অশ্লীল শব্দচয়ন কে যতই মজা হিসেবে ব্যবহার করেন না কেন,সেটা আসলে কুশিক্ষা। এটা আমি মনে করি এবং আমি এগুলো একদমই পছন্দ করিনা। আপনি কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে হাসতে হাসতে কথা বলবেন আর বলবেন আরে আমি তো মজা করেছি–এগুলো আমি একদম ই বরদাস্ত করি না, সে আপনি যতই কাছের কিংবা সম্মানিত ব্যক্তি হন না কেন আমার কিছুই যায় আসে না।
আপনি বন্ধুদের সাথে বাজে বাজে ভাষায় বাজে ইঙ্গিত এ কথা বলবেন, আর বলবেন বন্ধুদের সাথে সবাই ভন্ডামি করে। হ্যাঁ এটা হয়তো ঠিক আমরা অনেকেই বন্ধুদের সাথে মজা করি কিন্তু সবাই একরকম নয় যে সারাক্ষণ বাজে বিষয় নিয়েই মজা করবে কিংবা করে।
দেখুন আমি স্পষ্টভাষী মেয়ে। আবার ঘুরিয়ে পেঁচিয়েও কথা বলি যদি সেটার প্রয়োজন মনে করি। কিন্তু সাধারণত আমি যা বলি স্পষ্ট। আমার মনে হয় কারো পিছনে তাকে নিয়ে সমালোচনা না করে,উচিত হলো বিষয়টা তাকে সরাসরি বলে আলোচনা করা। এবং আমি তাই করি। আপনি ছেলে হন কিংবা মেয়ে,ধরুন আমি দেখলাম আপনি রাস্তায় হাঁটছেন আপনার পোশাকে ময়লা লেগে আছে,এবং আমরা পিছনে বান্ধবীরা যাচ্ছি। সাভাবিক ভাবেই তো এগুলো নিয়ে সবাই মজাই করে কিন্তু আমি সংযত ভাবে হলেও তাকে গিয়ে বলি - আপনার পোশাকে ময়লা। কিংবা আমি আপনাকে সালাম দিলাম আপনি উত্তর নিলেন না ,এটা নিয়ে তো বাহিরে মজা করার কিছু নেই যে ওই ব্যক্তি জবাব নেয়নি,এজন্যে আমি সরাসরি বলি আপনি হয়তো খেয়াল করেননি ,আপনাকে সালাম দিয়েছিলাম। কিন্তু এগুলো সবার ক্ষেত্রে নয়। এমন কিছু মেয়ে বা ছেলে আছেন যে দেখলেই বোঝা যায় ,ইনাকে কিছু বলা যাবে না,সুবিধার না সেসব থেকে দূরে থাকি,তাকিয়েও দেখি না এবং দূরে থাকাই উত্তম।
আরেকটা কথা–" আপনি যদি মেয়ে হন আপনাকে অবশ্যই ' না ' বলাও শিখতে হবে। ধরুন–এলাকার কিংবা কোনো সম্মানিত ব্যক্তি আপনাকে কোনো খারাপ প্রস্তাব দিলো আর আপনি ভয়ে ভাবতে লাগলেন যে সে তো অনেক বড় ঘরের লোক ,যদি না করি আমার ক্ষতি করবে নাতো কিংবা না করলে এলাকায় আমার দুর্নাম ছড়াবে নাতো। নাহ–এগুলো না ভেবে আপনি ভাবতে পারেন যে এই প্রস্তাব দেয় সে সমাজের চোখে যতই জ্ঞানী কিংবা সম্মানিত হন না কেন, সে আসলে সম্মানের যোগ্যই নয়। কাজেই আপনাকে না বলা শিখতে হবে।আবার ধরুন আপনার খুব কাছের কেউ আপনাকে কিছু বাজে ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলছে–আপনার উচিত হবে ভালো না লাগলে সরাসরি বলা আমি এসব একদমই পছন্দ করি না। অন্যায় তো অন্যায় ই সে আবার বড়লোক বা সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে আলাদা করার মতো তো নয়। আপনাকে দৃঢ় ভাবে সঠিক জায়গায় হ্যাঁ বা না বলা শিখতে হবে। " নীরবতা সম্মতির লক্ষণ "– বলা হলেও নিরবতাও যে মন থেকে না এর লক্ষণ এটা অনেকেই মানবে না। তাই মুখে বলা শিখতে হবে।
প্রতিটা প্রশ্ন কিংবা প্রতিটি বিষয় এর দুটো অপশন থাকে ," হ্যাঁ এবং না "। এর বাইরে কিছু নেই কাজেই আপনাকে দুটোর একটিকে বেছে নিতে হবে। এখন আপনি বলতে পারেন – হ্যাঁ না এর মাঝেও তো কিছু আছে ,আর সেটা "যদি"। মনে রাখবেন "যদি,মনে হয় "শব্দগুলো মাঝামাঝি কিছু নির্দেশ করে যা সরাসরি বা নির্দিষ্ট উত্তর নয়,এটা কেবলই সম্ভাব্য এবং এই সম্ভাব্য এর উপর কখনও নির্ভর করা যাবে না। কেননা এটি হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
মূলত কথা একটাই–" আপনি যেখানেই যান না কেন,আপনি যাদের সাথেই মিশুন না কেন, অশ্লীল কথা এড়িয়ে চলাই উত্তম।এবং যদি মনে হয় বন্ধুদের সাথে সবাই ভন্ড তাহলে বন্ধুত্ব নির্বাচন করুন সঠিক ভাবে,সঠিক মানুষকে যে আপনাকে কিছু ভালো বিষয় শেখাবে বা আপনি তাকে শিখাতে পারবেন। নাহলে বন্ধুহীন থাকুন তবুও ভালো। খারাপ কিছু শেখার থেকে সেসব থেকে দূরে আর একাকী থাকা টা কি উত্তম নয়?"
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।