সব প্রশ্নের উত্তর জানার ভান করার চেয়ে প্রশ্ন করতে শেখা অনেক বেশি জরুরি। কারণ আমরা যতই ভাবি না কেন—কারও মনের ভেতরটা আসলে আন্দাজ করে বোঝা যায় না।
বিশেষ করে স্বামীর ব্যাপারে। আমরা অনেক সময় ধরে নিই, সে কী ভাবছে, কী বলতে যাচ্ছে, কী করলে সে বিরক্ত হবে—সব যেন আগে থেকেই জানা। অথচ বাস্তবতা প্রায়ই আমাদের কল্পনার মতো হয় না। তাই অনুমান না করে তাকে নিজের কথা বলার জায়গা দেওয়া দরকার। তার কথা না শোনা পর্যন্ত তার মনের অবস্থাটা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় নেই।
একটা ছোট্ট অভ্যাস কাজে আসতে পারে। ধরুন, আপনি কোথাও যেতে চান—সিনেমা দেখতে বা বাইরে খেতে। তাকে বলার আগে মনে মনে ঠিক করে নিন, আপনি ভাবছেন সে কী বলবে। চাইলে লিখেও রাখতে পারেন। তারপর তাকে প্রস্তাবটা দিন। দেখবেন, বেশির ভাগ সময় তার উত্তর আপনার ধারণার সঙ্গে মিলবে না।
একদিন এক বান্ধবী বলছিল, সে নিশ্চিত তার স্বামী তার ওপর খুব রেগে আছে। কারণ ঘরে ঢুকেই সে নাকি কেমন চোখ করে তাকিয়েছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কি রাগের কথা বলেছে? বান্ধবীর উত্তর—“বলতে হবে কেন? আমি তো ওকে চিনি।” তার বিশ্বাস ছিল, স্বামী মনে মনে ভাবছে সে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বেশি খরচ করছে।
এই “আমি জানি সে কী ভাবছে” ভাবনাটা আমার কাছেও খুব পরিচিত। স্বামীর আচরণ, কথা বলার ভঙ্গি, চুপচাপ থাকা বা অনীহা—এসব দেখে আমি নিজেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতাম। মনে করতাম, নিশ্চয়ই আমার কোনো কাজ বা কথার কারণে সে বিরক্ত। কিছুদিন কোনো কাজ না করলে ভাবতাম সে দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমার পছন্দ নয় এমন কিছু করলে ধরে নিতাম, সে ইচ্ছে করেই করছে।
পরে বুঝেছি—এই সব ভাবনার পেছনে আসলে কাজ করছিল আমার নিজের ভয়। ভয় এই যে, আমি হয়তো তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছি না। দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছি না। আর সেই ভয় থেকেই মনে হতো—সে বুঝি নীরবে আমাকে দোষ দিচ্ছে বা শাস্তি দিচ্ছে।
আসলে আমি যতটা নিজেকে মানুষ বোঝার ক্ষমতাসম্পন্ন ভাবতাম, বাস্তবে ততটা ছিলাম না। যখন অনুমান বাদ দিয়ে ধীরে ধীরে তার কথা মন দিয়ে শুনতে শুরু করলাম, তখন বারবার অবাক হতে হয়েছে। কারণ, সত্যিটা প্রায় কখনোই আমার কল্পনার মতো ছিল না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :এই লেখাটি কোনো ব্যক্তিগত দাম্পত্য অভিজ্ঞতা নয়; বরং মানুষের সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটি উপলব্ধি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।