Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৪-এক মায়ের নীরব লড়াই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,177 পয়েন্ট)   26 জুলাই "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন

গল্প-৪-এক মায়ের নীরব লড়াইimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

২৬ জুলাই, ২০২৬


হাসিমুখে ওষুধ বিক্রি করছিলেন, অথচ চোখের ভেতর লুকিয়ে ছিল অগণিত কষ্ট।


দুপুরের চড়া রোদে গঞ্জের মেঠোপথটা তখন খাঁ খাঁ করছে। ধুলো উড়িয়ে দু-একটা রিকশা ছাড়া রাস্তায় আর মানুষ নেই। ঠিক এমন নিস্তব্ধ সময়ে গ্রামের এক বাড়ির উঠোনে এসে দাঁড়ালেন এক নারী। পরনে গাঢ় লাল রঙের একটু মলিন শাড়ি, মাথায় আঁচল টানা, হাতে ধরা প্লাস্টিকের একটা ব্যাগ। ভেতরে নানা পদের গাছগাছড়া, শিকড়-বাকড় আর ছোট ছোট কাচের শিশি। মুখে অমায়িক হাসি ফুটিয়ে তিনি ডাক দিলেন, "ও বাড়ির বউ-ঝিরা, বাতের ওষুধ নিবা নাকি গো? কবিরাজি শিকড় আছে, দাঁতের মাজন আছে!"


ওপর থেকে দেখলে এ যেন এক যাযাবর বেদে নারীর ওষুধ বিক্রির সাধারণ দৃশ্য। হাসিটা এত উজ্জ্বল যে দূর থেকে মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ ওই এক চিলতে হাসিতেই জমা হয়ে আছে। কিন্তু কাছে গিয়ে মুখের ভাঁজগুলোর দিকে তাকালেই চোখের কোণে জমে থাকা গভীর ক্লান্তির ছাপটা আর এড়ানো যায় না। সেই হাসির আড়ালেই চাপা পড়ে আছে এক মায়ের নীরব আর্তনাদ, অভাবের তাড়না আর সংসার টেনে নেওয়ার অপরিসীম সংগ্রাম।


এই নারীর নাম রশিদা। নদীর ঘাটে নোঙর করে রাখা ছোট কাঠের নৌকার ছইয়ের নিচে তার বসতি। চারপাশের কাঠের পাটাতন পেরিয়ে যেখানে হু হু করে ঢুকে পড়ে নদীর বৈরী বাতাস। পুরুষের রোজগার যখন অনিশ্চিত, সাপ খেলা বা ঝাড়ফুঁকের কদর যখন বাজারে তলানিতে, তখন সংসারের হাল শক্ত হাতে ধরতে হয় রশিদার মতো নারীদেরই।


ভোররাত থেকেই রশিদার দিন শুরু হয়। অন্ধকার থাকতে থাকতে নৌকার এক কোণে উনুন জ্বালিয়ে রান্না বসানো, ছেলেমেয়ের মুখে দুটো ভাত তুলে দেওয়া, তারপর নদীর টলটলে জলে ভাসমান সংসারটাকে গুছিয়ে নেওয়া — সব একাই সামলান তিনি। এত কাজ সেরে সূর্যের আলো একটু কড়া হতেই কাঁধে ঝুলি নিয়ে ডাঙার দিকে হাঁটা শুরু করেন। গ্রাম থেকে গ্রামে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা, মানুষের দরজায় দরজায় যাওয়া — এই লড়াই সহজ নয়।


জীবিকার এই পথে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। পথে-ঘাটে কত কটূক্তি, অবহেলা আর তাচ্ছিল্য সইতে হয় তাদের। কেউ দরজার সামনে থেকেই তাড়িয়ে দেয়, কেউ ঠাট্টা করে তাদের কবিরাজি বিদ্যা নিয়ে। কিন্তু রশিদার মুখে কোনো ক্ষোভ থাকে না, প্রতিবাদের ভাষা থাকে না। তিনি শুধু নীরবে হাসেন। তিনি জানেন, রাগ করে কথা কাটাকাটি করলে দিনশেষে ঘরের ছোট বাচ্চাটার জন্য এক কেজি চাল কেনা হবে না। আত্মসম্মানের চেয়েও সন্তানের পেটের ক্ষুধা অনেক বড়, অনেক নির্মম।


এই মাঝবয়সী নারী কেবল এক ভাঙা সংসারের হাল ধরে থাকা মানুষ নন, তিনি এক অপরাজেয় শক্তির প্রতীক। সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে কটা টাকা আয় হয়, তা দিয়ে চাল-ডাল আর অসুস্থ শাশুড়ির ওষুধ কিনে যখন গোধূলিবেলায় তিনি নদীর ঘাটে ফিরে আসেন, তখন তার পা দুটো আর চলতে চায় না। তবুও নৌকার গলুইয়ে বসেই যখন দেখেন ছোট সন্তানটি তার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠেছে, তখন সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি আর অপমান এক মুহূর্তে নদীর জলে ধুয়ে মুছে যায়।


আমাদের সমাজে যে নারীরা আলোর সামনে আসেন না, যাদের কোনো স্বীকৃতি থাকে না, রশিদা তাদেরই একজন। কোনো করুণা বা সহানুভূতি ছাড়াই তারা প্রতিদিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস লেখেন। ঘরের ভেতরের হাহাকারকে হাসির আড়ালে ঢেকে রেখে তারা আমাদের শিখিয়ে যান — পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে একজন মা কখনো হার মানেন না। রশিদার এই নীরব লড়াই কেবল এক বেদে নারীর গল্প নয়, এটি পৃথিবীর সব সংগ্রামী মায়ের শাশ্বত জয়গাথা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1197 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4427
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১০ -আবার দেখা হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৯ -বিদায়ের মুহূর্ত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৭ -সন্ধ্যার আগুন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৬-হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    343 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...