক নয়। সাহায্য করতে গিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করা যাবে না।


আর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—তার সম্মান।


একটা নতুন জামা দেওয়ার সময় শিশুটির ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করলেও ভালো কাজটা ছোট হয়ে যায় না। বরং অনেক সময় চুপচাপ সাহায্য করাটাই বেশি মানবিক।


কারণ একজন শিশুর অসহায়ত্ব আমাদের প্রচারের উপকরণ হওয়ার কথা নয়।


আমরা ঈদের আনন্দ ভাগ করতে চাই। ভালো কথা।


তাহলে নিজের জীবনটার দিকেও একবার তাকানো যায়।


আমাদের কতটা কেনাকাটা সত্যিই প্রয়োজন? কতটা শুধু অভ্যাস? একটা পোশাক কম কেনা, সামান্য কিছু খরচ বাঁচানো কিংবা নিজের আনন্দের একটা অংশ অন্য কারও জন্য রেখে দেওয়া—এসব হয়তো দেশের সব শিশুর জীবন বদলে দেবে না।


কিন্তু একটা শিশুর ঈদের দিনটা বদলে দিতে পারে।


হয়তো সে নতুন জামা পরে প্রথমবার আয়নায় নিজেকে দেখবে।


হয়তো সারাদিনের মধ্যে প্রথমবার তার মনে হবে, আজকের দিনটা সত্যিই আলাদা।


এই আনন্দটুকুও কম নয়।


তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ঈদের পরদিনও শিশুটির জীবন আছে।


তাই উৎসবের দিনে আমরা তাকে আনন্দ দিতে পারি, আর উৎসবের বাইরের দিনগুলোতে তার পাশে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে পারি।


কারণ নতুন জামা তার এক দিনের আনন্দ হতে পারে, কিন্তু শিক্ষা, নিরাপত্তা, খাবার আর পরিবারের স্থিরতা তার আগামী দিনের জীবনকে বদলাতে পারে।


ঈদ সবার।


কেউ হয়তো নতুন জামা পরে ঈদ করবে, কেউ পুরোনো জামায়। কিন্তু আনন্দ পাওয়ার অধিকার দুজনেরই সমান।


আর কোনো শিশুর ঈদ কেমন হবে, সেটা শুধু তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়াই কি আমাদের একমাত্র পথ?


হয়তো নয়।


হয়তো আমাদের সামান্য ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই কারও ঈদ একটু বেশি ঈদ হয়ে উঠতে পারে।


আর সেই শিশুটি, যে সারা বছর ফুটপাতে মানুষের ভিড় দেখে, অন্তত একটা দিন যেন মনে করতে পারে—


এই শহরে আমাকেও কেউ মনে রেখেছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4677
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৯ — পথশিশু জন্মায় না, তৈরি হয়জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়েটার নতুন জামা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   ঈদের সকাল। ঘু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইংরেজি নতুন বছর একটি উৎসব না কি সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রতীক? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
451 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ডিভোর্স আদালতে শুরু হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ জুন, ২০২৬ ডিভো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে চিঠিগুলো কখনো শেষ হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১২, ২০২৬ রঞ্জন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
437 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    742 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...