নিশি উপাখ্যান সিরিজ
গল্প-৮
শেষ সুযোগ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
২৯, জুন, ২০২৬
“আমি বদলে গেছি।”
কথাটা শুনে নিশি অবাক হলো না। এই বাক্যটা সে আগেও শুনেছে। অনেকবার। প্রথমবার বড় একটা ঝগড়ার পর। দ্বিতীয়বার তার জন্মদিন ভুলে যাওয়ার পর। রাত বারোটায় ফুল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল অভিক। বলেছিল,
“ভুল হয়ে গেছে। আর এমন হবে না।”
নিশি বিশ্বাস করেছিল। তারপরও করেছে। প্রতিবারই ভেবেছে, এবার হয়তো সত্যি। কয়েক দিন সব ঠিকঠাক চলত। অভিক সময়মতো ফিরত। ছোট ছোট খোঁজ নিত। মাঝে মাঝে নিজেই চা বানিয়ে দিত। নিশির মনে হতো, ঝড়টা বুঝি কেটে গেছে।
তারপর আবার আগের মতো। একটা কথা। আরেকটা খোঁচা। একটা ভাঙা প্রতিশ্রুতি। তারপর সেই একই বাক্য।
“আমাকে আর একটা সুযোগ দাও।”
একদিন রিমি বলেছিল,
“তুই কীসের অপেক্ষা করছিস?”
নিশি উত্তর দিতে পারেনি। হয়তো এমন একটা দিনের, যেদিন আর
"শেষ সুযোগ" কথাটা শুনতে হবে না।
এক সন্ধ্যায় আলমারি গোছাতে গিয়ে একটা পুরোনো খাম পেল। ভেতরে কয়েকটা ছোট ছোট চিরকুট। সবই অভিকের হাতের লেখা।
"রাগ কোরো না।"
"এবার সত্যি বদলাব।"
"শেষবারের মতো ক্ষমা করে দাও।"
নিশি একটার পর একটা পড়ল। তারপর আবার ভাঁজ করে খামের ভেতর রেখে দিল। মনে হলো, কাগজগুলো পুরোনো হয়েছে। কথাগুলোও।
কয়েক দিন পর আবার ঝগড়া। খুব তুচ্ছ একটা বিষয়। এমনই, কয়েক দিন পর হয়তো কারও মনেই থাকত না। রাত গভীর হলে অভিক এসে বলল, “আমি বদলে গেছি। এবার বিশ্বাস করো।”
নিশি অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। রাগ হচ্ছিল না। কাঁদতেও ইচ্ছে করছিল না। শুধু ক্লান্ত লাগছিল। সে আস্তে বলল,
“হতে পারে তুমি সত্যিই বদলাতে চাইছ।”
একটু থেমে আবার বলল,
“কিন্তু আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।”
অভিক এবার কিছু বলল না। কোনো প্রতিশ্রুতি না। কোনো অজুহাতও না। নিশি ব্যাগটা তুলে নিল। দরজার কাছে গিয়ে থামল। পেছন ফিরে বলল, “মানুষ বদলায়। আমি সেটা মানি। কিন্তু বিশ্বাস বারবার ভাঙলে, একসময় সেটা আর জোড়া লাগে না। আমরা সেই জায়গাটা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছি।”
দরজাটা আস্তে করে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরে সকাল হয়ে গেছে। অনেক দিন পর নিশির মনে হলো, আজ তাকে আর কারও কথায় বিশ্বাস করতে হবে না। শুধু নিজের সিদ্ধান্তটার ওপর ভরসা রাখলেই হবে।
পেছনে কী রয়ে গেল, সে আর ফিরে তাকাল না। কারণ কিছু সম্পর্ক শেষ হয় ঝগড়ায় নয়। অপেক্ষা শেষ হয়ে গেলে।
আপনার মতে, মানুষ সত্যিই বদলায়, নাকি শুধু কথা বদলায়? মন্তব্যে জানান।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।