Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প২-আমার জন্য কিছু রেখো না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,905 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প২-আমার জন্য কিছু রেখো নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬



সংসারের সবাইকে দেওয়ার পর নিশির নিজের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকত না। মাসের শেষে অভিক খাতা খুলে বসত। হাতে কলম। একে একে হিসাব নামত—বাড়িভাড়া, বাজার, মেঘের স্কুলের ফি, কোচিংয়ের টাকা, মিশির বই, বিদ্যুৎ বিল। অঙ্কগুলো কিছুতেই মিলত না। তবু অভিক মিলিয়ে নিত। এখান থেকে একটু কমিয়ে, ওখানে একটু বাঁচিয়ে। 


নিশি পাশে বসে থাকত। মাঝেমধ্যে আস্তে করে বলত, “এই মাসে মেঘের জুতাটা বদলাতে হবে।” অভিক খাতার দিকে তাকিয়েই বলত, “হ্যাঁ, কিনে দেব।” 

নিশি আবার বলত, “মিশির রং শেষ হয়ে গেছে।” 

অভিক মাথা নেড়ে বলত, “ওটাও নিয়ে আসব।” সবশেষে হিসাবটা আবার দেখে অভিক জিজ্ঞেস করত, 

“তোমার কিছু লাগবে?” 

নিশি খুব স্বাভাবিক গলায় বলত, 

“আমার তো কিছু দরকার নেই।” 

কথাটা এতবার বলা হয়েছে যে, একসময় বাড়ির সবাই ধরে নিল—সত্যিই নিশির কিছু লাগে না।


অথচ একসময় নিশির বই পড়ার খুব শখ ছিল। নতুন শাড়ি কিনলে তার মন ভালো হয়ে যেত। বিকেলে এক কাপ কফি নিয়ে জানালার পাশে চুপচাপ বসে থাকাও ছিল তার নিজের একটা ছোট্ট আনন্দ। এখন কফির দাম দেখলেই সে মনে মনে হিসাব করে—এই টাকায় মিশির দুটো খাতা হয়ে যাবে। একটা শাড়ি পছন্দ হলে ভাবে, আগের শাড়িগুলো তো আছে। একটা বই কিনতে ইচ্ছে হলে ভাবে, এখন না, পরে কিনবে। এভাবেই “পরে” শব্দটা তার জীবনের সবচেয়ে ব্যবহৃত শব্দ হয়ে উঠেছে।


মেঘ বড় হচ্ছে। কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেখে। মিশি নাচ শিখতে চায়। অভিকও আগের চেয়ে বেশি সময় কাজ করে। সংসারের খরচ বাড়তে থাকায় নিশি নিজের ছোট অনলাইন কাজটাও একসময় ছেড়ে দিয়েছে। কেউ তাকে ছাড়তে বলেনি। সে নিজেই বলেছিল, “এখন সংসারটাই আগে।” তারপর নিজেকেই বুঝিয়েছে, “পরে আবার শুরু করব।” কিন্তু সেই “পরে” আর আসেনি।


একদিন আলমারি গোছাতে গিয়ে নিশির হাতে তার পুরোনো নীল শাড়িটা এল। অনেক বছর আগে নিজের পছন্দে কিনেছিল। শাড়িটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল সে। শেষ কবে পরেছিল, মনে করতে পারল না। হঠাৎ মনে হলো, আজ শাড়িটা পরবে। তারপরই আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তে হেসে ফেলল। কোথায় যাবে? 

কার জন্য সাজবে? 

শেষ পর্যন্ত শাড়িটা আবার যত্ন করে ভাঁজ করে তুলে রাখল।


সেদিন রাতে মেঘ হঠাৎ বলল, 

“মা, তুমি সারাক্ষণ শুধু আমাদের জন্য করো।” 

নিশি হেসে বলল, 

“তোমরাই তো আমার সব।” 

কথাটা মিথ্যে নয়। কিন্তু কথাটার ভেতরে একটা জায়গা ফাঁকা রয়ে গেল। কয়েক দিন পর এক সন্ধ্যায় অভিক খেয়াল করল, 

নিশি জানালার পাশে চুপ করে বসে আছে। সে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?” 

নিশি আগের মতোই বলল, “কিছু না।” 

অভিক আর কিছু বলল না। কিন্তু এবার কথাটা তার কানে আটকে রইল।


পরদিন বাজার থেকে ফেরার সময় অভিক একটা ছোট বই নিয়ে এল। খুব দামি কিছু নয়, শুধু একটা বই। নিশির হাতে দিয়ে বলল, “তোমার না বই পড়তে ভালো লাগে?” 

নিশি বইটার মলাটে হাত বুলিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। 

তারপর ধীরে জিজ্ঞেস করল, 

“আমার জন্য?” অভিক হেসে বলল, “হ্যাঁ, তোমার জন্য।”


সেদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর নিশি বইটা নিয়ে বারান্দায় বসেছিল। অনেকদিন পর নিজের জন্য কিছু হাতে নিয়ে তার কেমন অদ্ভুত লাগছিল। সে ভাবল, সবাইকে দিতে দিতে সে নিজের কাছেই কত কিছু বাকি রেখেছে—একটা বই, একটা শাড়ি, একটু সময়, একটা নিরিবিলি বিকেল। খুব বড় কিছু নয়। অথচ এই ছোট ছোট জিনিসই মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, সে শুধু কারও মা নয়, কারও স্ত্রী নয়, শুধু সংসারের দায়িত্বও নয়। সে নিজেও একজন মানুষ।


পরদিন সকালেও সংসারের কাজ আগের মতোই চলল। মেঘের টিফিন, মিশির দুধ, অভিকের নাশতা—কিছুই বদলায়নি। শুধু নিশি বইটা রান্নাঘরের কোনো তাকে লুকিয়ে রাখল না। বারান্দার টেবিলের ওপর রেখে দিল। দুপুরে কাজ শেষ হলে সে দশ পৃষ্ঠা পড়বে। দশ পৃষ্ঠা। তার বেশি না হলেও চলবে।


কারণ সেদিন নিশি প্রথমবার বুঝেছিল, সবাইকে সবকিছু দিয়ে দেওয়ার নামই ভালোবাসা নয়। নিজের জন্য সামান্য কিছু রেখে দেওয়াও ভালোবাসার অংশ। হয়তো নিজের প্রতিও।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1233 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24905। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4652
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-১ আমার হয়ে বেঁচো না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৮,জুন, ২০২৬ ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
  আইসিইউতে কাটানো আমার দিনগুলোর কথা  (দ্বিতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (বাস্তব ঘ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
375 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।এপ্রিল ১৮, ২০২৬ কবরে শ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
423 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প৩-মানুষটা কখনো না বলেনি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1071 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    53 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    902 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    344 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...