Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-৭ অপরাধবোধের শিকল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (21,428 পয়েন্ট)   8 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ  

গল্প-৭  

অপরাধবোধের শিকল  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

২৯ জুন, ২০২৬



বিচ্ছেদের কাগজে সই করার আগের রাতেও নিশির ঘুম আসেনি। বারবার মনে হচ্ছিল, সে কি খুব স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে?


অভিক কোনো দিন তাকে বলেনি, 

“কোথাও যেতে পারবে না।” 

ওর কথা বলার ধরনটাই আলাদা ছিল। “যাও। 

আমি তো আটকাচ্ছি না।” 

তারপর একটু চুপ। 

“শুধু ভাবছি, এই দুটো দিন একা থাকব কীভাবে।” ব্যস। এরপর আর কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা থাকত না নিশির।


প্রথম প্রথম এসব শুনে তার ভালোই লাগত। মনে হতো, কেউ তাকে এতটা আপন ভাবছে। ধীরে ধীরে খেয়াল করল, নিজের অনেক সিদ্ধান্তই আর নিজের থাকে না। বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়ানো বাদ। বাবার বাড়ি যাওয়া পিছিয়ে দেওয়া। চাকরির আবেদনটা পরে করা। কেউ জোর করেনি। তবু একটার পর একটা কাজ আর করা হয়নি।


একদিন চাকরির কথা তুলতেই অভিক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। 

“তোমার ইচ্ছা। তবে চাকরি করলে তুমি খুব ব্যস্ত হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে বসে গল্প করার সময়ই পাবে না।” নিশি আর কথাটা বাড়াল না। সেটাও থেকে গেল।


আরেকদিন বলল, মায়ের কাছে যাবে। অভিক হেসে বলল, “যাও। 

শুধু ফিরে এসে যদি দেখো আমি ঠিকমতো খাইনি, তখন কিন্তু আমাকে দোষ দিও না।” 

কথাটা বলেই টিভির দিকে তাকাল। যেন খুব স্বাভাবিক একটা কথা। কিন্তু নিশির বুকের ভেতর কোথাও একটা ছোট্ট পাথর জমে রইল।


একদিন রিমি বলল, 

“তুই সব সময় এমন ভাবিস কেন, সবাইকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব তোর?” 

নিশি হেসে উড়িয়ে দিল। কিন্তু রাতে ঘুম এল না। ডায়েরির পেছনে একটা কাগজে হিসাব করতে গিয়ে সে থেমে গেল। গত এক বছরে নিজের কতগুলো পরিকল্পনা সে নিজেই বাতিল করেছে? 

প্রায় সব কটার পাশেই যেন একই কারণ। 

"অভিক কষ্ট পাবে।"


কয়েক দিন পর একটা স্কুল থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক এল। এবার কাউকে কিছু না বলেই গেল। ফিরে এসে খবরটা দিতেই অভিক চুপ করে রইল। অনেকক্ষণ পর বলল, 

“চাকরিটা পেলে তো আমাকে আর দরকার হবে না।” আগে হলে নিশি হয়তো তাড়াতাড়ি বলত, 

“না না, তুমি এমন ভাবছ কেন?” 

সেদিন বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে জিজ্ঞেস করল, 

“আমার নিজের জীবন শুরু হলে তোমাকে হারিয়ে ফেলব, এটা কেন মনে হয় তোমার?”


অভিক উত্তর দিল না। কয়েক দিন দুজনের মধ্যে কথাবার্তা কমই হলো। এক সন্ধ্যায় অভিক নিজেই বলল,

 “আমি শুধু চাইনি তুমি আমাকে ছেড়ে যাও।” 

নিশি অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপর বলল, “কাউকে পাশে রাখতে চাইলে তার হাত ধরতে হয়। এমনভাবে ধরে রাখা না, যাতে সে ছাড়তে গেলেই নিজেকে দোষী মনে করে।” 

ঘরটা চুপ হয়ে গেল। কেউ আর কিছু বলল না।


তারপরের দিনগুলো সহজ ছিল না। কোথাও বেরোতে গেলেই বুকের ভেতর একটা অপরাধবোধ উঠত। মায়ের বাড়িতে গিয়েও মনে হতো, অভিক ঠিকমতো খেয়েছে তো? 

বন্ধুদের সঙ্গে বসেও মনে হতো, ও একা আছে। তারপর একদিন হঠাৎ খেয়াল করল—এই ভাবনাগুলো একটু একটু করে কমে যাচ্ছে। কেউ অসহায় হলেই তাকে বাঁচিয়ে তোলার দায়িত্ব তার একার নয়।


এক বিকেলে রিমি জিজ্ঞেস করল, 

“এখন কেমন আছিস?” 

নিশি একটু হেসে বলল, 

“আগে ভাবতাম, আমি না থাকলে মানুষ ভেঙে পড়ে। এখন বুঝি, কেউ যদি নিজের পুরো জীবনটা আমার কাঁধে তুলে দেয়, সেটাকে ভালোবাসা বলে না।”


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকাল সে। হাওয়াটা আগের মতোই ছিল। শুধু বুকের ভেতরটা অনেক হালকা লাগছিল। সেদিন তার মনে হলো, সব শিকল চোখে দেখা যায় না। কিছু শিকল শুধু একটা বাক্যের ভেতর লুকিয়ে থাকে।


"তুমি না থাকলে আমি শেষ।"  

শুনতে খুব ভালোবাসার মতো লাগে। কিন্তু অনেক সময়, সেই কথাটাই মানুষকে নিজের জীবন থেকে সবচেয়ে দূরে নিয়ে যায়।


আপনার মতে, অপরাধবোধ দিয়ে কাউকে ধরে রাখা কি কখনো ভালোবাসা হতে পারে? 

মন্তব্যে জানান।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1061 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21428। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4176
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৯   হাসিটা কোথায় হারাল    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৮   শেষ সুযোগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ “[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৬   বন্ধ দরজার মানুষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন,২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৫   হারিয়ে যাওয়া আমি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    105 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    666 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    230 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

...